আইএমএফের ঋণ অনুমোদন হতে পারে এ মাসেই


সাহেব-বাজার ডেস্ক: আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী বোর্ডের সভায় বাংলাদেশের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ দিনের সফরে রয়েছেন।

গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাক্ষাৎকালে তিনি ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও উচ্চআয়ের দেশে উত্তরণে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে মনসিও বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও উচ্চআয়ের দেশে উত্তরণের আকাক্সক্ষা রয়েছে এবং এটা বাস্তবায়নে আইএমএফ বাংলাদেশকে তার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এবং তিনি এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এসেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বেল-আউটের জন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা চায় না, বরং পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা কোনো ধরনের বেল-আউট চাই না। আমাদের এই কর্মসূচিটি বেল-আউট নয়।’

আইএমএফ ডিএমডি বলেন, গোটা বিশ্ব কোভিড ১৯-এর অভিঘাতের কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত চাপ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় আইএমএফ পাশে থাকবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নে গতি মন্থর হয়েছে। বাংলাদেশও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কঠিন পরিস্থিতি অতিবাহিত করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষকে সহায়তা করতে সরকার সামাজিক সুরক্ষা জাল ও খাদ্য কর্মসূচি বর্ধিত করেছে। এ সময় তিনি বিগত এক দশকে নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, কৃষি এবং ৬ শতাংশ ডিজিপি প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। অ্যান্তইনেত সায়েহ তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি ফটোগ্রাফ হস্তান্তর করে। ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট আইএমএফের আর্টিকেল অব অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরকালে ছবি দুটি তোলা হয়েছিল।

বৈঠককালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জ্যেষ্ঠ অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত আইএমএফের স্থায়ী প্রতিনিধি জয়েন্দু দে উপস্থিত ছিলেন।

সায়েহের বিবৃতি : এই বৈঠকের পর আইএমএফের ডিএমডি অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড আগামী ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচির অনুমোদনের বিষয়ে বিবেচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে অ্যান্তইনেত সায়েহ বলেন, সংস্কার এজেন্ডাকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশ এবং আইএমএফ সম্প্রতি বর্ধিত ক্রেডিট সুবিধা, বর্ধিত তহবিল সুবিধা এবং আইএমএফের নতুন রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) অধীনে একটি স্টাফ- লেভেল চুক্তিতে পৌঁছেছে। তিনি লক্ষ্য করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের গৃহীত সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিগুলো দেশের মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল রাখতে, ঋণ থেকে জিডিপি অনুপাত কম রাখতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

আইএমএফ ডিএমডি বলেন, ‘গত দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। দারিদ্র্য হ্রাসে স্থিতিশীল অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে এগুলো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও শুরুতে মহামারী, এরপর ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে আসা ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসব ধাক্কার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব বিষয় মোকাবিলা করার জন্য আমি বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।’

সায়েহ বলেন, ‘(বাংলাদেশ সঙ্গে) আলোচনায় আমরা কর রাজস্ব বাড়ানো এবং আরও দক্ষ আর্থিক খাত গড়ে তোলার দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জসহ এই কর্মসূচির মূল বিষয়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুবিধার্থে এসব বিষয়ের সংস্কার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তুলতে এবং দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়তা করবে।’

 

এসবি/এমই