ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

Home / জাতীয় / রসিক নির্বাচনে থাকবে র‍্যাব-বিজিবি

রসিক নির্বাচনে থাকবে র‍্যাব-বিজিবি

সাহেব-বাজার ডেস্ক : রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ভোট গ্রহণ করা হবে ২১ ডিসেম্বর। এই সিটিতে ভোটের আগে ও পরে মোট চার দিন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রাখার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের ৩৩টি টিম, বিজিবি’র ১৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে একদিন- সব মিলিয়ে চার দিন মাঠে থাকবে তারা।

রোববার সকাল ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে ইসি সচিবালয় এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

৯ নভেম্বর ইসির যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা  হয়। চিঠিটি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক রংপুর, বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার, রংপুর পুলিশ সুপার, রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়কসহ অন্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, রসিক নির্বাচনে ১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এ সিটিতে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো ভোট হওয়ায় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার,  র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন-পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এ বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ছক চূড়ান্ত করবে ইসি।

ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা যেতে পারে। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।

পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। র‌্যাবের ৩৩টি টিম, বিজিবি’র ১৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে একদিন সব মিলিয়ে চার দিন মাঠে থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব-পুলিশের টিম এবং আরও তিন প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সংরক্ষিত রাখার সুপারিশও করেছে ইসি সচিবালয়।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি তদারকির জন্য ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষে প্রচারণা শুরু হলেই প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে ৩৩ জন নির্বাহী হাকিম মাঠে থাকবেন। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে নামার পর তাদের নেতৃত্বেও থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় ১১ জন বিচারিক হাকিমও নিয়োজিত করবে ইসি।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। পাঁচ বছর আগে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন। বর্তমানে এ সিটিতে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন। সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে ৩৩টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১১টি। ভোটকেন্দ্র ১৯৩টি।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রংপুরের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৪ ডিসেম্বর আর ভোট হবে ২১ ডিসেম্বর।

এসবি/এসএস

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

ছায়েদুল হকের কফিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *