ইবাদত ও খালেদকে দেখে চমকে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড


সাহেব-বাজার ডেস্ক : রান আপে ছন্দময় ছুটে চলা আর শেষ দিকে একটু লাফ। সাবলীল বোলিং অ্যাকশনে আগ্রাসী সব ডেলিভারি। গতিময় গোলায় একসময় কত বিস্ময় জন্ম দিয়েছেন অ্যালান ডোনাল্ড! তার নতুন বলের সফল জুটি শন পোলক, তার নানা সময়ের সতীর্থ মাখায়া এনটিনি, ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের মতো পেসারদের কত কীর্তির স্বাক্ষীও তিনি। সেই ডোনাল্ডকেই কিনা বড় বিস্ময় উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের দুই পেসার ইবাদত হোসেন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ!

গত মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন ডোনাল্ড। সেখানেই তিনি অনুশীলনে ও ম্যাচে কাছ থেকে দেখতে ও জানতে পারেন বাংলাদেশের পেসারদের।

সেখানে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের জয়ে পেসারদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। তবে ডোনাল্ডের বিস্ময়-পর্ব টেস্ট সিরিজে। সেখানেই ইবাদত ও খালেদের প্রাণশক্তি ও ফিটনেসে মুগ্ধ হন তিনি।

এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডেও আছেন এই দুজন। অনুশীলনে তাদের সঙ্গে লম্বা সময় ধরে কাজ করছেন ডোনাল্ড। চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খালেদ ও ইবাদতের প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ফিরে গেলেন আগের সিরিজে।

“আমার জন্য সবচেয়ে বিস্ময় ছিল ইবাদত ও খালেদ। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে। ওদের ‘ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি’ দেখে চমকে গিয়েছিলাম। ‘ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি’ বলতে আমি বোঝাচ্ছি ওদের সাহস ও দৃঢ়তা। নিবেদনের ব্যাপার তো আছেই, সঙ্গে ওদের ফিটনেসও। টেস্ট ম্যাচে দুজন করে পেসার ও স্পিনার আগে কখনোই দেখিনি। তবে ওরা যেভাবে ওই দুই টেস্টে নিজেদের মেলে ধরেছে, বিশেষ করে প্রথম টেস্টে ডারবানে ওরা ছিল অসাধারণ।”

“পুরো বোলিং আক্রমণই ছিল দুর্দান্ত। স্রেফ পাগলাটে ওই আধ ঘণ্টা (শেষ ইনিংসের ব্যাটিং ধস), যা আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে, ওই সময়টা ছাড়া । দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুটি টেস্টেই অলআউট করতে পারা ছিল দারুণ পারফরম্যান্স। ওদের যতটুক দেখেছি, আমি উচ্ছ্বসিত। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনে আমরা যে আলোচনা করেছি এবং যা শেখার চেষ্টা করেছি, সবকিছুই দারুণ গঠনমূলক। আমরা যেভাবে এগোচ্ছি, তাতে আমি খুশি।”

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজের দলে ছিলেন শরিফুল ইসলামও। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি খেলতে পারেননি প্রথম টেস্টে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাকে ফেরত পাঠানো হয় দেশে। তরুণ এই বাঁহাতি পেসার এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলেও আছেন। তাকে নিয়েও ডোনাল্ডের মুগ্ধতা অনেক, তবে বিস্মিত হননি শরিফুলকে আগে থেকে জানতেন বলেই।

“ওয়ানডে সিরিজে শরিফুলকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ওকে দেখেছিলাম। তখনও দুর্দান্ত ছিল। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়ের ওই আসর থেকেই তার অনেক সম্ভাবনা দেখা হচ্ছিল।”

দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে আগুনে বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়েন দেন তাসকিন আহমেদ। পরে চোটের কারণে প্রথম টেস্টের পর দেশে ফিরে আসতে হয় তাকেও। সেই চোটের কারণেই তিনি খেলতে পারছেন না শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে। তবে পেস আক্রমণের নেতা হিসেবে তাকে ঠিকই মনে করলেন ডোনাল্ড।

“তাসকিন এখন ইনজুরিতে আছে। ওকেও দারুণ পছন্দ করি। ওর হৃদয় সোনা দিয়ে মোড়ানো, বিশাল হৃদয় ক্রিকেটার। ও যখন ফিরে আসবে, এই পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবে। আরও অনেক বেশি তাড়না দেখা যাবে তখন। যা দেখছি এখনও পর্যন্ত, আমি রোমাঞ্চিত।”

চট্টগ্রামের দলের তিন দিনের অনুশীলনে আরেক পেসার রেজাউর রহমানকেও কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন পেস বোলিং কোচ। শুরুতে তার বোলিংয়ে অস্বস্তি থাকলেও পরে তিনিও নজর কাড়তে পেরেছেন ডোনাল্ডের।

“সে খুব ভালো অ্যাথলেট, ছুটতেই থাকে। এই সপ্তাহে বেশ ভালো বল করেছে। সোম ও মঙ্গলবার একটু জড়তা ছিল ওর, তবে আজকে দারুণ সেশন কাটিয়েছে। ওর প্রাণশক্তি ভালো লেগেছে, যে মাত্রা সে যোগ করেছে, তা ভালো লেগেছে। আরেকটি নতুন বোলারকে দেখা ও তার সামর্থ্য দেখতে পারাটা দারুণ।”

বাংলাদেশের পেসারদের শেখার ও জানার ক্ষুধা ডোনাল্ডকে স্পর্শ করেছে প্রবলভাবে। এই দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট বললেন, তার নিজ দেশেও শেখানোর ক্ষেত্রে এতটা ভালো অভিজ্ঞতা অনেক সময় হয়নি।

“এখানে এই ছেলেদের নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত, কারণ তারা সঠিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে এবং তারা শিখতে চায়। দেশে আমাদের তরুণদের অনেকেই, প্রথম শ্রেণির পর্যায়ের অনেকেই পরিকল্পনা থেকে দ্রুত সরে যায়। এখানে ইবাদত, খালেদ ও শরিফুলকে নিয়ে আমি যা দেখেছি, তারা জানে ও বোঝে নিষ্প্রাণ উইকেটে বোলিং করতে হলে কী করতে হবে। এটা লম্বা সময়ের একটা শেখার প্রক্রিয়া।”

সেই প্রক্রিয়ার পথে বাংলাদেশে পেস আক্রমণের আরেকটি পরীক্ষা রোববার থেকে, চট্টগ্রামে শুরু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট।

এসবি/এআইআর