গ্রামের চেয়ে শহরে টিকা নেওয়ার হার ছয়গুণ বেশি

  • 2
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর নয় উপজেলার মাত্র ১৩ ভাগ মানুষ করোনার এক ডোজ হলেও টিকা নিয়েছেন। শহরে এই হার ৬৯ শতাংশ। গ্রামের চেয়ে শহরের টিকা নেওয়ার হার ছয়গুণেরও বেশি। স্বাস্থ্যবিভাগ এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকা গ্রহণের এই চিত্র পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, প্রথমদিকে গ্রামের মানুষের টিকা নেওয়ার প্রবণতা কম ছিল। তাই পিছিয়ে পড়েছে। শহরে টিকা নেওয়ার আগ্রহ অনেক বেশি।

জেলা পরিসংখ্যান অফিস বলছে, সবশেষ ২০২০ সালের মার্চ মাসের এক হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহী জেলা ও মহানগরে মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখ ২৩ হাজার ২১৬ জন। এরমধ্যে রাজশাহী মহানগরের বাসিন্দা ৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৭ জন। বাকি ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৯ জন ৯ উপজেলার গ্রামের মানুষ। মোট জনসংখ্যার ৭৫ ভাগের বয়স ১৮ এর উপরে বলে ধরছে স্বাস্থ্যবিভাগ। তাঁদেরই টিকা পাওয়ার যোগ্য ধরা হচ্ছে।

সে অনুযায়ী, শহরে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১৭ জন এবং গ্রামে ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৪ জন টিকা পাওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ৯ উপজেলায় অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ১৪ জন। আর শহরে অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১৫ জন। এ হিসাবে শহরের ৬৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর গ্রামে এই হার ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শহরের ৯৩ হাজার ৪১৬ জন মানুষ করোনার দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছেন। অর্থাৎ শহরের ১৮ বছরের উর্দ্ধের মোট জনসংখ্যার ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ মানুষ করোনার দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছেন। আর প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ৯ উপজেলার গ্রামে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৯৩ জন। অর্থাৎ প্রথম ডোজ নেওয়ার পর গ্রামের ২৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছেন। আর ১৮ বছরের উর্দ্ধে টিকার যোগ্য বিবেচিত মানুষের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৪৪ জন দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করেছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘টিকা কার্যক্রমের একেবারে শুরুতে শহরেও টিকা নিতে মানুষের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিলো। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন দেখা গেল, টিকা গ্রহণকারীদের কোন সমস্যা হয়নি তখন টিকার প্রতি মানুষের প্রচুর আগ্রহ বেড়ে গেল। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তাই শহরে টিকা গ্রহণের হার বেশি।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘গ্রামের খেটেখাওয়া মানুষ এখনও টিকার ব্যাপারে উদাসীন। টিকার জন্য অনলাইনে নাম নিবন্ধন করতে না পারাটাও তাঁদের পিছিয়ে থাকার কারণ। তারপরও সচেতন মানুষেরা টিকা নিয়েছেন। আমাদের টিকার কোন ঘাটতি নেই। সব মানুষকেই টিকার আওতায় আনা হবে। একটু সময় লাগলেও কেউ টিকা গ্রহণ থেকে বাদ থাকবেন না।’

এসবি/আরআর/জেআর


  • 2
    Shares