জিয়া ২৫ ও ২৬ মার্চ মানুষ হত্যা করেছে: প্রধানমন্ত্রী

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে চট্টগ্রামে গুলি করে অনেক মানুষকে হত্যা করেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ চট্টগ্রামে যারা ব্যারিকেড দিচ্ছিল তাদের অনেককে জিয়াউর রহমান গুলি করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, জিয়া ২৫ ও ২৬ মার্চ দুদিনই হত্যাকাণ্ড চালায়।’

সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

জিয়াউর রহমান ও তার দলের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে যে জিয়া, তার দলের নেতারা ৭ মার্চের ভাষণের মর্ম বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। ধরে নিতে হবে তারা তাদের পুরনো প্রভুদের ভোলেনি। তাদের পালিত দল হিসেবে তারা এখনো আছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একাত্তরের মার্চে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘চট্টগ্রামের হান্নান সাহেবরা ঘোষণা দিয়েছিলেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী সাহেব বলেছিলেন, আমরা তো ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছি। সেনাবাহিনীর একজনকে এনে ঘোষণা দিলে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব থাকবে। ওই সময় মেজর রফিক সাহেব অ্যাম্বুশ (আক্রমণ) করে বসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখান থেকে সরলে পাকিস্তানিরা জায়গাটা দখল করে নেবে। যার কারণে জিয়াউর রহমানকে ধরে নিয়ে এসে ঘোষণা পাঠ করতে বলা হয়। সেই থেকে তাকে ঘোষক বলে প্রচার চালায়। কিন্তু তিনি (জিয়াউর রহমান) যে ২৫ ও ২৬ মার্চ মানুষ হত্যা করেছেন, সে কথা ভুলে যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) তো আগাগোড়া পাকিস্তানের দালালি করে আসছেন। তার জন্মও সেখানে। লেখাপড়াও ওখানে। তিনি কবে বাংলাদেশের হলেন? চাকরি সূত্রে বাংলাদেশে এসেছে। সে সূত্রে বিবাহ করে পরবর্তীতে থেকে যায়। এটাই তো বাস্তবতা। তারপরও যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তাদের সম্মান দেয়া হয়েছে। কিন্তু এদের চরিত্র তো বদলায়নি। ঠিকই বেঈমানি-মুনাফেকি করেছেন। একটা মেজর ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে প্রমোশন দিয়ে মেজর জেনারেল করেছেন। সেই এই হত্যাকাণ্ডের (১৫ আগস্ট) মূলহোতা ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

বিএনপির সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা ১৫ আগস্টের হত্যার সঙ্গে জড়িত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, এ দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তাদের তৈরি করা রাজনৈতিক দল থেকে বাংলাদেশের মানুষ কী আশা করবে?’

৭ মার্চের ভাষণেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জানিয়েছে তার কন্যা বলেন, ‘যারা এ ভাষণটাকে (৭ মার্চের ভাষণ) ছোট করতে চায়, বিএনপির কয়েকজন নেতা, সাবেক ছাত্রলীগও আছে। তারা নাকি এ ভাষণে স্বাধীনতার কোনো ঘোষণাও পাননি। এরা পাবেন না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও পায়নি। এরা পাকিস্তানি হানাদারদের পদলেহনকারী, খোশামোদি, তোষামোদকারী।’

শেখ হাসিনা তার ভাষণে তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘টানা তিনবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।’ এই মর্যাদা ধরে রেখে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

করোনার টিকা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পয়সা দিয়ে টিকা কিনে বিনা পয়সায় দিচ্ছি। আর সেই বিনা পয়সার টিকা তো বিএনপি নেতারা সবাই নিয়েছে। কিন্তু, তার আগে তাদের কথাগুলি কী ছিল? তো ওরা ওভাবে বলবে, কাজেই এটা নিয়ে আমার মনে হয়, আলোচনা করে আমাদের সময় নষ্ট না করে আমি এইটুকুই বলব- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি একজন দক্ষ রণকৌশলী ছিলেন। যিনি এদেশের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে বাঙালিকে বিজয়ী জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে করে দিয়ে গেছেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি আমার নেতাকর্মীদের বলব, ওরা কী বলল, এটা নিয়ে আমাদের কথা বলার দরকার নাই বা ওটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করারও কিছু নেই। আমরা জনগণের পাশে আছি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি।’

আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মেরিনা জাহান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক সম্পাদিত এবং ইয়াসিন কবির জয় প্রকাশিত ‘মুক্তির ডাক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এসবি/এআইআর


  • 1
    Share