ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৮:০০ অপরাহ্ণ

Home / রাজশাহীর সংবাদ / বাঘায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, ১ লক্ষ টাকায় রফা!

বাঘায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, ১ লক্ষ টাকায় রফা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় দুইজন ডাক্তারের দায়িত্ব একজন পালন করার কারণে আলো খাতুন নামে এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ৮ টার সময় উপজেলার সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই ক্লিনিকের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে গভীর রাতে ক্লিনিকের পক্ষ ১ লক্ষ টাকায় বিষয়টি রফা-দফা করে নেয়।এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লিনিকে নানা অব্যবস্থাপনা থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

ক্লিনিক সুত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া কারিকরপাড়ার সাগরিকা নামে এক মায়ের কন্যা আলো খাতুন (২০) কে সিজার করানোর জন্য বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে’ নিয়ে আসেন। এরপর বিকেলে রাজশাহী থেকে ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মামুন (সার্জন) ওই ক্লিনিকে আলোকে সিজার করান। আলো কন্যা সন্তান প্রসব করে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই অপারেশন করার জন্য একজন অ্যানেস্থিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আবদুল্লাহ আল মামুন দুইজন ডাক্তারের কাজ তিনি নিজে সম্পন্ন করেন। আর এ কাজে বিঘ্ন ঘটায় অপারেশনের দুই ঘন্টা পর আলো খাতুন মারা যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা: আবদুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে বাঘার ক্লিনিকগুলোয় অপারেশন করতে যায়। সেখানে অ্যানেস্থিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার হিসেবে কাজ করেন আক্তার জাহান। তিনি ব্যক্তিগত কাজে ওইদিন উপস্থিত হতে না পারায় জরুরী বসত: আমি নিজে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। তবে রোগী খারাপের দিকে যাওয়ার পর সেখানে কোন ডাক্তার না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

আলোর মা সাগরিকা সাংবাদিকদের জানান, ডাক্তার চলে যাওয়ার পর তার মেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৭ টার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন পর্যন্ত ক্লিনিকে কোন ডাক্তার-নার্স ছিল না। এরপর আমি কান্নাকাটি শুরু করলে ক্লিনিকের লোকজন একটা মাইক্রো ডেকে তড়িঘড়ি করে আমার মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠিয়ে দেয়।

এসময় আমার কান্না দেখে স্থানীয় লোকজন মাইক্রোটিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিতে বলে। সবার কথায় আলোকে সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহুরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করে। যার সত্যতা স্বীকার করেছেন ডা. জহুরুল ইসলাম।

এ ঘটনার পর রাত ১২টায় অনেক দেন দরবারের এক পর্যায় লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার এবং রোগীর আত্মীয় স্বজনরা ক্লিনিক পক্ষের সাথে বিষয়টি এক লক্ষ টাকায় রফাদফা করে নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, বাঘায় যে কয়টা ক্লিনিক রয়েছে তার মধ্যে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান সবচেয়ে খারাপ। এসব ক্লিক থেকে রাজশাহী সিভিল সার্জন মাসিক মাসোয়ারা পান বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ দিকে খবর পেয়ে ওই রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ঘটনাস্থলে যান এবং ক্লিনিকের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে ভ্র্যাম্যমাণ আদালতে জরিমাণা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু (চারজন) মালিকপক্ষের একজনও সেখানে উপস্থিত না থাকায় তিনি পরদিন বৃহস্পতিবার পুন:রায় সেখানে যান  এবং নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রেজাউল করিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার নেই। নেই ট্রেনিং প্রাপ্ত কোন দক্ষ নার্স। অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা একেবারে নাজুক। সব মিলে নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। এসব বিষয়গুলো লক্ষ্য করার পর ক্লিনিক এর মালিক বাদশা এবং জিল্লুর রহমান অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমাণা করা হয়। একই সাথে উক্ত সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য পাঁচ দিন সময় বেধে দেয়া হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, এই সকল সমস্যাগুলো তদারকি করার দায়িত্ব মুলত জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। যদি তিনি মাঝে মধ্যে এসে উপজেলা পর্যায়ের এই ক্লিনিকগুলো তদারকি করতেন তাহলে আলো খাতুন (২০) কে অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করা লাগতো না।

এসবি/এনজেড/এআইআর

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

নাটোরে বৃদ্ধ দম্পতির রহস্যজনক মৃত্যু, দুই ছেলে আটক

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের লালপুরের কদিম চিলান গ্রামে স্বামী আব্দুস সোবাহান (৭৫) ও স্ত্রী মানিকজান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *