আবাসন বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

  • 1
    Share

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহতাসিম বাশির কৌশিক। পড়েন যন্ত্রকৌশল বিভাগে তৃতীয় বর্ষে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঘোষণা দিয়েছিল স্বশরীরে ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার। পরীক্ষা শুরু হতো মার্চের সাত তারিখ থেকে। এজন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন কৌশিক। তিনিসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একই বিভাগের আরও সাতজন রাজশাহী নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ১২ হাজার টাকায়। থাকার জন্য অগ্রিম একমাসের ভাড়াও দিয়েছিলেন তারা। বাড়ির মালিকের সাথে কথা ছিলো ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তারা উঠবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর উঠা হলো না।

কৌশিক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেয়ার পর গত বুধবার আমার এক সহপাঠি মালিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অগ্রিম টাকা দেয়ার বিষয় অস্বীকার করেন। এনিয়ে তার সাথে আমরা কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কথা বলতে রাজি হন না। পরে অনেক অনুরোধ করায় তিনি অগ্রিম ভাড়া রেখে দেন এবং মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করেন। এতে গচ্ছা যায় ১২ হাজার টাকা। তিনি আমাদের কাছে বাসা ভাড়া নেয়ার পরও টু-লেট লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখেন।

অভিযোগটা শুধু কৌশিকের না আরও অভিযোগ আছে মেস মালিক ও বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে ও হল খুলবে ১৭ মে। এতেই বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাজশাহীর দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বশরীরে বেশ কিছু বিভাগের পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়। বেশ কিছু শিক্ষার্থী টিউশনির কারণে অনেক আগ থেকেই রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার ঘোষণা দেয়ার পরই রাজশাহীতে আবারও শুরু হয় শিক্ষার্থীদের পদচারণা।

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন থাকতেন নগরীর একটি অভিজাত ছাত্রীনিবাসে। তিনি বলেন, করোনার শুরু থেকে প্রতিমাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্ধেক ভাড়া দিয়ে আসতে হচ্ছে। মেসের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়িতে থাকায় মেসভাড়া দেয়ার অবস্থা ছিল না। তারা ভাড়া দিতে অপারগতা জানিয়েছে। নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করলে মেস থেকে বিছানাপত্র বাইরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিত। তাই বাধ্য হয়ে মেস ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। রাজশাহীতে আসার পর কয়েক দিন মেসে থাকা হয়েছে। এর মধ্যে পুরো মাসের ভাড়া মেস কর্তৃপক্ষ নিয়ে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস কাউন্টারের সামনে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভ্র আরেফিনের সাথে। পরীক্ষা না হওয়ায় বাসায় ফিরে যাচ্ছেন অভ্র। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েই পরীক্ষা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু হলগুলো খুলতে চায়নি। এজন্য আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর মার্চে হল থেকে বাসায় চলে যাই। পরীক্ষার ঘোষণা দেয়ার পর একটি মেসের সিট যোগাড় করে রাজশাহী আসতে হয়। সেখানে অগ্রিম দুই মাসের ভাড়া নেয়। এখন অগ্রিম মেস ভাড়ার টাকা ফেরত চাইলে দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে মেস কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, প্রায় এক বছর থেকে বন্ধ আছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজশাহীর বেশ কিছু মালিকের আয়ের উৎস মেস। এর আগে আমরা যেসকল শিক্ষার্থী মেসে থাকবে না তাদের জন্য ৫০ শতাংশ ভাড়া কমিয়েছিলাম এবং যারা থাকবে তাদের জন্য পুরো ভাড়াটা দিতে হবে। এই নির্দেশনা সকল মালিককে দেয়া হয়েছে। এবছরের শুরুতে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন করোনা পরিস্থিতি অনেকখানি স্বাভাবিক তাই এবছর থেকে পুরো মেসের ভাড়াটায় দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অগ্রিম মেস ভাড়া রেখে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে আমাকে জানালে আমি বিষয়গুলো দেখবো। বড় কোন সমস্যা হলেও মিমাংসা করে দিব।

এসবি/এমই/এআইআর


  • 1
    Share