ওয়ার্ড বয় মাসুদ রানার বদলির চিঠিটি গেলো কোথায়?

  • 45
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে বদলির আদেশপত্র পাঠানোর একমাস পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একজন ওয়ার্ড বয় যোগদান করতে পারেননি। তার নাম মাসুদ রানা। নিয়ম হলো- বদলি আদেশ পেয়ে তাকে পদায়ন করা ও তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে দেওয়া। কিন্তু রামেক হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর বিষয়টি একমাস ধরে ঝুলিয়ে রাখায় হতাশ হয়ে পড়েছেন মাসুদ রানা। এখন তার কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওয়ার্ড বয় ছিলেন মাসুদ রানা। গত ৮ নভেম্বর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির জন্য সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন পত্রটি অগ্রবর্তী ও সুপারিশ করেন। গত ২১ নভেম্বর রাজশাহীর সিভিল সার্জন তার আবেদনপত্রটি রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে অগ্রবর্তী করে তাকে বদলির সুপারিশ পাঠান।

এদিকে গত ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য ওয়ার্ড বয় মাসুদ রানাকে রামেক হাসপাতালে বদলি ও পদায়নের জন্য দাপ্তরিক আদেশপত্র জারি করেন। মাসুদ রানাকে পদায়নের আদেশপত্রটি রামেক হাসপাতালের পরিচালকের প্রশাসনিক দপ্তরে ওই দিনই পাঠানো হয়। কিন্তু গত এক মাসের বেশি সময় পরও মাসুদ রানাকে পদায়ন করা হয়নি রহস্যজনক কারণে। এ কারণ খুঁজে হয়রান হচ্ছেন হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারিরাও। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পাঠানো চিঠিটি কোথায় আছে সেটাও এখন সংশ্লিষ্ট কেউ বলতে পারছেন না।

এদিকে রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক অফিসার আব্দুল গণি গত মঙ্গলবার বলেন, তার কাছে মাসুদ রানার বদলির চিঠিটি নেই। কোথায় আছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি বলতে পারছি না। কে বলতে পারবে সেটাও তিনি বলতে চাননি। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্র্তারা বলতে পারবেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আব্দুল হান্নান বলেন, ওয়ার্ড বয় মাসুদ রানার বদলি সংক্রান্ত চিঠির বিষয়টি তার জানা নেই। তাহলে চিঠিটি গেলো কোথায় অথবা কোন দপ্তরে গেছে সেটাও তিনি জানাতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালের সদ্য বদলি হওয়া পরিচালকের সময়ে হাসপাতালের প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগে পছন্দের কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে অবাধে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে বদলি পদায়ন, কেনাকাটা থেকে এমএসআর সরবরাহ-প্রতিটি ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান-তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সাবেক পরিচালকের রেখে যাওয়া সিন্ডিকেটের কারণে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা কর্মচারিরা হাসপাতালে বদলি হতে পারেন না বলেও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

এসবি/আরআর/জেআর


  • 45
    Shares