করোনার প্রভাবে দেশে দেশে নানা ট্রেন্ড


সাহেব-বাজার ডেস্ক : জাপানের লোককাহিনীতে আছে অ্যামাবি নামে এক অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রের কথা। করোনাকালীন দুঃসময়ে এই চরিত্রটি কার্টুনচিত্র হয়ে আবার ফিরে এসেছে। করোনার প্রভাবে খাদ্যাভ্যাসে নতুনত্ব এসেছে ভিয়েতনামে। করোনা ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করতে স্যাটায়ারকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ানরা, কবিতার আশ্রয় নিয়েছে উগান্ডার মানুষ। আর দক্ষিণ কোরিয়ার ঘরবন্দি মানুষের মধ্যে তারকা বনে গেছে একটি মাসকট। দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

জাপানিদের অ্যামাবি
জাপানিরা কার্টুন ভালোবাসে। অ্যানিমি বা জাপানি অ্যানিমেশন ফিল্মের কার্টুন চরিত্রগুলো শুধু জাপানেই নয়, সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। তবে এসব কার্টুন ফিল্মের অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলো জাপানিদের মধ্যে যেন জীবন্ত। রক্তমাংসের না হলেও তারা এসব চরিত্রকে মান্য করে। শুধু তা-ই নয়, এমন অনেক জাপানি রয়েছে, যারা কার্টুন চরিত্রের প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে পর্যন্ত করে। জাপানিদের মধ্যে কার্টুন কিংবা অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলোর এমন জনপ্রিয়তা দেশটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়। দেশটির প্রায় সব রেলওয়ে স্টেশনের নিজস্ব রঙিন মাসকট রয়েছে। কার্টুনসদৃশ এসব মাসকট স্টেশনের আলাদা পরিচয় বহন করে।

এবার নতুন আরেকটি কার্টুন চরিত্র নিয়ে মেতে উঠেছে জাপানিরা। চলমান করোনা মহামারীকালে কার্টুন বেশে জাপানিদের মধ্যে ফিরে এসেছে বহু বছরের পুরনো একটি অতিপ্রাকৃতিক চরিত্র। আপাতত তার সঙ্গে একাত্ম হয়েই কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে বেড়াচ্ছে সে দেশের অসংখ্য নাগরিক। অ্যামাবি নামের এই চরিত্রটি আসলে জাপানি লোককাহিনীতে বর্ণিত এক সামুদ্রিক সত্তা। এই চরিত্রটি নারী নাকি পুরুষ, তা অস্পষ্ট। তবে, ধারণা করা হয়Ñ তার তিনটি পা রয়েছে। জানা যায়, ১৮৪৬ সালে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে অ্যামাবি সম্পর্কে গুঞ্জন ওঠে। সেই সময়টিতে কলেরা মহামারীতে বিপর্যস্ত ছিল জাপান। এমন দুঃসময়েই দেশটির কুমামটো অঞ্চলে সরকারি এক কর্মচারী সমুদ্রের বুকে ভাসমান অবস্থায় অ্যামাবিকে দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে আরও অনেকেই রাতের বেলায় সমুদ্রের বুকে অ্যামাবিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করতে থাকে। এভাবে এই চরিত্রটিকে ঘিরে নানা কল্পকাহিনীর সূত্রপাত হতে শুরু করে। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, লিঙ্গবিহীন এই সত্তাটির সঙ্গে যদি দৈবক্রমে কারও দেখা হয়ে যায়, তবে তিনি সুস্বাস্থ্য নিয়ে ফিরে আসবেন। অ্যামাবি আসলে সৌভাগ্যের প্রতীক।

একসময় কলেরা মহামারী বিদায় নেয়। অ্যামাবিকে নিয়ে মাতামাতিও কমতে থাকে। ধীরে ধীরে তার কথা বিভিন্ন লোককাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান করোনা মহামারীকালে আবার নতুন করে অ্যামাবির পুনরুত্থান ঘটেছে বলা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানিদের অনেকেই অ্যামাবির প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসছে। কেউ কেউ লোককাহিনী থেকে ধারণা নিয়ে নিজেই অ্যামাবির কার্টুন আঁকছেন। কিছু কিছু কার্টুনচিত্রে দেখা যায় অ্যামাবি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করছে। অসংখ্য জাপানি স্মার্টফোনের ওয়ালপেপার ছবি হিসেবে অ্যামাবির কার্টুনচিত্র ব্যবহার করছে। কারণ তারা বিশ্বাস করছেন এভাবে অ্যামাবিকে সঙ্গে রাখলে করোনাভাইরাস তাদের সংক্রমিত করতে পারবে না। এমন দুঃসময়ে সত্যিকারের কেউ যদি পাশে না থাকে, তবে কল্পিত কোনো বন্ধুর কাছে কিছুটা সান্ত্বনা পাওয়া যেতেই পারে।

ভিয়েতনামে ড্রাগন ফল ও তরমুজ
ড্রাগন ফল রপ্তানিতে পৃথিবীর এক নম্বর দেশ এখন ভিয়েতনাম। দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই সুস্বাদু এই ফলটি চাষ করা হয়। তবে সে দেশের বিন থুয়ান, তিয়েন গিয়াং ও লং অ্যান প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি ড্রাগন চাষ করা হয়। আর ভিয়েতনামিরা যে পরিমাণ ড্রাগন ফল রপ্তানি করে, তার সিংহভাগই যায় চীনে। ফল রপ্তানি থেকে প্রতি বছর ভিয়েতনামিরা যে আয় করে, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু ড্রাগন ফল থেকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে থমকে গেছে ড্রাগন ফলের আমদানি-রপ্তানি। ফলে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে ভিয়েতনামি চাষিদের উৎপাদন করা ড্রাগন ফলের সারি সারি স্তূপ এখনো অবিক্রীতই রয়ে গেছে। তবে, এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে নিজ দেশেরই বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে দেশটির রাজধানী হো চি মিন সিটির বিভিন্ন বেকারি পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের কাছ থেকে অবিক্রীত ড্রাগন ফলগুলো কিনে নিচ্ছে। ফলে এসব বেকারিতে উৎপন্ন প্রায় সব পণ্যেই এখন ড্রাগন ফলের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। ড্রাগন ফলের মিশ্রণের কারণে বেকারি পণ্যগুলো এখন অনেকাংশেই বেগুনি রং ধারণ করেছে। অনেকেই বলছেন, ড্রাগন ফল ব্যবহারের ফলে বেকারি পণ্যে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এগুলো আগের তুলনায় আরও নরম ও সুস্বাদু হয়েছে।

শুধু বেকারি পণ্যেই নয়, বর্তমানে ভিয়েতনামিদের খাদ্যচক্রে আরও নানাভাবেই ড্রাগন ফলের ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রাগন ফলের মতো বিপুল পরিমাণ তরমুজও উৎপন্ন হয় ভিয়েতনামে। ফলে আরেকটি কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে আটা-ময়দা ও অন্যান্য উপাদানের সংমিশ্রণে নতুন এক ধরনের নুডলস তৈরি করছে, যার রং গোলাপি।

ব্রাজিলের ডিপফেক
করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বিপর্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছে এখন ব্রাজিল। করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বড় এপিসেন্টার এখন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি। এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকেই দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমালোচনা করছে। কারণ সংক্রমণের শুরুর দিকে তিনি মারাত্মক এই ভাইরাসটির সংক্রমণের ভয়াবহতাকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই দেশটিতে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে দেশটির করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরই এখন ব্রাজিলের অবস্থান।

চলমান মহামারীকালে ব্রাজিলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বলসোনারো একটি ক্ল্যাসিক ব্যালাডের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রেম আহ্বান করছেন। এই গানটির শিরোনাম হলোÑ ‘আমি তোমাকে সব সময় ভালোবাসব।’ ইতিমধ্যেই অনলাইনে গানটির ভিউয়ের সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নারীবেশে বলসোনারো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেম নিবেদন করছেন। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার স্বভাবসিদ্ধ আচরণের মধ্য দিয়ে গানটির প্রতি সাড়া দিচ্ছেন।

আলোচিত এই ভিডিওর ফুটেজগুলো সত্যিকারের নয়। ব্রুনু সার্তোরি নামে এক সাংবাদিক এটি তৈরি করেছেন। তিনি নিজেকে একজন ‘ডিপফেকার’ হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ‘ডিপফেক’ হলো এমন একটি পদ্ধতি, যার সাহায্যে কোনো ভিডিও কিংবা ছবিতে কারও চেহারা ও কণ্ঠ সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতির সাহায্যে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও চিত্র নির্মাণ করে সার্তোরি প্রায়ই তার দেশের রাজনৈতিক চরিত্রগুলোকে আক্রমণ করেন। শুধু নিজের দেশের রাজনীতিবিদরাই নন, অন্যান্য দেশের সমালোচিত নেতাদের নিয়েও এ ধরনের ভিডিওচিত্র নির্মাণ করেন তিনি। বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেকেই ডিপফেক প্রযুক্তির সমালোচনা করলেও সার্তোরি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জানান, যেসব রাজনীতিবিধ সস্তা স্ট্যান্টবাজি করে বেড়ান, মূলত তারাই তার শিকার। তাই ক্ষমতাধরদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য গণতন্ত্রের সবচেয়ে পুরনো অস্ত্র ‘স্যাটায়ার’ বা বিদ্রƒপকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

মাইনক্র্যাফটে পড়াশোনা
পৃথিবীতে এখনো কোটি কোটি মানুষ এমন দেশে বসবাস করছে, যে দেশের সরকার গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট জগৎকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষমতাধরদের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে ইন্টারনেটের এমন অসংখ্য বিষয় সেন্সর করা হয় এসব দেশে। তবে, এসব দেশে বসবাসকারী ভিডিও গেমে আসক্তরা নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন, যেখানে তারা নিষিদ্ধ অনেক বিষয়ের স্বাদ তারা নিতে পারছেন। নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি হলোÑ ‘মাইনক্র্যাফট’ নামের একটি ভিডিও।

সুইডিশ গেম ডেভেলপার কোম্পানি মজাং স্টুডিও ২০১১ সালে ‘মাইনক্র্যাফট’ নামের ভিডিও গেমটি রিলিজ করে। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় গেমে পরিণত হলেও, পারতপক্ষে কোনো দেশের সরকারই এটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনেনি। এই গেমে আসক্তরা চাইলেই একটি ভার্চুয়াল লাইব্রেরির দেখা পায়। যেখানে তাদের জন্য থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নিষিদ্ধ সব লেখা, নিবন্ধ। গেমটির লাইব্রেরি বিভাগ দেশ অনুযায়ী ভাগ করা আছে। যেমনÑ মিসর, রাশিয়া কিংবা মেক্সিকো; এভাবে আলাদা আলাদা বিভাগ রয়েছে। কৌতূহল থাকলে এসব দেশের মানুষ নিজেদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে ঢুঁ মারতে পারেন। এভাবে একজন সৌদি নাগরিক ইচ্ছা করলে ‘মাইনক্র্যাফট’-এর সাহায্য নিয়ে জামাল খাসোগির লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ পড়তে পারেন। সৌদি রাজতন্ত্রের ঘোর সমালোচক খাসোগি ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অনেকেই সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করেন। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খাশোগির লেখা ও মতামত সৌদি নাগরিকদের জন্য অঘোষিতভাবেই নিষিদ্ধ। তবে, করোনাভাইরাস চলাকালীন মাইনক্র্যাফটের ভিডিও গেমাররা আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাইব্রেরিতে কাটাচ্ছেন।

উগান্ডার প্রতিবাদী কবিতা
একটি কবিতা সিরিজ নিয়ে মেতে উঠেছে উগান্ডার মানুষ, বিশেষ করে দেশটির তরুণসমাজ। ‘নো রোজ ফ্রম মাই মাউথ’ নামে এই সিরিজটি লিখেছেন উগান্ডার নারীবাদী কবি ও লেখিকা স্টেলা নিয়ানজি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে ক্ষমতাসীনদের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োরি মুসাভেনির কট্টর সমালোচনা লেখালেখি ও বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করার দায়ে ২০১৭ সালে ১৮ মাসের কারাবাস দেওয়া হয় স্টেলাকে। অভিযোগ ওঠে, প্রেসিডেন্টের মৃত মায়ের যৌনাঙ্গ নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে তার লেখায়। কারাগারে বন্দি অবস্থায় ‘নো রোজ ফ্রম মাই মাউথ’ নামে কবিতা সিরিজটি লিখতে শুরু করেন স্টেলা। গত এপ্রিলে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর করোনাকালেও তার কবিতাগুলো দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অনধিকার প্রবেশকারী রাষ্ট্র ও তার তল্পিবাহক সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে স্টেলা নিয়ানজি বলেন, ‘কোনো কিছুই নিষিদ্ধ নয়।’ নিজেকে তিনি হাইহিল পরা নারীবাদী ভাবতেও নারাজ। তার প্রতিবাদী অবস্থান উগান্ডার সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিস্ময়কর। দেশটির অনেকেই তার সঙ্গে একাত্ম হতে ভয় পান। তবে, তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন স্টেলা। তরুণ অধিকারকর্মীরা তার সঙ্গে সুর মেলাতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টেলার বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছেন। এই তালিকায় প্রতিদিনই নতুন আরও অসংখ্য অনুসারী যুক্ত হচ্ছেন। নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেজ থেকে অনুসারীদেরকে রাষ্ট্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্টেলা বলেন, ‘আমার লেখাগুলো হয়তো সস্তা, তবে এগুলো খুবই কার্যকর।’

কোরিয়ানদের প্যাঙসো
করোনা মহামারীর মধ্যেই প্যাঙসোকে নিয়ে মেতেছে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ। প্রায় সাত ফুট উচ্চতার প্যাঙসো হলো একটি পেঙ্গুইন। তার বয়স ১০ বছর আর এসেছে অ্যান্টার্কটিকা থেকে। আসলে এটি সত্যিকারের কোনো পেঙ্গুইন নয়, পেঙ্গুইনের আদলে তৈরি একটি মাসকট। এডুকেশন ব্রডকাস্টিং সিস্টেম (ইবিএস) নামে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শিক্ষাবিষয়ক সম্প্রচার কোম্পানি এই মাসকটটি তৈরি করেছে। ইউটিউবে শিশুদের বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম অংশগ্রহণ করানোর জন্যই এই চরিত্রটি সৃষ্টি করা হয়েছে। শিশুতোষ চাঞ্চল্যও রয়েছে তার মধ্যে। মাঝেমধ্যে একটি সানগ্লাসও ব্যবহার করে প্যাঙসো। স্বাভাবিকভাবেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার শিশুরা আপন করে নিয়েছে এই চরিত্রটিকে। প্যাঙসোর চরিত্রের সবচেয়ে বড় দিকটি হলোÑ তার অবাধ্য আর অসভ্য আচরণ। ফলে শিশুদের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে দক্ষিণ কোরিয়ার কিশোর এমনকি তরুণ সমাজেরও প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রয়েছে প্যাঙসোর বিপুল জনপ্রিয়তা। ইন্সটাগ্রামে তার ছয় লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মতো একটি অনমনীয় সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের দেশে প্যাঙসোর ভোঁতা আচরণ অনেকের জন্য বিনোদনের খোরাক হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে প্যাঙসোই এখন সবার ওপরে রয়েছে। সেলিব্রিটির মতো সময় পাড়ি দিচ্ছে এটি। তাকে প্রায়ই এখন বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিতে দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ স্টারদের সঙ্গেও মাঝেমধ্যে এর সাক্ষাৎ ঘটে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং কিয়াং-হা’র সঙ্গেও সম্প্রতি একটি ভিডিও চ্যাটেও অংশ নিয়েছে প্যাঙসো।

এসবি/এমই