ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:২৪ অপরাহ্ণ

Home / রাজশাহীর সংবাদ / একযুগ পর বাঘা পৌর নির্বাচন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায় আ’লীগ

একযুগ পর বাঘা পৌর নির্বাচন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায় আ’লীগ

নুরুজ্জামান, বাঘা : বাঘা পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ পর নির্বাচন হওয়ায় মনোনয়ন পেতে এক প্রকার যুদ্ধে নেমেছেন নেতারা। বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা ১ যুগ ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর দিকেই বেশি সমর্থ ন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামি ২৮ ডিসেম্বর বহুল আকাংক্ষিত বাঘা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে বর্ধিত সভা করেছে পৌর আওয়ামী লীগ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম। ওই সভায় ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান মেয়র আক্কাস আলীর বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং পৌর সভায় ১২ বছর বিশেষ কোন উন্নয়ন না হওয়ায় নতুন প্রার্থীর দাবি করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় শাহারিয়ার বলেন, এটা বহু দিনের আকাংক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে কোন সংকোট সৃষ্টি করা যাবেনা। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ জন্য পৌর আওয়ামী লীগের মতামতের উপর ভিত্তিকরে তিনজন প্রার্থীর নাম সিলেকশান করার প্রস্তাব উঠে। তবে এই প্রস্তাব উঠার পর হাউজ থেকে একাধিক দলীয় কর্মী বর্তমান মেয়র আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে এবং তার বিতর্কিত কর্মকর্তান ও গত ১২ বছর ধরে পৌর সভায় বিশেষ কোন উন্নয়ন না হওয়াসহ তার দুর্ণীতির কথা তুলে ধরেন।

বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ৫ বছরের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অথচ বাঘা পৌর সভার মেয়ের আক্কাস আলী পৌরসভার সীমানা বর্ধিত করার অজুহাতে বিভিন্ন সময় মামলা মোর্কারদমা দিয়ে ১২ বছর নির্বাচন ঝুলিয়ে রেখেছে। এর ফলে উন্নয়নের চেয়ে দুর্ণীতি হয়েছে বেশি। উধারণ স্বরুপ তিনি এই মুহুর্তে বাঘা থানার মধ্যে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন।

অপর এক নেতা মামুন ইসলাম বলেন, গত অক্টোবর মাসে আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি টাকা কাজে ট্রেন্ডার জালিয়াতিসহ বেশ কিছু অনিয়ম-দুর্ণীতির খবর প্রকাশ করা হয় একাধিক স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে তাঁকে কারণ দর্শনোর নোটিশ জারি করা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে রহস্য জনক কারণে সেই তদন্ত থেমে যায়।

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা মনোনয়ন চাইতেই পারে। তবে দলের হাই কমান্ডের উচিত ওই প্রার্থীর বর্তমান এবং অতিত ইতিহাস জানা। তিনি ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান মেয়র আক্কাস আলী দলীয় প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা: আলাউদ্দিনের পক্ষে ভোট করে ছিলেন।

এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী কবির হোসেনের পক্ষ নিয়ে দলীয় প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হানের বিরুদ্ধে কুলামার্ক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এতে করে এই আসনে নৌকার ভরাডুবি হয়। এ ছাড়াও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি বর্তমান সাংসদ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। পরে রাজনৈতিক চাপেরর মুখে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ফিরলেও তার ভুমিকা ছিল রহস্য জনক।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আজিজুল আলমের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং জামাতের প্রার্থী মওলানা জিন্নাত আলীর পক্ষে গোপনে ভোট চান। আর এ সব কারনেই বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী ও তৃণমুলের লোকজনের দাবি এবার দলীয় মনোনয়ন নতুন কোন মুখকে দেয়া হউক ।

বাঘা থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তছিকুল ইসলাম জানান, বাঘা পৌর মেয়র আক্কাস আলীকে চেনেনা এমন কোন লোক রাজশাহী জেলাতে নেই। কারণ তিনি একজন অভ্যাসগত মদ্যপায়ী এবং বিতর্কিত ব্যাক্তি। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখানো থেকে শুরু করে একাধিক নারী নির্যাতন, সরকারী কর্মকর্তাদের মারপিট, পুলিশকে গালা-গালি, ধর্ষন, জমি দখল, দুর্ণীতি, হামলা, ভাংচুর এবং গৃহবধুকে শ¬ীলতাহানি করার ও অভিযোগ থানায় ১৯ টি মামলা এবং ১৫ টি জিডি রয়েছে। এ সব কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তিনি ২০০৬ সালে সামান্য ভোটে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। লোকজন ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর আক্কাস পরিবর্তন হবে। কিন্তু বিধিবাম! পরিবর্তনের জায়গায় এখন তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাতাল হয়ে একাধিক ঘটনার জন্ম দিয়ে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলী এখন রাজশাহীর বহুল আলোচিতদের একজন। তার কারণে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েতে হয় দলের নেতা-কর্মীদের। আর এ সব কারণে এবার বাঘা পৌর নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব আনার দাবি পৌর আওয়ামী লীগের।

এসবি/এনজেড/এআইআর

 

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

কুয়াশায় দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘনকুয়াশার কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *