জাতির আস্থা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতু


সাহেব-বাজার ডেস্ক : দেশের বানভাসি মানুষের কষ্টের কথা মনে রেখেও বলব, আজ আমাদের বিশেষভাবে পালনের দিন। আনন্দেরও দিন, উদযাপনেরও দিন। আজ জাতির জীবনে এক বিশেষ অর্জনের শুভদিন। দেশের সর্ববৃহৎ স্রােতস্বিনী পদ্মা নদীর বুকের ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম সেতুর উদ্বোধন হবে আজ।

বাংলাদেশের নিজের অর্থায়নে এবং আমাদের দেশের প্রকৌশলবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এবং শ্রমজীবীদের অংশগ্রহণে এই ৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হয়েছে। এখন সড়ক সেতুর উদ্বোধন হলেও আগামীতে উদ্বোধন হবে এর রেল সেতু। এটি একটি দ্বিতল সেতু- যা এ অঞ্চলে স্থাপনায় অনন্য।

দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আজ যেন জাতি গন্তব্যে পৌঁছেছে। কেবল তো পথ পাড়ি দেওয়া নয়, নানা প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেই আমাদের এগোতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংক যখন কাজের শুরুর দিকেই দুর্নীতির ধুয়া তুলে এ প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল তখন এটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু একজন মানুষ এত সহজে হার মানতে রাজি ছিলেন না। তিনি আর কেউ নন, জাতির পিতার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এক মাসের মধ্যে তিনি ঘোষণা দিলেন দেশীয় অর্থায়নে এই সেতু নির্মিত হবে। তাকে হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এখানে দৃঢ়চেতা সাহসী দূরদর্শী নেতৃত্বের কথাই বিশেষভাবে বলতে হবে। তার সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিবসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংক ও তাদের সহযোগীরা অভিযোগ তুললেও প্রধানমন্ত্রী তাদের তদন্তের সুযোগ দিয়েও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।

আজ প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের কেউই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না, কোথাও কোনো অনিয়মও হয়নি। পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে এ সংক্রান্ত সব তথ্য ও ব্যয় স্বচ্ছতার সঙ্গে খোলামেলাভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে। এটিও এ সরকারের একটি বিশেষ অর্জন বলতে হবে।

পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এটি আত্মবিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। এখন বাংলাদেশ নিজের অর্থ, দক্ষ লোকবল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ ও সংস্থার সাহায্য নিয়ে এ রকম বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। আমাদের পরনির্ভরশীলতা আরও কাটছে। এই সেতু রাজধানীসহ দেশের বাকি অংশের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১টি জেলার সংযোগ ঘটাবে। এতে পণ্য পরিবহন হবে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন। তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজেই বাড়বে। আবার দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের প্রক্রিয়াও বেগবান হবে। এতে সেখানে কর্মসংস্থান বাড়বে, তাতে রাজধানীর ওপর মানুষের চাপ অনেকটা কমবে। আমরা মনে করি পদ্মা সেতুকে ভিত্তি করে সরকার এর অর্থনৈতিক ভূমিকা কাজে লাগানোর জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় নীতি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করবে।

আশা করি বন্যাপীড়িত অঞ্চলের মানুষের পাশে সরকার ও জনগণের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে ও দ্রুত এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। একইভাবে করোনার চতুর্থ ঢেউ সামলাতেও আমরা নিশ্চয় সফল হব। আর তাতে পদ্মা সেতুর সাফল্য ও সুফল ভোগে পুরো জাতি একযোগে আনন্দে মেতে উঠতে সক্ষম হবে।

 

এসবি/এমই