তুমুল বৃষ্টির মধ্যে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে ৫ লাখ মুসল্লি


সাহেব-বাজার ডেস্ক: ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাঁহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন প্রায় পাঁচ লাখ মুসল্লি।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে নয়টার মধ্যেই লাখো মুসল্লি চলে আসেন শোলাকিয়ায়। সোয়া ৯টার দিকে নামে তুমুল বৃষ্টি।

একপর্যায়ে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে মুসল্লিরা পলিথিন মাথায় নিয়ে দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে।

১৯৫তম জামাতের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ অসুস্থ থাকায় তার বদলে পূর্ব নির্ধারিত দ্বিতীয় ইমাম বড় বাজার শাহারউদ্দিন মসজিদের ইমাম বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা শোয়াইব ইমামতি করেন।

নামাজ শুরু আগে বয়ানে তিনি বলেন, বৃষ্টি সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমা।

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অন্যান্য জেলার মুসল্লিরা যেন অংশ নিতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল এক্সপ্রেস ট্রেন‘ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা নেন। ট্রেন দুইটি ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে সকালে ছেড়ে আসে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আসা মুসল্লি মো. রহমত আলী (৫২) বলেন, দুই বছর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি, তাই আসতে পারেনি। এবার বৈরী আবহাওয়ায় রহমতের প্রচণ্ড বৃষ্টি আর কাঁদামাটিতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে শান্তি পেলাম। বড় জামাতের মোনাজাতে শরীক হতে পেরে পাপমোচন হবে। ’

সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে আসা মো. জমিয়ত আলী (৫০) বলেন,একাধিকবার নিয়ত করেছি শোলাকিয়ায় নামাজ পড়ব, আসা হয়নি। আল্লাহতালা আশা পূরণ করেছেন। বিশেষ ফরিয়াদে এখান এসেছি। নিশ্চয় আল্লাহ কবুল করবেন।

শোলাকিয়া ময়দানের নিরাপত্তায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ, ডিবি সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।

রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর ১৫ মিনিট আগে পরপর তিনবার শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে মুসল্লিদের নামাজে দাঁড়ানোর সংকেত দেয়া হয়।

নামাজের আগে বয়ানে মাওলানা শোয়াইব স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ মোনাজাতের পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া করা হয়।

এসবি/জেআর