গার্মেন্টস মালিকরা কথা রাখেননি

  • 4
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক : শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও জুলাইয়ের আগাম বেতন নিয়ে গত ২০ জুলাই পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক। দুদিন আগে প্রতিশ্রুতির সময়সীমা পার হলেও বিজিএমইএর হিসাবেই বুধবার পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ২২৯টি কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি, যা শিল্প পুলিশের হিসাবে ৮৮৩টি। শিল্প পুলিশ বলছে, পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৪৪২টি কারখানার ঈদ বোনাস এখনো বকেয়া।

সরকারের বিশেষ ঋণ সহায়তায় গত চার মাস ধরে বেতন দেওয়ার পরও কারখানাগুলো কেন সময়মতো বোনাস পরিশোধ করেনি এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের কাছে। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।

বিজিএমইএর মুখপাত্র খান মনিরুল আলম শুভ বলেন, ‘কারখানাগুলো নানা সমস্যায় বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি। তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি ঈদের ছুটির আগেই (আজ বৃহস্পতিবার) বোনাস  পরিশোধ করা সম্ভব হবে।’ জুলাইয়ের আগাম বেতন প্রদানের কার্যক্রমও চলমান আছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের তথ্যে দেখা যায়, রাজধানীর বাইরে দেশের ছয়টি শিল্প জোনে মোট ৭ হাজার ৬০১টি শিল্প কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ৯৮৩টি। এখনো পরিশোধ করেনি ৩ হাজার ৬১৯টি। অপরিশোধকৃত কারখানাগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৮৮৩টি, বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত ৩৮৪টি, বিটিএমএ (টেক্সটাইল) সদস্যভুক্ত ১৭৫টি, বেপজায় ৭২টি ও অন্যান্য ২ হাজার ১০৫টি কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি।

অন্যদিকে বিজিএমইএ দাবি করেছে, তাদের সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৮৯৮টি কারখানা বর্তমানে চালু আছে। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ঈদ বোনাস দিয়েছে ১ হাজার ৬৬৯টি ও বকেয়া আছে ২২৯টি কারখানার। বকেয়া থাকা এই ১২ শতাংশ কারখানার বোনাস প্রদানের কার্যক্রম চলমান আছে।

কারখানা মালিকরা এখনো বোনাস পরিশোধ না করার বিষয়ে অবগত আছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কারখানাগুলো তদারকিতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। তাদের কর্মকর্তারা কারখানা মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। শ্রম মন্ত্রণালয় আশা করছে, দেরি হলেও ঈদের ছুটির আগেই প্রায় সব কারখানা বোনাস দিতে সক্ষম হবে। তবে শতভাগ কারখানা ঈদ বোনাস দিতে পারবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানও আশা করছেন, কারখানা মালিকরা ঈদ ছুটির আগে বোনাস দিতে সক্ষম হবেন। যেসব কারখানা বোনাস এখনো দেয়নি তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগাম বেতন ও বোনাস নিয়েও তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘একটু দেরি হয়েছে। তবে ঈদের এখনো দুদিন বাকি আছে। এরপরও যদি কেউ বোনাস না দেয় তাহলে আমরা তাদের ডাকব। কী কারণে বোনাস দেয়নি তার ব্যাখ্যা চাইব। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে এখনো ঈদ বোনাস না পেয়ে হতাশ কারখানার শ্রমিকরা। আদৌ তারা বোনাস পাবেন কি না তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বোনাসের টাকা না পেয়ে তারা ঈদের কেনাকাটাও করতে পারছেন না। তবে এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে যাচ্ছেন, ছুটির আগে বোনাস দেওয়া হবে।

গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক ইমন রহমান বলেন, ‘ম্যানেজার (কারখানার ব্যবস্থাপক) বলতেছেন, ব্যাংকের ঝামেলার কারণে বোনাস দিতে দেরি হইছে। তোমরা ঝামেলা (আন্দোলন) কইরো না। ছুটির আগে আগাম বেতন ও বোনাস একসঙ্গে পাবা।’

 

এসবি/এমই


  • 4
    Shares