এক টাকায় রোগী দেখছেন এই চিকিৎসক


সাহেব-বাজার ডেস্ক: রাজশাহীর সাহেব বাজার মনিচত্বর এলাকায় সুমাইয়ার বাড়ি। সেখানেই আছে বাবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ সুইটস। তার পাশেই একটি ছোট ওষুধের দোকানে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি। তার এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

সোমবার সকালে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেলের চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা গেলো তিনি রোগী দেখছেন। দোকানের সামনে লম্বা লাইন। লাইনে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই এসেছেন এক টাকায় চিকিৎসা নিতে। একটু এগোতেই দেখা মিললো ছোট একটি ওষুধের দোকানে তিনি বসে আছেন। পাশেই রাখা আছে দুই তিনটি প্লাস্টিকের টুল। সেখানে বসেই রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারের টেবিলে এক পাশে রাখা আছে ছোট একটি মাটির ব্যাংক। সেই ব্যাংকেই চিকিৎসা শেষে রোগীরা ১ টাকা ফি দিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকেই রোগী সামলাতে বেশ ব্যস্ত ডা. সুমাইয়া।

রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা রেবেকা এসেছেন তার গাইনি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পরামর্শ নিতে। চিকিৎসা শেষে তিনি বলেন, লোকমুখে শুনে আজকে এখানে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। ম্যাডামের উদ্যোগটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি এসেছিলাম, চিকিৎসা নিয়েছি। আমি যেন বলতে পারি আমি গেছি। আরও পাঁচজন যাতে এখানে আসতে পারে। উনার সেবাটা খুব ভালো।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েও ডাক্তারের কাছে সেই ভাবে সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি মাত্র এক টাকা দিয়ে অনেক সময় নিয়ে বেশ ভালোভাবেই দেখেছেন। ডাক্তারদের কাছে অনেক সময় আমরা ভালো ব্যবহার পাই না। এখানে সেবা ও ব্যবহার দুটোই খুব ভালো।

রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র কাউসার বিন রিফাত বলেন, আজকে সকালে ডাক্তার দেখিয়েছি। কালকে ফেসবুকে তার পোস্ট দেখে আজকে এসেছি। উনি ভালোভাবে দেখেছেন। আশা করছি তিনি আমাদের পাশে সারাজীবন থাকবেন।

কলেজ ছাত্র মারবুব মুরর্শেদ মিশু বলেন, গতকাল ডাক্তারের কথা শুনে এখানে এসেছি। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তাছাড়া অমি স্টুডেন্ট মানুষ যেখানে কম টাকা হবে সেখানেই আমার জন্য ভালো। যেখানে একটি ডাক্তার দেখাতে ৫০০টাকা ওষুধ সব কিছু মিলে দেড় হাজার টাকা পড়ে যায়। এখানে আসলাম এক টাকায় চিকিৎসা নিলাম।

এবিষয়ে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বলেন, গতকাল থেকেই শুরু করেছি। বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমার বাবার জনসেবার স্বপ্ন ছিল। তিনি নিজেও কিছু করার চেষ্টা করেন। সারাজীবন দেখে এসেছি বাবা এমন করেন। আমার বাবা এই এক টাকার চিকিৎসার লিফলেট ছাপিয়ে নিয়ে এসেছেন। এরপর সেটিকে আমি ফেসবুকে দিয়েছি।

এখানে আমাদের বাড়ি, আমি এখানে বলা চলে সম্পূর্ণ ফ্রি চিকিৎসা দিবো। আসলে এক টাকাতো কোনো টাকা না। আমার একটি চ্যারিটি ফান্ড আছে। সেখানে এই টাকাগুলো যাবে। এই টাকাগুলো মূলত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের কাজেই ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি রাজশাহী ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ২০১৬ ব্যাচের ছাত্রী। সেখান থেকে পাশ করে বের হয়ে রাজশাহী মেডিপ্যাথ নামের একটি হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার হিসেবে কর্মরত আছি। আমার বড় বোন ডেন্টিস, মেজো বোনও ডাক্তার, এক ভাই ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের ইচ্ছে ছিল বাবার দোকানেই আমরা তিন বোন মিলে এ সেবা চালু করবো। তবে দুই বোন প্রেগন্যান্ট থাকায় তারা এখন বসতে পারছেন না। আমি শুরু করেছি। শুরতেই বেশ সাড়া পাচ্ছি। এই সেবা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।

এসবি/জেআর