কোটি টাকা খরচেও মরছে না মশা

  • 22
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : না শীত না গরম, বছরজুড়েই মশার উৎপাত রাজশাহী নগরীতে। দিনরাত সবসময়ই মশার দাপট সবখানে। নগরীতে মশা মারতে গত এক বছরে কোটি টাকা খরচ করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। মশার দাপট কমাতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

উল্টো মশার ঘনত্ব বেড়েছে বলে জানিয়েছে নগরবাসী। তবে রাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মশা মারতে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে তারা বলছেন, মশার দাপট নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নগরবাসীর সচেতনতা সবার আগে জরুরি।

নগরবাসী জানিয়েছে, বিকেলের পর থেকে মশার উৎপাত বাড়ে। সন্ধ্যার পর মশারির বাইরে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। কয়েল জ্বালিয়েও ফল মিলছে না। এ নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভের যেন শেষ নেই। মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে মশা নিধনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এসবের কোনো ফল নেই।

এছাড়া মাঝেমধ্যে এমন কার্যক্রম চললেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই মশা মারার কোনো কার্যক্রমই থাকে না।

তবে রাসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের তথ্যমতে, নগরীতে ছোট-বড় মিলে মোট ৩৯২ কিলোমিটার ড্রেন আছে। এসব ড্রেন ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যবহার করা হয় লার্ভিসাইড ও এডাল্টি সাইড নামে মশা নিধনের দুই ধরনের ওষুধ। গত বছরের জুন থেকে এ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮শ লিটার ওষুধ।

এসব ওষুধ দিতে খরচ পড়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কোটি টাকা শেষ হয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি মশার দাপট।

রাজশাহীতে এখনো কারও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। গত মাসে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় করোনার পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি বার্তা পৌঁছে দেওয়া, এডিস মশার প্রজনন রোধে টব, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে জমে থাকা পানি অতি দ্রুততম সময়ে সরানোর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন তেমন চোখে পড়েনি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মশার প্রজননক্ষেত্র চোখে পড়ে। বিশেষ করে নগরীর ভেতরকার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেগুলো মশার আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। আবার শহরের বেশ কিছু রাস্তার ওপরে বৃষ্টির পানি দিনের পর দিন জমে থাকে, সেগুলোতেও মশার আবাস গড়ে উঠেছে।

মশার চরম উৎপাতে নগরীর বাড়ি, অফিস কিংবা চায়ের আড্ডা কোথাও স্বস্তিতে নেই মানুষ। নগরীর সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী অশোক কুমার বলেন, ‘মশার যন্ত্রণা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সকাল-দুপুর কিছুটা সহনীয় হলেও সন্ধ্যায় আর দোকানে থাকাই যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও পরিত্রাণ মেলে না। কাজের সময় কাজ করব না মশা মারব বুঝা দায়। অনেক সময় কয়েলের ধোঁয়ায় দুর্বল হয়ে পড়া মশা জিনিসপত্রে পড়ে। রাসিকে ভ্যাট-ট্যাক্স ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি কই?’

সম্প্রতি নগরীর সোনাদিঘী মোড় এলাকায় বইয়ের দোকানে বই কিনছিলেন এক নারী। সঙ্গে তার শিশুসন্তান ছিল। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের পায়ে বসা মশা মারতে মারতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চলতে ফিরতেও যদি মশা মারতে হয়, তবে এ থেকে বাঁচব কী করে? বাড়িতে তো মশার উৎপাতে অস্থির থাকি। সন্ধ্যায় বাচ্চাকে পড়তে বসাই মশারির ভেতরে। কয়েলে ধোঁয়া হয়, কাজ হয় না।’

কোটি টাকা খরচ করেও মশার দাপট নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, ‘আমরা মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ লার্ভিসাইড ব্যবহার করছি। এছাড়াও আমরা উড়ন্ত মশা মারার জন্য এডাল্টিসাইড ব্যবহার করি। তবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে মানুষকে সচেতন হতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই। মানুষ যত সচেতন হবে, আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে মশার উৎপাত তত কমবে।’

 

এসবি/এমই


  • 22
    Shares