করোনা তৃতীয় ঢেউয়ে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে


সাহেব-বাজার ডেস্ক : করোনাভাইরারেস দ্বিতীয় ঢেউ শেষে এখন তৃতীয় ঢেউ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পরার সতর্কবার্তা শোনা যাচ্ছে। রাজধানীর পাশাপাশি সীমান্ত জেলাগুলোতে এখন বাড়ছে রুগী, হাসপাতালগুলোতে হিমসিম অবস্থা।

সাধারণত করোনাভাইরাস করোনা রোগীর হাঁচি, কাশি থেকে নির্গত হয়ে বাতাসে জলীয় কণা হিসেবে ভেসে বেড়ায়। ওই জলীয় কণা সুস্থ মানুষের নাক, মুখ দিয়ে প্রবেশ করে আক্রান্ত করতে পারে। যে কোনো সময় করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সম্মুখীন হতে পারে সবাই। তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে হলে অবিলম্বে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যে কোনো মূল্যে। এজন্য কঠোরতম স্বাস্থ্যবিধি আরোপ ও ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই করোনার স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা উপেক্ষা করে চলেছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে করোনার তৃতীয় ঢেউ যে কোন সময় আসতে পারে।

তৃতীয় ঢেউয়ে বড়দের তুলনায় ছোটরা বেশি আক্রান্ত হবে বলে বেশ আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। যদিও, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এইমস-এর সমীক্ষা রিপোর্টে সেই দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে।

সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, করোনার তৃতীয় ঢেউ এলে বড়দের তুলনায় ছোটরা বেশি আক্রান্ত হবে, এটা বলা যায় না।

তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা কতটা হবে, তা এখনই আন্দাজ করা সম্ভব নয়। তবে, হতে পারে, তা দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতোই হবে। ফলে, এই পরিস্থিতিতে নিজেদের এবং দেশকে কী করে রক্ষা করা যায়, সেটাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার।

নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করলেই করোনা তৃতীয় ঢেউ থেকে নিজেদের সহজেই রক্ষা করা সম্ভব।

একমাত্র জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলুন। নিজের হাত ক্রমাগত স্যানিটাইজ করুন। বাইরে বের হলে, অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। সর্বদা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।

হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা। ঠান্ডা বা ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে না মেশা। বন্য জীবজন্তু কিংবা গৃহপালিত পশুকে খালি হাতে স্পর্শ না করা। ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করা।

কোনওপ্রকার উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। করোনাভাইরাস চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হল দ্রুত নির্ণয়করণ ও চিহ্নিতকরণ।

বাড়িতে থাকার একঘেয়েমি কাটাতে বাড়ির বাইরে বের হবেন না। এতে বিপদ বাড়তে পারে। সর্বদা সরকারি নির্দেশিকা ও ঘোষণা অনুসরণ করুন। আপনার সুরক্ষার জন্যই সেগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

যেকোন রকম জনসমাগম, উৎসব, অনুষ্ঠান, ভিড় এড়িয়ে চলুন। উৎসব অনুষ্ঠান করতেই হলে সীমিত পরিসরে অল্পসংখ্যক মানুষকে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করুন।

সবাই ভ্যাকসিন নেবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন এবং সরকার ঘোষিত লকডাউন মেনে চললে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

এসবি/এমই