কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যের জন্য সমন্বিত বাজার ব্যবস্থা চাই

  • 2
    Shares

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বলা যায় কৃষিপণ্যই দেশকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু শংকার কথা হলো- নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল তথা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ফলে সরকার এবার কৃষি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে কাজও শুরু করেছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। এতে প্রাথমিকভাবে চাল-ডাল, আলু-পেঁয়াজসহ ২০ থেকে ২৫টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য কমবে, কৃষক ন্যায্য দাম পাবে-সর্বোপরি বাজার থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই কাজটি করে থাকে কৃষি খরচ ও মূল্য কমিশন। এটি গঠিত হয়েছে ১৯৬৫ সালে। সংস্থাটির তরফে ২৩টি কৃষিপণ্যে সর্বনিম্ন দাম সহায়তা দেয়া হয়।

ভারতের মোট উৎপাদিত পণ্যের ১৫ শতাংশ ক্রয় করা হয় পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশন এসব পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত সবার সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করে মূল্যনীতি প্রতিবেদন।

তাতেও যে সবসময় শেষ রক্ষা হয় তা নয়। সে দেশে প্রতিবছর কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম না পেয়ে এবং কৃষিঋণ শোধ করতে না পেরে বহু কৃষকের আত্মাহুতির খবর শোনা যায়, যা কাম্য নয়। বাংলাদেশের অবস্থা অতটা সঙ্গীন ও সঙ্কটজনক না হলেও সাধারণভাবে কৃষক যে প্রায়ই ন্যায্য দাম পায় না, এ কথা স্বীকার্য।

তদুপরি আমাদের দেশে বর্তমানে মাত্র তিনটি পণ্য-আউশ-আমন-বোরো ধান-চাল এবং গমের দাম আগে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তবে তাতেও প্রায়ই কৃষকের স্বার্থ রক্ষিত হয় না মধ্যস্বত্বভোগী, চাতাল মালিক ও সরকারী ক্রয়কেন্দ্রগুলোর দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে।

এর বাইরে শাক-সবজি-তরিতরকারি-হাঁস-মুরগি-খাসি-গরুর মাংস, দুধ-ডিম, আটা-ময়দা, চিনি-ডাল, ফলমূল-মাছ ইত্যাদির দাম বেঁধে দেয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে সঙ্কট দেখা দিলে দিনে দিনেই প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম এক লাফে ত্রিশ টাকা থেকে লাফিয়ে ওঠে তিন শ’ টাকায়। চাতাল মালিকদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়ে হু হু করে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও।

এর অবসানে বর্তমানে কৃষি বিপণন অধিদফতর অন্তত ৩৬টি পণ্যের পাইকারিসহ খুচরা যৌক্তিক দাম বেঁধে দেবে। তাতে সমস্যার সমাধান হবে কিনা, কৃষক ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষিত হবে কিনা সর্বোপরি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে কিনা সময়ই তা বলে দেবে।

অনেকে আবার কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন। কাজটি কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হলেও এটি যে কৃষক ও ভোক্তাসহ সবার দাবি তাতে সন্দেহ নেই। বিশ্বে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আরও উন্নত মানের প্রযুক্তি, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করে এই উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়। এর পাশাপাশি নজর দেয়া আবশ্যক বিভিন্ন ও বহুমুখী খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণে।

সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সব মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদেরও উচিত হবে, জনসাধারণ ও সরকারকে জিম্মি কিংবা কারসাজি করে নয়, বরং আস্থায় নিয়েই ব্যবসা করা। তদুপরি দেশে ধান-চাল-পাটসহ কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার জন্য তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত একটি আধুনিক ও সমন্বিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরী ও অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি।

এসবি/এআইআর


  • 2
    Shares