কনকনে ঠাণ্ডায় ফুটপাতের শীতবস্ত্রে ভরসা, দামও চড়া

  • 50
    Shares

জগদীশ রবিদাস: পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহী মহানগরীতে জেঁকে বসেছে শীত। এই সপ্তাহেই ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ক’দিন আগেও সকাল গড়িয়ে দুপুর পার হলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। শীতের তীব্রতায় এরই মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে সব থেকে কষ্টে দিন গুনছেন শ্রমিক, অটো-রিকশাচালক, ভিক্ষুকসহ সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষ। কনকনে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে ছিন্নমূল এসব মানুষের একমাত্র ভরসা ফুটপাতের দোকান।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় ফুটপাতে বসা নতুন-পুরাতন শীত কাপড়ের দোকানগুলোতে উল্লেখ সংখ্যক মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। শুধুমাত্র নিম্নআয়ের নয়, মধ্যবিত্ত ক্রেতারাও ঝুঁকছেন ফুটপাতে বসা এসব দোকানে। বেশির ভাগ ক্রেতা কাপড় কিনতে ফুটপাতমুখি হওয়ায় শহরের প্রায় সব এলাকায় শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী রেলস্টেশন, রেলগেট, নিউমার্কেট, গণকপাড়া, লক্ষ্মীপুর মোড়, কোর্ট চত্বর, কোর্ট স্টেশন, নওদাপাড়া বাজারসহ বিপণি বিতানগুলোর সামনে হকাররা বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এসব দোকানে বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে- ছোট বাচ্চা এবং বয়ষ্কদের কাপড়। এছাড়াও সব বয়সের মানুষের জন্য সোয়েটার, মোটা কাপড়ের ফুলহাতা গেঞ্জি, হাতমোজা, মাথার টুপি, পায়ের মোজা, মাফলারসহ কম্বলের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার ফুটপাতে শীতবস্ত্র কিনতে এসেছিলেন আবির মাহমুদ নামের একজন। তিনি সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বড় মাকের্ট থেকে উন্নত গরম কাপড় কেনার মতো আর্থিক অবস্থা নেই। দিন আনি, দিন খাই। কিন্তু শীত তো সেটি বোঝে না। তাই ফুটপাতের দোকান থেকে ছেলের জন্য শীতের কাপড় কিনছি। কিন্তু লক্ষ্য করছি, গত বছরের চেয়ে এ বছর কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের দাম নাগালের মধ্যে হলে আমাদের জন্য ভালো।

রাজশাহী রেলস্টেশনের ফুটপাতের দোকান থেকে একটি পুরাতন জ্যাকেট কিনে আসছিলেন অটো রিকশাচালক তুষার আলী। তার বাড়ি পবা উপজেলার বায়া বাজারে। সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, ‘সকাল-সকাল কুয়াশার মইধ্যে বাইর অই। কোন রহম মাহাজনের কাছ থেইক্যা অটো নিয়্যা রাস্তায় আইলাম। গাড়ি চালাইতে গিয়্যা শীতে কাহিল অইয়া যাই। মনে মনে করসিলাম দেড়শো থেইক্যা আড়াইশো মধ্যে একটো মোটা জ্যাকেট নিমু। কিন্তু এহেনে আইহা দেহি দাম বেশি। শীতের মধ্যে যেভাবেই হোক প্যাটের খাতির কাম করাই লাইগবো। তাই তিনশ ট্যাকা দিয়্যা জ্যাকেটডা কিইন্না নিয়্যা যাইচ্ছি’।

কথা হয় শহরের রেলগেটে ফুটপাতের কাপড় কিনতে আসা গৃহিনী ফরিদা বেগম, চা দোকনদার উত্তম সাহা, সালাউদ্দীনসহ অনেকের সঙ্গে। তারা বলেন, বড় বড় মার্কেটে শীতের কাপড় ঝুলিয়ে রেখে মেরে ফেলা দাম রাখে। আমাদের রোজগার অনুযায়ী সেসসব দোকানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তার ওপর করোনার এমন কঠিন সময়।

সব মিলিয়ে ফুটপাতে বসা দোকানগুলোতে না গিয়ে আমাদের উপাই নেই। এখানে ব্যবহারিত কাপড় ছাড়াও মাঝেমধ্যে ভালো নতুন কাপড়ও পাওয়া যায়। গরীব মানুষ হিসেবে এ নিয়েই কোনরকম শীতটা পার করতে চাই।

গণকপাড়ার ফুটপাত ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেনের সঙ্গেও কথা হয়। তিনি সাহেব বাজার টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অন্যান্য সিজিনে আমাদের ব্যবসা হয় না বললেই চলে। শুধুমাত্র শীতকালেই একটু ভালোমতো ব্যবসা হয়। এখন মোটা কাপড়ের ফুলহাতা গেঞ্জি ১৮০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করছি। পাতলাগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।

বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের শীতের কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের দোকানে শিশুদের কাপড়ই সবথেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের গেঞ্জির দাম ১২০ থেকে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। হাতমোজা ৩০-৭০ টাকা।

এবার ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দাম কিছুটা বেশির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনাকাল ও লকডাউনের কারণে এ বছর তেমনভাবে কেউই ব্যবসা করতে পারেনি। এদিকে মৌসুমের শুরুর দিকে প্রত্যাশিত শীত না পড়ায় তেমন বেচাকেনাও হয়নি। রাজশাহীর অনেকেই শীতবস্ত্র কিনে মজুদ করলেও তা বিক্রি করতে পারেননি। সবমিলিয়ে ফুটপাত ব্যববসায়ীদের নাজেহাল অবস্থা। আমাদেরও ঘর-সংসার আছে। এসব পরিস্থিতি মাথায় রেখে স্বল্প লাভে শীতবস্ত্রগুলো বিক্রি করছি। আশা করছি এই মৌসুমের শেষের দিকে ফুটপাতে শীসবস্ত্রের দাম অনেকটা কমে যাবে।

 

এসবি/এমই


  • 50
    Shares