জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ

Home / বিদেশ / নেপালে বামপন্থীদের বিজয় :সরকার গঠনে সময় লাগবে মাসখানেক

নেপালে বামপন্থীদের বিজয় :সরকার গঠনে সময় লাগবে মাসখানেক

সাহেব-বাজার ডেস্ক : নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর প্রথমবারের মত ফেডারেল সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত ২৬ নভেম্বর ও ৭ ডিসেম্বরে দুই পর্যায়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনাও শেষের দিকে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায় যে বামপন্থী সিপিএন-ইউএমএল এবং সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে।

উল্লেখ্য রাজতন্ত্র উচ্ছেদের পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপাল সংসদের ৯০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন নিয়ে নতুন সংবিধানের ঘোষণা করে।

এদিকে নেপালের ফেডারেল সংসদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বামপন্থী দল সিপিএন-ইউএমএল (কমিউনিস্ট পার্টি নেপাল- ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ভোট গণনার পর বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় সিপিএন-ইউএমএল ৮০টি ফেডারেল আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া প্রাদেশিক পরিষদের ১৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। একইভাবে তাদের জোট শরীক সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) ৩৬টি ফেডারেল আসন এবং ৭৩ প্রাদেশিক পরিষদ আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন নেপালি কংগ্রেস (এনসি) ২৩টি ফেডারেল আসন এবং ৪৫টি প্রাদেশিক পরিষদ আসন পেয়েছে। মাধেসিদের বৃহত্তম দল রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি-নেপাল ১১টি ফেডারেল এবং ১৬টি প্রাদেশিক আসনে জয়ী হয়েছে। সংঘীয় সমাজবাদী ফোরাম নেপাল ১০টি ফেডারেল এবং ২৪টি প্রাদেশিক আসন লাভ করে।

নয়া শক্তি পার্টি নেপাল, নেপাল কর্মী ও কৃষক পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনমোর্চা, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি করে ফেডারেল আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

প্রাদেশিক পরিষদের ৩টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। ২টি করে পেয়েছে নয়া পার্টি নেপাল ও রাষ্ট্রীয় জনমোর্চা, এবং এনডব্লিউপিপি একটি আসনে জয়ী হয়েছে।

এদিকে নেপালে হাউস অফ রিপ্রেজেনট্রেটিভস (ফেডারেল সংসদ) এবং প্রাদেশিক বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শেষের দিকে হলেও নতুন সরকার গঠনে অন্তত আরেক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সিপিএন-ইউএমএল এবং সিপিএনের বর্তমান জোট নির্বাচনের পরেও জোটবদ্ধ থাকলে আশা করা হচ্ছে, ইউএমএল চেয়ারম্যান কে.পি. অলি একটি জোট সরকারের নেতৃত্ব দিবেন।

একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশ একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ইউএমএল প্রধান ওলি ও মাওবাদী চেয়ারম্যান পুস্প কমল দহলের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনই সেটা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না।

সরকার গঠন ছাড়াও, কিছু অতিরিক্ত কাজ আছে যা দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রথমত, জাতীয় পরিষদ গঠন সম্পর্কে একটি বিল চূড়ান্ত করতে হবে।

ফেডারেল সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ফেডারেল সংসদের অধিবেশন আহ্বান করবেন। এতে প্রাদেশিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

এসবি/এসএস

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

ফিলিস্তিনকে সহায়তা কমিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ফিলিস্তিনিদের সাহায্যে গঠিত জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিলে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *