ইনডাকশন পদ্ধতি ব্যবহারে সিজার কমেছে ৬৪ শতাংশ


সাহেব-বাজার ডেস্ক : প্রসব জটিলতায় ভুগছেন এমন নারীদের নিরাপদ প্রসবের ক্ষেত্রে ইনডাকশন পদ্ধতি ব্যবহারে করে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে। মিসোপ্রোস্টল জুস এবং ফোলিস ক্যাথেটর পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা গেছে সিজার প্রায় অর্ধেকের বেশি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্প্রতি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় এই সাফল্য পাওয়া গেছে। সেখানে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে একটিতে ৬৪ শতাংশ অন্যটিতে ৫৮ শতাংশ সিজার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান শহীদ সোহরাওযার্দী মেডিক্যাল কলেজের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসি বলেন, যাদের প্রসবের সময় হয়েছে; কিন্তু ব্যথা উঠছে না, পেটে পানি অনেকটা শুকিয়ে গেছে, প্রসবের সময়ে জরায়ুমুখ খুলছে না অথবা যেসব প্রসূতির ডায়াবেটিস রয়েছে, প্রি-এক্লাম্পশিয়া রয়েছে, উচ্চরক্তচাপ রয়েছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রসূতিদের ক্ষেত্রে আগে সিজার করা হতো। কারণ প্রসূতি এবং নবজাতকের সুস্থতার কথা চিন্তা করে চিকিৎসকরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইতেন না।

কিন্তু ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণার অধীনে এ ধরনের দুশতাধিক জটিল রোগীকে নির্বাচিত করা হয়। যাদের মধ্যে ১০০ জন মিসোপ্রোস্টল গ্রুপে এবং বাকি ১০০ জন ছিল ফোলিস ক্যাথেটর গ্রুপে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত নারীদের ১৪৮ জনই গৃহিণী এবং ১৮ জন ছিলেন কর্মজীবী।

গবেষণায় দেখা গেছে, মিসোপ্রোস্টল জুসের মাধ্যমে (এক ধরনের ওষুধ) বাচ্চা প্রসবের হার ছিল ৬৪ শতাংশ এবং ফলিস ক্যাথেটর ব্যবহার করে ৫৮ শতাংশ ভ্যাজেইনাল ডেলিভারি করানো সম্ভব হয়েছে। মিসোপ্রোস্টলের অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ফলিস ক্যথেটরদের মধ্যে ৪২ শতাংশ সিজার করাতে হয়েছে।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সী প্রসূতি ছিলেন ১৮ জন, যাদের চারজনকে শুধু মিসোপ্রোস্টল এবং ১০ জনকে মিসোপ্রোস্টল জুস ও ফোলিস ক্যাথার্টার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১১৪ জন প্রসূতির মধ্যে ৬৪ জন মিসোপ্রোস্টল জুস ও ফোলিস ক্যাথেটর এবং ৫০ জনকে মিসোপ্রোস্টল প্রয়োগ করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৫৪ জনের মধ্যে ২২ জনকে মিসোপ্রোস্টল জুস

ও ফোলিস ক্যাথেটর এবং ৩২ জনকে শুধু মিসোপ্রোস্টল প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছোড়া ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন মিসোপ্রোস্টল জুস ও ফোলিস ক্যাথেটর এবং ১০ জনকে মিসোপ্রোস্টল প্রয়োগ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসী বলেন, কোনো দক্ষ লোক দিয়ে এ পদ্ধতিতে বাচ্চা প্রসব করালে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে অদক্ষ লোকের ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি গর্ভবতীকে ভ্যাজেইনাল ডেলিভারি জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতকরণ এবং কাউন্সিলিং করতে হবে। এ ছাড়া গর্ভধারণের পর থেকে কমপক্ষে চারবার চেকআপ করানো ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

এ সময় সিজার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এবিএম মাকসুদুল বলেন, সিজার যে একেবারেই হবে না বিষয়টি তেমন নয়। যাদের প্রয়োজন হবে তাদের অবশ্যই সিজার করাতে হবে। ইদানীং অনেকেই কষ্ট এড়াতে স্বেচ্ছায় সিজারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, শিশু জন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে প্রসূতি মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়ে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রসবজনিত জটিলতা রোধে তিনি শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব এবং রেফারেল সিস্টেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

এসবি/এমই