টাইপিং দক্ষতা দিয়েই ৯টি গিনেস রেকর্ড


সাহেব-বাজার ডেস্ক : নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ কত কিছুই না করে। এই যেমন ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কম্পিউটার অপারেটর নিজের মেধা দিয়ে সারা ফেলেছেন পুরো দুনিয়ায়। বিভিন্ন উপায়ে দ্রুত টাইপিং দক্ষতার জন্য গিনেস বুকে ৯টি রেকর্ড গড়লেন বিনোদ কুমার চৌধুরী। এমন কৃতিত্বে ভারতজুড়ে বইছে তার বন্দনা। গিনেস বুকে সাবেক তারকা ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের ১৯টি রেকর্ড ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই প্রতিভাবান।

জেএনইউ’র পরিবেশ বিজ্ঞানে কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ৪১ বছর বয়সী বিনোদ কুমার চৌধুরী। একের পর এক রেকর্ড গড়তেই বোধহয় ভালোবাসেন তিনি। সবশেষ লকডাউন চলাকালীন রেকর্ডটি গড়েছেন।

বিভিন্ন উপায়ে দ্রুত টাইপিং করে ইতোমধ্যে গিনেস বুকে নয়টি রেকর্ডের মালিক বনে গেছেন বিনোদ। কখনও এক আঙুল আবার কখনও নাক দিয়ে কী বোর্ডে গতির ঝড় তুলেছেন। এই কাজগুলো নির্ভুলভাবেই করে থাকেন। নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন বেশ কয়েকবার।

বিনোদ জানিয়েছেন, ‘ছেলেবেলা থেকেই গতি নিয়ে আলাদা ঝোঁক ছিল। কিন্তু শারীরিক সমস্যা থাকার কারণে অন্যদিকে যাওয়ার উপায় ছিল না। পরে কম্পিউটার নিয়েই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করি’।

২০১৪ সালে হাতের কোন সাহায্য ছাড়া শুধু নাক দিয়ে ১০৩টি ক্যারেক্টার টাইপ করেন। এতে সময় লাগে ৪৬ দশমিক ৩০ সেকেন্ড। যা গিনেস বুকে এখনও অক্ষত বলে জানান তিনি।

নিজেকে আরও মেলে ধরতে থেমে যাননি। ২০১৬ সালে চোখ বেঁধে ইংরেজির সব বর্ণ ৬ দশমিক ৭১ সেকেন্ডে টাইপ করে তাক লাগিয়ে দেন। পরের বছর হাত না ব্যবহার করে মুখে লাঠি ভরে তা দিয়েই সমস্ত বর্ণ টাইপ করেন তিনি। এতে সময় নেন ১৮ দশমিক ৬৩ সেকেন্ড। এভাবেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার খেলায় মাতেন বিনোদ।

সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী বিনোদ তার ২০১৭ সালের একটি রেকর্ডের প্রসঙ্গে বলেন, একটি কাঠির মাধ্যমে ১৮ দশমিক ৬৫ সেকেন্ডে সব বর্ণমালা টাইপ করে রেকর্ড গড়েন। ২০১৯ সালে এক আঙুল দিয়ে ২৯ দশমিক ৫৩ সেকেন্ডে ইংরেজি বর্ণমালা টাইপ করে নতুন রেকর্ডের খাতায় নাম লেখান।

সামনে আরও রেকর্ড গড়তে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গিনেস বুকে ১৯টি তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করতে চাই। এই রেকর্ডের মালিক ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেট খেলোয়াড় শচীন টেন্ডুলকারের রয়েছে। এজন্য সামনে নতুন আইডিয়া বের করে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে’।

নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, বাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি কম্পিউটার সেন্টার খুলতে চাই। সেখানে দরিদ্র ছেলেমেয়েরা বিনা খরচে প্রশিক্ষণ পাবে’।

এসবি/এআইআর