অনিদ্রা ডেকে আনে বহু রোগ, আশঙ্কা বাড়ে মৃত্যুরও


সাহেব-বাজার ডেস্ক : সারা দিন পরিশ্রম করার পরও রাতে ঘুম আসছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে কাজের চাপে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হয়। অথচ এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে প্রতি দিন অন্তত ছয় ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। এই ঘুমে সমস্যা অর্থাৎ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ডেকে আনতে পারে নানা বিপদ। এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কার তৈরি হতে পারে।

জেনে নিন কম ঘুমে কী কী সমস্যা হতে পারে-

১. মৃত্যু: ব্রিটেনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অনিদ্রা বাড়িয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম হয়না এমন মানুষের মৃত্যুর হার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। যাদের ঘুম অনিয়মিত তাদের মধ্যেও একই সমস্যা দেখা যায়। ঘুমের অভাবে ভুগছেন এমন রোগীদের সংবহনতন্ত্রের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি হয়।

২. যৌন সমস্যা: অপর্যাপ্ত ঘুম যৌন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক বেশি। যারা দেরি করে শুতে যান ও পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এটি একটি যৌন হরমোন, এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে কমে যায় যৌন মিলনের ইচ্ছা।

৩. মানসিক অবসাদ: রাত জাগা মানসিক অবসাদকে ডেকে আনে। আবার মানিসিক অবসাদও রাত জাগার পরিণতি তৈরি করে। এ দুটোর মধ্যে চক্রাকার সম্পর্ক। ২০০৫ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, উদ্বেগ বা মানসিক অবসাদে আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষই গড়ে ছ’ঘণ্টার কম ঘুমোন। অনিদ্রার ফলে যেমন মানসিক অবসাদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় তেমনিই অবসাদের ফলে রোগীর ঘুমিয়ে পড়তে অসুবিধা হতে পারে।

৪. স্মৃতিভ্রংশ: মস্তিষ্কের ‘নিওকর্টেক্স’ ও ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ নামক দু’টি অঞ্চলের সহায়তায় অস্থায়ী স্মৃতি স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়। কাজেই এই প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে সম্পন্ন হতে গেলে নিবিড় ঘুমের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই প্রক্রিয়াটি ঠিকঠাক সম্পন্ন হয় না। এর ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

৫. অন্যান্য রোগ: অনিদ্রা বা অপর্যাপ্ত ঘুম কম বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তারা একই সঙ্গে অন্য কোনও বিপজ্জনক দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ- এসব দীর্ঘস্থায়ী রোগ ঘুমের অভাবেই হয়ে থাকে।

এসবি/এমই