ওমিক্রন আতঙ্ক: রাজশাহীতে স্বাস্থ্যবিধি গায়েব

  • 29
    Shares

রাজশাহী: শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি। রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে দাঁড়িয়ে ফল কিনছিলেন আরিফুজ্জামান নামের এক চাকরিজীবী।

কিন্তু ফলের দরদাম করার সময় তার মুখেও যেমন মাস্ক ছিল না, তেমনি ওই ফল বিক্রেতার মুখেও কোনো মাস্ক ছিল না। একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আপনি কেন মুখে মাস্ক পরেননি

এমন প্রশ্নে- তার পাল্টা প্রশ্ন ছিল- আর কত মাস্ক পরবো ভাই?

আর ওষুধ নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির মাস্ক দেখা যায় তার থুতনিতেই রয়েছে। নাম জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন ‘আমার নাম শামসুল আলম। বাড়ি দরগাপাড়া। ’

মাস্ক মুখে না দিয়ে থুতনিতে ঝোলানো কেন প্রশ্নে তিনি বলেন- মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। কিন্তু আজ থেকে মাস্ক না পড়লে জরিমানা করা হবে। তাই থুঁতনিতে কোনোভাবে মাস্ক ঝুলিয়ে নিয়ে বাইরে বের হয়েছেন। কেউ ধরলে মুখে টেনে নেবেন। এর আগেও মুখে মাস্ক পরেননি। আর তার করোনাও হয়নি বলে জানান।

তবে কেবল আরিফুজ্জমান বা শামসুল আলমই নন, করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর এত মৃত্যু আক্রান্তের পরও বেশিরভাগ মানুষেরই প্রায় একই কথা। আর মানুষের এমন অভিব্যক্তির মধ্যে দিয়েই বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে বিধিনিষেধ। কিন্তু রাজশাহীর বেশির ভাগ মানুষকে এখনও মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার কিংবা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসও এখন আর কোথাও অবশিষ্ট নেই!

প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) শুরু হয়েছে। কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের প্রথম দিনই দেখা গেছে ঢিলেঢালাভাব!

এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। হাসপাতালের ওপর আবারও চাপ বাড়বে। রোগীরাও যারপরনাই ভোগান্তিতে পড়বেন। চিকিৎসাসেবা পাওয়া তখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। জাতীয় পরামর্শক কমিটি এমন আশঙ্কার কথা জানালেও তৃণমূল পর্যায়ে এর কোনো প্রভাবই পড়ছে না। অথচ এরই মধ্যে রাজশাহীসহ গোটাদেশেই করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে।

আর শনাক্তের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আর করোনায় মাঝারি মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে- সীমান্তবর্তী ছয় জেলা। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- রাজশাহী ও নাটোর জেলা। রাজশাহী বিভাগের এই দুই জেলাকে মাঝারি অর্থাৎ হলুদ জোনের আওতায় রাখা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, এখনও রাজশাহী বিভাগে ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি। তবে জানুয়ারির শুরু থেকে করোনার শনাক্ত বাড়ছে। পরীক্ষা কম হওয়ার পরও শনাক্তের হারটা বেশি। এরই মধ্যে রাজশাহী ও নাটোর এই দুই জেলাকে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে হলুদ জোনের (মাঝারি ঝুঁকি) আওতায় আনা হয়েছে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যে কোনো সময় এ সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। আর বছরের শুরুতে সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তার মানে এটা করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ হওয়ারই আশঙ্কা বেশি।

ওমিক্রন খুব মারাত্মক না হলেও এই ধরন দ্রুত ছড়াচ্ছে। তাই ঘরের বাইরে বের হলেই মাস্ক পরার পাশাপাশি সরকারি সব বিধিনিষেধ অবশ্যই মানতে হবে। আর যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে করোনা টিকাও নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন- স্বাস্থ্য পরিচালক।

এসবি/জেআর


  • 29
    Shares