ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ

Home / অন্যজেলা / এখনো দখলমুক্ত হয়নি উত্তরা গণভবনের জমি!

এখনো দখলমুক্ত হয়নি উত্তরা গণভবনের জমি!

নাজমুল হাসান, নাটোর : এখনো দখলমুক্ত হয়নি ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন্ নাটোরের উত্তরা গণভবনের প্রধান ফটকের ২ একর ৬৮ শতক জমি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হলেও দখলদারদের কবল থেকে শেষ রক্ষা হয়নি!

সম্প্রতি গণভবনের গ্র্যান্ড মাদার’স হাউস দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। ঐতিহ্য রক্ষায় গণভবনের জায়গা দখলমুক্ত করে স্থাপনাটি আরও দৃষ্টিনন্দন করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, ১৭৩৪ সালে দিঘাপতিয়ার রাজা দয়ারাম রায় ৪১ দশমিক ৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করেন এই রাজবাড়ি। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর পাকিস্তান আমলে এটি গভর্নর হাউস করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গভর্নর হাউসকে গণভবনের মর্যাদা দেন। এরপর তৎকালিন সরকার গণভবন ও এর সামনের জায়গা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এর দেখাশোনার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়। সে সময় গণভবনের সৌন্দর্য দেখার জন্য দেশ ও বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা আসলে তাদের জেলা প্রশাসকের অফিসের মাধ্যমে অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু তখন অনেক দর্শনার্থী অনুমতি না পেয়ে চলে যেতেন।

বিষয়টি অনুভব করে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় সরকার জনপ্রতি ১০ টাকার টিকেটের বিনিময়ে গণভবন দেখার অনুমতি দেন। পরে টিকিটের মূল্য ২০ টাকা করা হয়। গণভবনের ভেতরের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে লাগানো হয় সিসিটিভি, চেকিং মেশিন। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার বাহিনী। সুদৃশ্য কারুকার্যখচিত প্রধান ফটক, রাজ প্যালেস, ইটালিয়ান গার্ডেনসহ ভেতরের সৌন্দর্যের জন্য দর্শনার্থীদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে উত্তরা গণভবন। কিন্তু অনন্য স্থাপনাটি দখলদারদের কবলে পড়ে দিনদিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

সম্প্রতি গণভবনের ‘গ্র্যান্ড মাদার’স হাউসে রাজ পালঙ্ক ব্যবহার করে বসবাস, প্রধান ফটকের সামনের জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা, শত বছরের গাছ কেটে ঐতিহ্য নষ্টের মহোৎসবসহ নানা অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। যা সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। ফলে গাছ লোপাটের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়। দখলমুক্ত করা হয় ‘গ্র্যান্ড মাদার’স হাউস। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো দখলমুক্ত হয়নি গণভবনের প্রধান ফটকের ২ একর ৬৮ শতক জমি। এর আগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সোয়োমটো রুল জারি করেন। ওই রুলে উত্তরা গণভবনের জায়গা দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো সাত দিনের মধ্যে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সে সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর দখল বন্ধ ছিল। কিন্তু গণভবনের প্রধান ফটকের জমিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপনার মধ্য দিয়ে পুনরায় দখল প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানায় এলাকাবাসী।

এছাড়াও গণভবনের সামনের পুরনো ভবন দখল করেছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামে একটি সংগঠন। সেখানে তারা গড়ে তুলেছে তাদের কার্যালয়। দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে খড়ির আড়ত, চা স্টল, মেকানিকের দোকানসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা স্থাপনাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জায়গা প্রকাশ্যে দখল করে পাকা ভবন নির্মাণে জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। গণভবনের জমি দখল মুক্ত করে দর্শনার্র্থীদের জন্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষনে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

গণভবনের জায়গা দখল করে দলীয় কার্যালয়, সংগঠনের অফিস নির্মাণকারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওমর শরীফ চৌহান দলীয় ও সংগঠনের অফিসের কথা এড়িয়ে অবৈধ স্থাপনা দখল মুক্ত করতে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানান। তিনি বলেন, গণভবনের সৌন্দর্য বর্ধনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

অচিরেই গণভবনের জায়গা দখলমুক্ত করে গণভবনের ঐতিহ্য রক্ষার উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, গণভবনের আকর্ষন বাড়াতে ইতিমধ্যে ঝোঁপ ঝাড় যুক্ত ২৫ একর জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বারাদ্দ পাওয়া মাত্র অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে গণভবনের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। গণভবনের জায়গায় যারা দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাদের জন্য মার্কেট নির্মান করে পুনবাসন করা হবে। একই সাথে দর্শনার্থীদের জন্য হোটেল মোটেল তৈরী করা হবে।

গত ৫ নভেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গণভবন পরিদর্শনে আসেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নাটোরের উত্তরা গণভবনের নতুন নতুন অংশ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া সহ নাটোরকে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এটি ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন, সেহেতু জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় চাহিদা পত্র পাঠালে আইনের মধ্যে থেকে যা যা করা সম্ভব তা করা হবে। গণভবনের জায়গা দখলমুক্ত করে  নাটোরকে একটি পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

এসবি/এনএইচ/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

নাটোরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

নাটোর প্রতিনিধি : র‌্যালী ও শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্যে দিয়ে নাটোরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *