ছায়াপথে সুবিশাল জ্যোতির্বলয়

  • 2
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক : এই প্রথম কোনো ছায়াপথ ঘিরে এত বিশাল জ্যোতির্বলয়ের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ ঘিরে থাকা এ বলয়ের বিস্তারিত মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জ্যোতির্বলয়টি আকারে অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের ১৫ থেকে ২০ গুণ বড়। এর দুটি স্তর- একটি ভেতরের এবং অন্যটি বাইরের। যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোলাস লেনার জানান, পাঁচ বছর আগে প্রথম এর হদিস মিলেছিল। তবে সে সময় কেবল অ্যান্ড্রোমিডার জ্যোতির্বলয়ের ভেতরের অংশটির দেখা মেলে, যা এর কেন্দ্রস্থল থেকে মহাকাশে ৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। গবেষণায় এবার এই জ্যোতির্বলয়ের বাইরের অংশটিরও দেখা মিলেছে, যা আরও ২০ লাখ আলোকবর্ষ দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। ছায়াপথের জ্যোতির্বলয় আলো বিকিরণ করে না। তাই এগুলো চট করে দেখা সম্ভব হয় না।

৪৪টি কোয়াসার পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, অ্যান্ড্রোমিডার জ্যোতির্বলয়ের কারণে এগুলোর আলো কমে যাচ্ছে। আলোর তীব্রতার এই কমা-বাড়া পরিমাপ করেই অবশেষে এর ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরিতে সফল হন তারা। বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান এর বিশালত্ব দেখে। বিস্ময়ের আরেকটি কারণ, তারা এই প্রথম কোনো দ্বি-স্তরবিশিষ্ট জ্যোতির্বলয়ের সন্ধান পেলেন।

এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানান, প্রতিটি ছায়াপথেরই এমন জ্যোতির্বলয় থাকে। এগুলো দুই স্তরবিশিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, যে কোনো ছায়াপথেই প্রতি মুহূর্তে লাখ লাখ তারার বিস্ম্ফোরণ ঘটছে। তখন এগুলোর অভ্যন্তরে থাকা লোহা, কোবাল্ট, নিকেলসহ ভারী ধাতু ছিটকে বেরিয়ে আসে এবং প্রচ তাপে গ্যাসে পরিণত হয়। এই গ্যাসই তৈরি করে জ্যোতির্বলয়ের ভেতরের অংশটি। আর জ্যোতির্বলয়ের বাইরের অংশ তৈরি হয় কোনো ছায়াপথের জন্মের সময়। যে গ্যাসীয় পদার্থ দিয়ে ছায়াপথটি তৈরি হয়, এর মেঘই আসলে জ্যোতির্বলয়ের বাইরের অংশ। আমাদের ছায়াপথটির নাম আকাশ-গঙ্গা। আর আমাদের সবচেয়ে কাছে আছে অ্যান্ড্রোমিডা। আকারে এটি অনেক বড়। সূত্র: নাসা ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

এসবি/এআইআর


  • 2
    Shares