অবহেলিত জীর্ণ থেকে অত্যাধুনিক বিদ্যালয়


নিজস্ব প্রতিবেদক: জীর্ণ ভবন থেকে হয়েছে অত্যাধুনিক ভবন। ২০১৪ সালে ভূমিকম্পে ভেঙে যায় পুরনো ভবনের অনেকাংশ। এরপর থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারতেন না। আগে ছিল দুটি শ্রেণিকক্ষ এখন তা বেড়েছে বহুগুন।

রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্কুলটির নাম রাণীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৮০ সালে। এই স্কুলের ভবনটির মালিক ছিলেন স্যার যদুনাথ সরকার। তিনি তার কৈশোরে এই ভবনে কাটিয়ে গেছেন অনেক সময়। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে তিনি ১৮৮৭ সালে প্রথম শ্রেণির সরকারি বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে এন্ট্রানস পাস করেন। ১৮৮৯ সালে মেধাতালিকায় দশম স্থান অর্জন করে রাজশাহী কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণির বৃত্তিসহ এফএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সমৃদ্ধ কর্মজীবনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুভাষাবিদ স্যার যদুনাথ ছিলেন প্রথম অধ্যাপক ভাইস চ্যান্সেলর। ইংরেজি অনুবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে দিতে তিনি অবদান রেখেছিলেন। স্যার যদুনাথ সরকারের বাড়িটিতেই রাণীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নিয়ে গাছে পানি দিচ্ছেন। প্রায় ৮০টি টবে পানি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়েই নিজেই এই কাজ করেন প্রধান শিক্ষক। সাংবাদিক পরিচয় শুনে বেশ আনন্দিত হন তিনি।

তিনি জানালেন, রাণীবাজার স্কুলে তিনি প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ পান ২০০৬ সালে। এর আগে প্রধান শিক্ষক ছিলেন জাহানারা বেগম। তিনি আসার পর দেখেন শিক্ষার মান ও পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ ছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছিল না কোনো আলাদা বাথরুম। সে সময় দুইটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি শিক্ষকদের কক্ষ ছিল। সে সময় বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখেও কোনো অভিভাবক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে চাইতেন না। ২০১৪ সালে ভূমিকম্পে ভবনটির অনেকাংশ ভেঙে যায়। এরপর তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি আশ^স্ত করেন নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়ার। জীর্ণ ও অবহেলিত বিদ্যালয় থেকে অত্যাধুনিক বিদ্যালয় তৈরির মূল কারিগর এমপি ফজলে হোসেন বাদশা।

প্রধান শিক্ষক জানান, ২০১২ সালে এমপি ফজলে হোসেন মহোদয়ের কাছে সোলার প্যানেলের জন্য আবেদন করি। তিনি সে সময় বিদ্যালয়ে একটি সোলার প্যানেল দেন। ২০১৪ সালে ভূমিকম্পে স্কুলটির ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হলে ২০১৫ সালে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। সে টাকায় বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে তিনি আবারও ১০ লাখ টাকা অনুদান দেন। অনুদানের টাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের প্রাচীর ও গেট তৈরি করা হয়। এছাড়াও প্রধাণ শিক্ষকের কক্ষ, শিক্ষকদের কক্ষ, আলাদা বাথরুম তৈরি করা হয়। সবশেষ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়ে অত্যন্ত গরীব শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। কিন্তু শিক্ষা সবার জন্য সমান। ২০২২ সালে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিলেন প্রায় ২০০ জনের মতো। ২২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন প্রায় ৫০ জনের জন্য। এর মধ্যে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছেন একজন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছিলেন। এই বিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষক ১২ জন। খণ্ডকালিন শিক্ষক আছেন পাঁচজন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি একজন ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছে তিনজন।

তিনি নতুন ভবনের সবকিছু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। নিচতলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি নামাজঘর। সকল সুবিধাসহ বাধরুম ও ওজুখানা। শিক্ষকদের কক্ষ। নিচতলায় রয়েছে একটি শ্রেণিকক্ষ। এছাড়া দোতালা ও তিনতলায় শ্রেণিকক্ষ। প্রতিটা তলায় আছে বাথরুম। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা।

তিনি বলেন, পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলার ওখানে ফাঁকা যায়গা তৈরি হয়েছে। সে যায়গাতে আবারও নতুন ভবনের জন্য আবেদন করবো। আশা করি এমপি ফজলে হোসেন বাদশা মহোদয় আবারও সাড়া দেবেন।

এসবি/এআইআর