চোখের জলে প্রিয় প্রাণিটির বিদায়


নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার সকাল ১০টা। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাড়িতে লালন করা তার প্রিয় গরুটিকে নিয়ে রাজশাহীর সিটি হাটে এসেছেন তানোর উপজেলার দুইবল গ্রাম থেকে আতিকুর রহমান। উদ্দেশ্যে এই গরুটি বিক্রি করে ঈদের পর আরেকটি গরু কিনবেন তিনি। প্রথমে তার গরুর দাম চাওয়া হয় ৭৫ হাজার টাকা। পরে দামাদামির এক পর্যায়ে ৬৮ হাজার টাকায় দিতে সম্মত হন তিনি। টাকা বুঝে পাওয়ার পর ছেড়ে গরুর দড়ি। তার চোখ ছলছল করে উঠে। চোখের কোনে দেখা যায় জল। বিদায় দেন তার প্রিয় প্রাণিটিকে।

কথা হয় আতিকুর রহমানের সাথে। তিনি রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থপনা বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী। বয়স কেবল ২৩ বছর। করোনা শুরুর আগে রাজশাহীতে টিউশনি করে কিছু টাকা জমায়। সেই টাকা দিয়ে গতবছর ছোট একটা গরু কিনেন তিনি। তারপর প্রায় দেড় বছর তাকে লালনপালন করে হাটে নিয়ে এসেছেন তিনি।

আতিকুর রহমান বলেন, নিজের সন্তানের মতো গরুটিকে লালনপালন করেছি। তাকে সবসময় নিজের সঙ্গীর মতো করে নিয়ে চলাফেরা করতাম। নিজে তাকে খাওয়াতাম। আবার গোসলও করাতাম। প্রিয় মানুষকে হারানোর যে ব্যথা সে ব্যথা লাগছে এখন। হয়তো আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পেরেছি কিন্তু মানসিক শান্তি পাচ্ছি না। আপন প্রিয়জন হারিয়ে ফেললাম।

উত্তরবঙ্গের সর্ব বৃহৎ হাট রাজশাহীর সিটিহাট। রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠে এই হাট অবস্থিত। নিজের পোষা প্রাণীটিকে বিক্রি করে দেয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। যদিও হাটে এ রকম কৃষকের তুলনায় ব্যাপারীদের সংখ্যা বেশি। তাঁরা গ্রামগঞ্জ থেকে গরু কিনে নিয়ে এসে এই হাটে বিক্রি করছেন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে ছয়টি গরু নিয়ে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তার নিজস্ব খামারে পোষা এই গরুগুলো। এর মধ্যে চারটি বিক্রি করেছেন। রয়েছে আরও দুটি গরু। এর মধ্যে একটির দাম চেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার। আরেকটির এক লাখ ২০ হাজার। এই শেষ সময়েও এসে সবাই দাম জিজ্ঞেস করলেও কেউ নিচ্ছেন না।

রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুইবছর থেকে আমার নিজস্ব খামারে গরুগুলো পালন করেছি। কিন্তু দাম শোনার পর অনেকে চলে যাচ্ছেন। মন মতো দাম না পেলে এই দুটো গরু আবার খামারে নিয়ে চলে যাবো তবুও কম দামে বিক্রি করবো না।

রাজশাহী সিটিহাট সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বুধবার সিটিহাটে পশু কেনাবেচা হয়। এছাড়াও জেলায় রয়েছে আরও ১২টি হাট রয়েছে। কোরবানী ঈদের কারণে এখন প্রতিদিন বসছে হাটগুলো। মঙ্গলবার সকালে সিটিহাটে দিকে হাটে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা জমে উঠেনি। কিন্তু হাট ভর্তি কোরবানির গরু ছিলো। লক্ষ্য করা গেছে এই হাটে উঠেছিলো ছাগল তাও অল্প সংখ্যক।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত এই হাটের ইজারাদারদের একজন আতিকুর রহমান কালু বলেন, কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসলেও হাটের পরিস্থিতি করোনার কারণে খুব একটা ভাল নয়। গত বুধবার হাট একটু জমেছিল। তারপর রোববার হাট জমেছিল দুপুরের পর। এখন বিকালের দিকেই হাট জমছে। তবে শেষদিন সারাদিন বেচাকেনা হবে বলে মনে করছেন তিনি।

 

এসবি/এমই