ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

Home / slide / কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশের নারী জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে তার জন্ম। বাংলাদেশের প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন সুফিয়া কামাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি-কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। তাঁকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সুফিয়া কামাল যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে নারী শিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হতো না। তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারী ছিলেন একজন আইনবিদ। মা সাবেরা বেগমের কাছে পড়তে শেখেন তিনি। মাত্র বারো বছর বয়সে সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী সাহিত্য পাঠে তাকে আগ্রহী করে তোলেন, যা তাকে পরবর্তীকালে সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।
১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’ যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৬ সালে সওগাত পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা বাসন্তী প্রকাশিত হয়। মহাত্মা গান্ধীর সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি কিছুদিন চরকায় সুতা কাটেন। এ সময়ে যোগ দেন নারী কল্যাণমূলক সংগঠন ‘মাতৃমঙ্গল’-এ। ১৯২৯ সালে তিনি বেগম রোকেয়ার ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম’-এ যোগ দেন। এ সময় বেগম রোকেয়ার আদর্শ তাকে প্রভাবিত করে।
১৯৩১ সালে তিনি মুসলিম নারীদের মধ্যে প্রথম ইন্ডিয়ান মহিলা ফেডারেশনের সদস্য নির্বাচিত হন। তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ১৯৩২ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা কর্পোরেশন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩৮ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ প্রকাশিত হয়, যার ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রশংসা করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দীন আহমেদের সাথে তার বিয়ে হয়। তিনি ছিলেন বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক। ১৯৪৭ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছায়ানটের সভাপতি ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’। ভ্রমণকাহিনী ‘সোভিয়েত দিনগুলি’। স্মৃতিকথা ‘একাত্তুরের ডায়েরি’। সুফিয়া কামাল ৫০টিরও অধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী, সোভিয়েত লেনিন, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদক উল্লেখযোগ্য।
সুফিয়া কামালের প্রয়াণদিবসে ছায়ানট আজ রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় ছায়ানট মিলনায়তনে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সুফিয়া কামালকে স্মরণ করা হবে কথায় এবং গানে।
এসবি/এসএস
Print Friendly, PDF & Email

Check Also

দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন আজ

সাহেব-বাজার ডেস্ক : “বিদ্যাশিক্ষার ডিগ্রি আছে জ্ঞানের কোনো ডিগ্রি নেই, জ্ঞান ডিগ্রিবিহীন ও সীমাহীন”- আর তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *