একরাতেই বেসামাল রাজশাহীর পেঁয়াজের বাজার

  • 35
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : গেল বছরের সেপ্টেম্বরে আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল ভারত। এবারও একই ঘটনা। সোমবার ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর একরাতেই বেসামাল হয়ে উঠেছে রাজশাহীর পেঁয়াজের বাজার। এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

গত বছরের শেষের দিকের পুরোটা সময় আলোচনায় ছিল পেঁয়াজ। কখনো ৫০ টাকা কেজি আবার কখনো ২৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। দীর্ঘ সময় ধরে চড়া ছিলো নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম। এতে বিপাকে পড়েছিলেন ক্রেতারা। নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকল শ্রেণির মানুষ বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাঠে নামে।

দীর্ঘ সময় ধরে ৩৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় বাজার। গত কয়েক মাস ধরেই স্বাভাবিক ছিল এই পণ্যটির দাম। তবে সোমবার ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণাতেই আবারও চিত্র পাল্টে গেছে। নতুন করে আবারও কবে থেকে রপ্তানি শুরু হতে পারে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আর এতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার।

প্রভাব পড়েছে রাজশাহীতেও। এক ঘোষণাতেই রাতারাতি বেড়ে গেছে পণ্যটির দাম। রাজশাহীর কোন কোন ব্যবসায়ী বলছেন, পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ বলেই দাম বেড়ে গেছে। আবার কোন কোন ব্যবসায়ী বলছেন, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজারে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। সামনের মাসেই আবার নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তারপরেও বাড়তি টাকার আশার পেঁয়াজের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে অনেক ব্যবসায়ী। আর সাধারণ মানুুষ বলছেন, পেঁয়াজের দাম আবারও বেড়ে গেলে বিপাকে পড়বেন তারা। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত মানুষ সংসার চালাতে আবারও সমস্যায় পড়বেন।

মঙ্গলবার রাজশাহীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা করে বেড়েছে। সোমবার দেশী পেঁয়াজের দাম ছিলো কেজি প্রতি ৬০ টাকা। তবে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ১৮ টাকা করে। সোমবার দাম ছিল কেজি প্রতি ৪২ টাকা। তবে এখন সেই দামে কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। ভারতের পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি ৬০ টাকা। তবে বাজারে অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই পেঁয়াজ দেখা যায়নি। এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সে জন্য কখনও কখনও ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে থাকেন। আর তাই এবার তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। পরিস্থিতি বুঝে পেঁয়াজ বিক্রি করবেন।

এদিকে বাড়তি এই দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্রেতারা। নগরীর সাহেববাজারে এসেছিলেন আকতারুল জামান। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে আবারও দুশ্চিন্তা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই পেঁয়াজ ২৫০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়েছে। আবারও যদি এ রকম পরিস্থিতি হয় তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তিনি শুরুতেই প্রশাসনের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

নগরীর পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, কাল থেকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যারাই পেঁয়াজ কিনতে আসছেন তারাই ৫ থেকে ১০ কেজি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বানেশ্বর থেকে সাধারণত এখানে পেঁয়াজ কিনে আনা হয়। আজ বানেশ্বর বাজার ফাঁকা ছিলো। অতিরিক্ত লাভের আশার অনেক ব্যবসায়ীই পেঁয়াজ আবার মজুদ রাখতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সবাই ধারণা করছে পেঁয়াজের দাম আবারও ২৫০ টাকা হবে। সেই কারণেই মজুদ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে এখনই সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। না হলে আবারও এই পণ্যেটির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন এই ব্যবসায়ী।

এসবি/এসএসকে/জেআর


  • 35
    Shares