কেন্দ্রীয় দুই নেতা আসতে বিলম্ব; মিছিলে যায়নি শতাধিক নেতাকর্মী


রাবি প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজশাহীতে আগমন উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচার মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দলীয় টেন্ট থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। তবে নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর মিছিল শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। যে তালিকায় রয়েছে হল ছাত্রলীগের একাধিক র্শীর্ষ নেতাও।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সভাকে সফল করতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা রাজশাহী সফর করেছেন। যার অংশ হিসেবে আজ সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রচার মিছিল করার কথা ছিল। সেই অনুসারে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে পূর্বে দলীয় টেন্টে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মসূচি সার্থক করতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা দলীয় টেন্টে জমায়েত হতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতাকর্মীতে ভরে যায় দলীয় টেন্ট। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় নেতারা না আসায় অনেকে ক্লাসে ফিরে যান নেতাকর্মীরা। অবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্যাম্পাসে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা দলীয় টেন্ট থেকে মিছিল বের করেন। তবে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ না নিয়ে চলে যায়।

মিছিলে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে আবাসিক হলের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তারা সকাল দশটার আগে হল কর্মীদের নিয়ে টেন্টে এসেছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় আড়াই ঘন্টা পর ক্যাম্পাসে আসেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা মিছিলে অংশ নেননি।

কর্মসূচিতে ছিল না হলের শীর্ষ নেতারা

এদিকে পূর্বঘোষিত এই প্রচার মিছিলে ছিল না বেশ কয়েকটি হলের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া কয়েকটি হলের শীর্ষ নেতাদের মিছিলে অংশ না নিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মসূচিতে ছিল না শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, মাদার বখ্শ হলের সভাপতি প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক রাথিক, সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগের সভাপতি সিয়াম, লতিফ হল ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্রদেব ঘোষ, মতিহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা ও শের-ই বাংলা হল ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রাতুল।

এছাড়া দলীয় টেন্টে আসলেও মিছিলে অংশ নেয়নি শের-ই-বাংলা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন খান, মতিহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীব হোসেন ও আইবিএ শাখার সভাপতি আবু সিনহা। প্রচার মিছিল চলাকালে তাদের ক্যাম্পাসের পরিবহণ মার্কেটে আড্ডা দিতে দেখা যায়।

মিছিলে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শের-ই বাংলা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন খান বলেন, আমি দুই দিন ধরে অসুস্থ, জ্বরে ভুগছি। তাই মিছিলে অংশ নেয়নি। তবে মিছিল শেষে সভাবেশে উপস্থিত ছিলাম।

প্রচার মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় টেন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। জননেত্রী কথা দিয়েছেন দেশের ৬৪জেলায় ৬৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় করবেন। শিক্ষাবান্ধব এই সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের ছাত্রদের কাজ করে যেতে হবে।’

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে। এখান থেকে মৌলবাদী শক্তিকে দূর করেছে। মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের জীবন দান করেছেন। এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তরে শহীদের রক্তকণিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনও অবাস্তবায়িত থাকতে পারে না। সমাবেশ থেকে আগামী ২৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল করতে নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যোগদানের আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসবি/এমই/এআইআর