আবারও বেড়েছে সবজির দাম, স্থিতিশীল মাংসের বাজার

  • 41
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর বাজারে মাংসের দামের কোন পরিবর্তন হয়নি। মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও দফায় দফায় দাম বাড়ছে মাছ ও সবজির। বারবার ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যাচ্ছে এগুলোর দাম। বাড়তি এই দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নগরীর নিম্নআয়ের মানুষ।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্রই দেখা যায়। গত ১৫ দিন ধরেই প্রতিটি সবজির দাম বাড়তি। কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে শুরু করে কোন কোন সবজির দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ।

গত সপ্তাহে আলু ছিলো ৩০ টাকা কেজি। তবে এখন সেই আলুর দাম ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা। শসার দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৩০ টাকা কেজিতে শসা পাওয়া গেলেও এখন আর সেই দামে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন শসার দাম ৫০ টাকা। কোন কোন বিক্রেতা ৬০ টাকাতেও বিক্রি করছেন শসা।

দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচেরও। এখন কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের । দাম বেড়েছে ঢ়েঁড়স, বেগুন, পটল এবং বরবটিরও। সহজলভ্য এই সবজিগুলো আর সহজে কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। এগুলো কিনতে হলে দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। ঢেঁড়সের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা করে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি থাকলেও এখন দাম হয়েছে ৬০ টাকা।

কেজিতে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে বেগুনের। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা করে দাম থাকলেও এই সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বেগুনের মতো পটল ও বরবটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা করে বিক্রি হলেও এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে।

বাড়তি দাম এখন ঝিঙ্গারও। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা করে বিক্রি হলেও এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। মিষ্টিকুমড়ার দাম বেড়েছে ৫ টাকা করে। গত সপ্তাহে ২৫ টাকা থাকলেও এই সপ্তাহে দাম বড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। দাম বেড়েছে লাউ, করলা ও ডুমুরেরও। লাউ ও ডুমুরের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৩৫ টাকা কেজিতে লাউ পাওয়া গেলেও এখন দাম হয়েছে ৪০ টাকা। তেমনি ডুমুরের দাম ২০ টাকা হরেও এখন ২৫ টাকা কেজিতে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে করলার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা করে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি হলেও এখন দাম হয়েছে ৮০ টাকা। পাশাপাশি দাম বেড়েছে বিভিন্ন শাকের। লালশাক, সবুজশাক ও পুঁইশাকের দাম গত সপ্তাহে ২৫ টাকা হলেও এখন দাম হয়েছে ৩০ টাকা কেজি।

সবজির মতো দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। গত সপ্তাহে পেয়াজেঁর দাম ৫০ টাকা কেজি থাকলেও এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। তবে দাম কমেছে আদা ও রসুনের। রসুনের দাম গত সপ্তাহে ছিলো ১৪০ টাকা । তবে এখন দাম কমে হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এই সপ্তাতে ১৬০ টাকা কেজিতে আদা পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে সবজির দাম বাড়লেও এখনো স্থিতিশীল আছে বিভিন্ন মাংসের দাম। গত সপ্তাহের মতোই এখনো একই দামে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মাংস। খাসির মাংস আগের মতোই এখনো ৭২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তেমনি দাম স্থিতিশীল আছে গরু ও মুরগির মাংসের। গত সপ্তাহের মতো এখনও ৫২০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে। ব্রয়লার ১১৫ টাকা ও সোনালী মুরগি ১৯০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

মাংসের মতো দাম এখনো স্থিতিশীল আছে মাছের দামও। গত সপ্তাহের মতো রুই ও কাতল ২৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তেমনি বোয়াল আগের মতোই ৮০০ টাকা ও চিতল ৭০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কৈ মাছ আগর দামেই পাওয়া যাচ্ছে। কেজি প্রতি ১৬০ টাকা দিয়ে কৈ কিনতে পারছেন ক্রেতারা। পাঙ্গাসের দামের কোন পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ১২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

দামের পরিবর্তন হয়নি চিংড়ি মাছেরও। চিংড়ি এক হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে দাম বেড়েছে ইলিশ মাছের। কয়েকদিন আগে ইলিশ ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন দাম বেড়ে ৫০০ টাকা থেকে এক টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

এখনো বাড়তি দাম চালের। গত এক মাস ধরেই কেজি প্রতি বেশি দাম দিয়েই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গত এক মাসেও কমেনি চালের দাম। মিনিকেট চাল আগে ৫০ টাকা থাকলেও গত এক মাস ধরেই ৫৩ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। স্বর্ণা ৪৫ টাকা থেকে এখন ৪৮ টাকা করে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। নাজিরশালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি এক টাকা করে। এক মাস আগে ৫৫ টাকাতে নাজিরশাল পাওয়া গেলেও এখন ৫৬ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

নগরীর সাহেব বাজারে এসেছিলেন রেবেকা খাতুন। তিনি বলেন, প্রায় মাসখানেক ধরেই সব সবজির দাম অনেক বেড়েছে। দাম কমলেই সবার জন্য ভালো। সবজি বিক্রেতা আনায়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের অনেক জায়গায় বন্যা হয়েছে। অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাই দাম বেড়েছে।

এসবি/এসএসকে/জেআর


  • 41
    Shares