জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ

Home / জাতীয় / বিজয়ের মাস : ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১

বিজয়ের মাস : ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১

সাহেব-বাজার ডেস্ক : আজকের দিনে সবদিক থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, কুমিরা খাদেমনগর, সৈয়দপুর ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ চলতে থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছিল আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি। পাক হানাদারদের শেষ আশাও শেষ।

এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজী বুঝে গেল, মার্কিন সপ্তম নৌবহর তাদের সাহায্য করতে আসবে না। ফলে ১৫ ডিসেম্বর সকালেই সব আশা ছেড়ে দিল, শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব নিয়ে বিদেশি দূতাবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করল নিয়াজী। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান ও যৌথ বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল শ্যাম মানেক শ পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল নিয়াজির উদ্দেশে বেতার বার্তা পাঠান। জেনারেল মানেক শ্থর এই বার্তাটি আকাশবাণী কলকাতার ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ঘন ঘন প্রচার করা হচ্ছিল।

এই বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টির জন্য ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত সব ধরনের বিমান হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সবাই যখন গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষমাণ, তখন আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারণ ও সময় বৃদ্ধির জন্য জেনারেল নিয়াজি রাও ফরমান আলীকে নিয়ে ঢাকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেলের বাসভবনে যান। তার আগে জেনারেল নিয়াজি পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে সিদ্ধান্ত জানার জন্য কয়েকটি বার্তা পাঠান। জেনারেল নিয়াজির বার্তা এবং তাদের মার্কিন কনসাল জেনারেলের বাসভবনে যাওয়ার খবরটি ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে এসে পড়ে এবং যৌথ বাহিনী শেষ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

নিয়াজি যাতে তার মত পরিবর্তন করতে না পারে, তার জন্য এই গোপন বার্তা পেয়েই ভারতীয় বিমান বাহিনীর আক্রমণ জোরাদার করা হয় এবং বেশ কয়েকটি বোমা বর্ষণ হয় নিয়াজির সদর দফতরে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। জেনারেল ফরমান আলীর ভাষায়, মার্কিন কনসাল জেনারেল তাদের জানান, এ মুহূর্তে তার করার কিছুই নেই। একটি কাজই তিনি করতে পারেন, তা হচ্ছে আত্মসমর্পণের সময় বৃদ্ধির আবেদনটি ভারতীয় বাহিনীর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে দিতে পারেন।

এসবি/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

সূর্যসেন-প্রীতিলতার স্মৃতিঘেরা স্থান পরিদর্শন করলেন প্রণব

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতিবিজড়িত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *