ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:১৯ অপরাহ্ণ

Home / জাতীয় / তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছরেও অসহায় শ্রমিকরা

তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছরেও অসহায় শ্রমিকরা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : আজ ২৪ নভেম্বর। আশুলিয়ার নিশ্চিতপুরে তাজরীন ফ্যাশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। ২০১২ সালে এই দিনে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের তাজরীনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নির্মম মৃত্যুর শিকার হন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। প্রাণ হারান ১১৪ পোশাক শ্রমিক।

পাঁচ বছর পার হলেও দুর্ভাবনা ও কষ্টের স্মৃতি যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না অসহায় মানুষগুলোর। সেই ভয়াল আঁধারে হতাহত শ্রমিকের বাঁচার আর্তনাদ নাড়া দিয়েছিল সারা বিশ্বকে। দুর্বিষহ সেই রাতে কয়েকশ শ্রমিক প্রাণে বেঁচে ফিরলেও গুরুতর আহত হন সবাই। কেউ হারান কর্মক্ষমতা, কেউ হয়েছেন সারা জীবনের জন্য পঙ্গু। কেউ আবার হারিয়েছেন চোখের দৃষ্টি। তবে দীর্ঘ সময় আর জীবনের কষ্টকর উঁচু পাহাড় পেরিয়ে বেঁচে থাকার নতুন লড়াইয়ে নেমেছেন।

দুঃসহ স্মৃতি পাড়ি দিয়ে আহত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বাধা যেন পথে পথে। শরীরের অক্ষমতায় চাকরিতে প্রতিবন্ধকতা। কেউ আবার কাজের সামর্থ্য থাকলেও তাজরীন পরিচয় পেলে চাকরি হয় না। পরিচয় আড়াল করে চাকরি নিলেও ভয় থাকে সব সময়। কখন কারখানা কর্তৃপক্ষ জেনে যায়। এমন নানান শঙ্কায় জীবন পার করছেন শ্রমিকরা।

কথা হয় তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ড থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে ফেরা নীলফামারীর মুক্তা বানুর সঙ্গে। তিনি জানান, শরীরের অসুস্থতা নিয়ে ও শিশু সন্তানকে বাসায় রেখে আরেকটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেছেন। তবে সেটি তাজরীনের পরিচয় আড়াল করে। কারণ পরিচয় দিলে চাকরি হয় না, পরে জানতে পারলে চাকরিও চলে যায়।

তাজরীনের শ্রমিকদের পরিচয়ে চাকরি না হওয়ায়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টুও জানান, তাজরীনের শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন কারখানার মালিকের একটা ধারণা, তারা অনেক সচেতন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে জানাশুনা আছে।

এমনকি তারা অন্য শ্রমিকদের মতো কাজ করতে পারবে না। এ জন্য তাজরীনের শ্রমিকদের কাজে নিতে চায় কারখানা মালিকরা। ভুল ধারণা থেকে কারখানা মালিকদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাজরীনের আহত শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। যতটুকু সার্মথ্য আছে সে অনুযায়ী কাজ বা পারিশ্রমিক দিতে পারেন। এছাড়া সরকার তাজরীনের আশপাশে মেডিকেল ক্যাম্প করে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান এই শ্রমিক নেতা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান জানান, তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে সবাইকে। বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থনের সুযোগ করে দিতে পারেন। সরকার সে বিষয়ে জোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার কারখানা কর্তৃপক্ষকে চাপে রেখেও সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

এসবি/এমই

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বিজয়ের মাস : ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বরের এইদিন বগুড়া শহর হানাদার মুক্ত হয়।ওই দিন বগুড়ায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *