ঘন কুয়াশায় সবজি চাষিদের মাথায় হাত

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বগুড়ায় প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকের শিম, লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, আলু, শাকসবজিসহ বিভিন্ন রবি ফসল। ফসল রক্ষায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কোনো কাজে আসছে না। দুশ্চিন্তা আর হতাশায় দিন কাটছে জেলার কৃষকদের। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, বৈরি আবহাওয়ায় রবি ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী জানুয়ারি মাসের শুরুতেই টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে দেশ।

এবার বগুড়া জেলার ১২ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ রবি ফসল চাষ করেছেন কৃষকরা। বিগত সময়ে টানা বন্যায় সবজির বাজার ছিল চড়া। এ কারণে এবার সবজি চাষ করা হয় বেশি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশায় কৃষকের স্বপ্নের ফসল নষ্ট হতে শুরু করে। নষ্ট ফসল ও পাতা পচা রোগ থেকে বাঁচাতে কয়েক দফা কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রতিকার।

কথা হয় বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকার কামারপাড়া গ্রামের সবজি চাষি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তার পাঁচ বিঘা জমিতে বিশাল শিমখেত। জানালেন ঘন কুয়াশা ও শীতে শিম গাছের পাতা লাল হয়ে পচে যাচ্ছে। কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। গাছ বাঁচানো না গেলে তার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হবে।

একই রকমের কথা বলেছেন ওই গ্রামের পটল চাষি আমিনুল, বেগুন চাষি মোতাহার, করলা চাষি সাদেকুল ও পাতা পেঁয়াজ চাষি রহমান। তাদের জমির ফসলেরও একই অবস্থা হয়েছে শীত আর ঘন কুয়াশায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, বগুড়ায় চলতি রবি মৌসুমে ১২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে সবজির ভালো দাম পেয়ে এবারও আশার আলো নিয়ে শত শত বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে কৃষক। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় আলু গাছের পাতা কুঁচকে যাওয়াসহ দেখা দিয়েছে পচনজনিত রোগ। কোনো প্রতিকার মিলছে না।

বগুড়ার ১২টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলা, গাবতলী, শাজাহানপুর, শেরপুর ও শিবগঞ্জ এলাকা সবজি চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এসব উপজেলায় বছরজুড়েই রকমারি সবজি চাষ করেন চাষিরা। এরমধ্যে শাজাহানপুর ও শেরপুর উপজেলায় সবজি চাষের পাশাপাশি উৎপাদন করা হয় সবজির চারা। নির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও কমবেশি সবজি চাষ হয়ে থাকে।

সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের কালিবালা গ্রামের কৃষকরা জানান, শীতকালীন সবজি আবাদে ফলন ভালো হয় এবং কৃষক লাভের মুখ দেখেন। তবে আবহাওয়ার একটু হেরফের হলে সবজির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাড়তি বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশা হলে ফসলের ক্ষতি হয়। এবার সেই ঝুঁকিতেই পড়েছেন তারা।

গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার কৃষকরা জানান, রবি বা শীত মৌসুমের সবজি তিনভাগে চাষ করেন তারা। অনেকেই শীতের প্রথম ভাগে সবজি বাজারে তুলতে মাঠে নামেন। কারণ এই সময়ে সবজির ভালো দাম পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ভাগে শীতের মাঝামাঝিতে সবজি হাটে-বাজারে তোলার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেন বেশকিছু কৃষক। আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে এ সময়টাতে সবজির ভালো দাম মেলে। তবে শেষভাগে উৎপাদিত সবজির ভালো দাম পাওয়া নিয়ে অনেকটা ঝুঁকি থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তারা চাইলেও সব খেতে যেতে পারবেন না। কৃষকদের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। এই নম্বরে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া আমরা কৃষকদের মাঝে পরামর্শপত্রও বিতরণ করছি।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে বগুড়ায়। আর পুরো মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে রকমারি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসবি/জেআর


  • 1
    Share