গুদামে ধান দেননি চাষিরা চাল দিয়েছেন মিলাররা

  • 3
    Shares


নিজস্ব প্রতিবেদক : অভ্যন্তরীণ বোরো (সিদ্ধ চাল, আতপ চাল ও ধান) সংগ্রহ অভিযানে এবার খাদ্যগুদামে তেমন ধান দেননি রাজশাহীর চাষিরা। তবে মিলাররা ঠিকই চাল সরবরাহ করেছেন। চাষিদের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও যেতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। তবে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও ধান, সিদ্ধ চাল ও আতপ চাল সংগ্রহের কোনটিরই লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়নি। তবে গম সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যামাত্রার চেয়ে বেশি।

রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়। আর চাল সংগ্রহ শুরু হয় ৭ মে থেকে। গমও সংগ্রহ শুরু হয়েছিল এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে। সবকিছুরই সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে গত ৩১ আগস্ট। ধান ২৭ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ২৮ টাকা কেজি দরে কেনা হয়েছে।

রাজশাহীতে বেরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৩৯৯ মেট্রিক টন। এরমধ্যে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭০৯ মেট্রিক টন। রাজশাহী মহানগরী, পবা ও চারঘাটের একজন চাষিও ধান দেননি। চাষিরা দাম ভাল পাওয়ায় বাজারেই ধান বেচে দিয়েছেন। সেই ধান থেকে চাল উৎপাদন করে গুদামে সরবরাহ করেছেন মিলাররা।

রাজশাহীতে এবার সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন। চুক্তিবদ্ধ ১৮১ জন মিলার চাল সরবরাহ করেছেন। চুক্তি করেও কয়েকজন চাল সরবরাহ করেননি। আর আতপ চাল সরবরাহে খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তি করেছিলেন তিনজন মিলার। তাদের মধ্যে দুজন সরবরাহ করেছেন ১৫৪ মেট্রিক টন। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯৮ মেট্রিক টন। রাজশাহী মহানগর ও ৯ উপজেলার মধ্যে শুধু গোদাগাড়ী ও চারঘাট থেকে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে। বাঘা উপজেলা থেকে কোন সিদ্ধ চালও সংগ্রহ হয়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছিল ৬৬ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি চালের উৎপাদন ৪ দশি মক ৩৫ মেট্রিক টন। এবার পর্যাপ্ত ধান উৎপাদন হলেও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ খাদ্য বিভাগ।

এর কারণ জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনির্বাণ ভদ্র বলেন, ‘ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাদের মান নিশ্চিত করতে হয়। অনেক সময় প্যারামিটারে না হবার কারণে কৃষক ধান আনলেও আমরা নিতে পারিনি। তাছাড়া এবার বাজারেও ধানের দাম বেশি ছিল। চাষিরা বাজারেই বিক্রি করেছেন। ফলে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। গমও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা একটা ভাল দিক।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, এবার করোনা, লকডাউনের ভয়ে গ্রামের মানুষ তাঁর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাখতে চেয়েছে। তাই বেশি দাম দিয়ে হলেও সবাই ধান কিনে বাড়িতে মজুত রেখেছেন। ফলে বাজারে ধানের দাম ভাল ছিল। চাষিরা সেখানেই বিক্রি করেছেন। দু’এক টাকা বেশি পাবার জন্য কষ্ট করে চাষিরা গুদামে ধান নিয়ে যাননি। তবে এবার চাষিরা স্বতস্ফূর্তভাবেই গম সরবরাহ করেছেন।

 

এসবি/আরআর/এমই


  • 3
    Shares