ডলারের দাম আরও চড়া


সাহেব-বাজার ডেস্ক : আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। ডলারের এই চাপ কমাতে নিয়মিতভাবে আন্তঃব্যাংক দর বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত দু’দিনে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ১৫ পয়সা বাড়িয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বেড়েছে ৫ পয়সা, সোমবার বাড়ানো হয় ১০ পয়সা। এ নিয়ে কেবল জুন মাসের প্রথম ২১ দিনে ডলারের আন্তঃব্যাংক দর বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক ডলারের দর বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৫ টাকা হয়। আগের দিন এই দর ছিল ৯২ দশমিক ৯০ টাকা। গত রবিবার ডলারের আন্তঃব্যাংক দর ছিল ৯২ দশমিক ৮০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার ও সোমবার কোনো ডলার বিক্রি করতে হয়নি। মঙ্গলবার ১৪ কোটি ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো। দর ছিল ৯২ দশমিক ৯৫ টাকা।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত আন্তঃব্যাংক ডলারের দরের ওপর নির্ভর করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ভোক্তাপর্যায়ে ডলারের দর নির্ধারণ করে থাকে। গতকাল আমদানি পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে ৯৩ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে ব্যাংকগুলো। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৯৬ টাকায়।

এদিকে ব্যাংকের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ কোটি ডলারের বেশি জোগান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমে ৪ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর থেকে আমদানি বাড়তে থাকা এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণে রিজার্ভ কমতে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি জুন মাসের প্রথম ১৬ দিনে ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ নিয়ে অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। অথচ গত ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়েই ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থবছরের পুরো সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের নেতিবাচক ধারা রোধ করতে গত জানুয়ারি মাসে এ খাতে নগদ প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে সরকার। তাছাড়া বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রেরণকারীকে কোনো নথিপত্রও দেখাতে হচ্ছে না। এরপরও রেমিট্যান্স ঘুরে না দাঁড়ানোয় দেশে ডলারের চাপ তৈরি হয়েছে। রেমিট্যান্স বাড়াতে গত ২৯ মে সব ব্যাংকের জন্য ডলারের দর ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এতে রেমিট্যান্স আরও কমে যাওয়ায় গত ২ জুন ডলারের দর নির্ধারণের ভার আবারও ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ওইদিন আন্তঃব্যাংক দর বাড়িয়ে ৮৯ দশমিক ৯০ টাকা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপর গত ৫ জুন ডলারের দর ৯১ দশমিক ৫০ টাকা হয়। ৬ জুন ওই দর দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৯৫ টাকায়। ৭ জুন ডলারের দর ৯২ টাকায় দাঁড়ায়। এরপর ৮ জুন ডলারের দর ৫০ পয়সা কমলেও পরের দিন ৯ জুন আবার ৯২ টাকা হয়। ১৩ জুন আরও ৫০ পয়সা বাড়ে ডলারের দর। ১৪ জুন আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গিয়ে ঠেকে ৯২ দশমিক ৮০ টাকায়। গত দুই দিনে আরও ১৫ পয়সা বেড়ে ডলারের দর দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৯৫ টাকা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় দেশে ডলারের এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা বলছিলেন, খোলা বাজারের সঙ্গে ব্যাংকের ডলারের দরের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে ব্যাংকের ডলারের দর বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা। এতে রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করা হয়।

এরপর থেকে ক্রমাগত ডলারের দর বাড়িয়ে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ টাকা। আর গত দেড় মাসে ডলারের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৫০ টাকা। ৫ মে ডলারের আন্তঃব্যাংক দর ছিল ৮৬ দশমিক ৪৫ টাকা।

 

এসবি/এমই