আড়াই কোটি টাকার বোরো প্রণোদনা পাচ্ছেন ৪৪ হাজার কৃষক


সাহেব-বাজার ডেস্ক: চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় দুই কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকার উফশী ও হাইব্রিড জাতের বোরো প্রণোদনা পাচ্ছেন ৪৪ হাজার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

উন্নত জাত ও নতুন উদ্ভাবিত ফসল চাষাবাদে উৎসাহিত করতেই কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে এসব উফশী ও হাইব্রিড জাতের বোরো বীজসহ রাসায়নিক সার।

এতে এবার বোরো মৌসুমে সরকারের প্রণোদনা সহায়তায় জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিভাগ।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি-২০২২-২৩ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার সাতটি

উপজেলায় ৪৪ হাজার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হবে।

এর মধ্যে ১৬ হাজার ২০০ জন কৃষককে উফশী জাতের বোরো বীজ ও ২৮ হাজার জন কৃষককে হাইব্রিড জাতের ধান বীজ দেওয়া হবে। প্রতিজন কৃষককে উফশী জাতের ধান বীজ ৫ কেজি, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার এবং প্রতিজন কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রিড জাতের ধান বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, সদর উপজেলায় উফশী জাত ১ হাজার ৬০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ৫ হাজার কৃষক, নলডাঙ্গা উপজেলায় উফশী জাত ২ হাজার ৪০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ৪ হাজার ৫০০ জন কৃষক, সিংড়ায় উফশী জাত ৫ হাজার ৯০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ৮ হাজার জন কৃষক, গুরুদাসপুর উপজেলায় উফশী জাত ১ হাজার ৭০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ৪ হাজার জন কৃষক, বড়াইগ্রাম উপজেলায় উফশী জাত ১ হাজার ৭০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ৪ হাজার ৫০০ জন কৃষক, লালপুর উপজেলায় উফশী জাত পাবেন ১ হাজার ৭০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ১ হাজার জন কৃষক এবং বাগাতিপাড়া উপজেলায় উফশী জাত ১ জাজার ২০০ জন ও হাইব্রিড জাত পাবেন ১ হাজার জন কৃষক। এজন্য প্রণোদনা বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে হাইব্রিড জাতে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও উফসী জাতে সারসহ ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আর কিছুদিন পর থেকেই বোরোর চাষাবাদ শুরু হবে। ইতোমধ্যে কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। আর চলতি মৌসুমে কৃষকদের উন্নত জাত এবং নতুন নতুন উদ্ভাবিত জাতের ফসল চাষাবাদে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরকার এসব বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়তা দিচ্ছেন।

যাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সহজেই স্বল্প সময়ে-স্বল্প খরচে ধান উৎপাদন করতে পারেন। এতে একদিকে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, হাইব্রিড জাতের ধান প্রতি বিঘায় গড়ে ৩৫ মণ হিসাবে ৯৮০ মেট্রিক টন এবং উফশী জাতের ধান প্রতি বিঘায় গড়ে ২৫ মণ হারে ধরলে প্রায় ৪০৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। অর্থাৎ এবারের প্রণোদনায় পাওয়া সার ও বীজে অন্তত এ জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদন হবে।

এসবি/জেআর