নভেম্বর ২৩, ২০১৭ ১:৩৬ অপরাহ্ণ

Home / slide / নিপার মাথায় আঘাতের চিহ্ন, মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

নিপার মাথায় আঘাতের চিহ্ন, মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সেখেরপাড়া বারোমাইল গ্রাম থেকে উদ্ধার করা দম্পতির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত করা হয়। রামেকের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক এই ময়নাতদন্ত করেন।

পরে তিনি জানান, নিহত গৃহবধূ জিন্নানুন নেশা ওরফে নিপার (২১) মাথায় দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথার ডান ও বাম পাশে থাকা এ দুটি চিহ্ন কয়েক ইঞ্চি লম্বা। সাধারণত লাঠির আঘাতে এমন চিহ্ন হয়। তবে ওই আঘাতে নিপার মাথা থেকে রক্ত বের হয়নি। এছাড়া তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে নিপা ও তার স্বামী সামিউল ইসলাম ওরফে সনির (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সনির বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। আর নিপা উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আবু জিন্নাতের মেয়ে। উদ্ধারের সময় নিপার লাশ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। আর নিপার ওড়নায় গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় সনির লাশ ঝুলছিল ঘরের তীরে।

এই দম্পতির লাশ উদ্ধারের সময় সনির বাবা শহিদুল ইসলাম এবং মা আনোয়ারা বেগম বাড়িতে ছিলেন না। সোমবার বিকেল পর্যন্ত তারা বাড়ি ফেরেননি।

ময়নাতদন্তের পর সনির আত্মীয়স্বজন মর্গ থেকে লাশ গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে নিপার লাশ তার পরিবারের স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

এই দম্পতির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আবদুল লতিফ। তার প্রতিবেদনে লাশ দুটির গলায় ফাঁসের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া শরীরের অন্য কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তে নিপার মাথায় আঘাতের চিহ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই আঘাত আমি দেখিনি। অনেক কিছুই খালি চোখে দেখা যায় না। সে জন্যই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার যাবে। সেটি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

পরিদর্শক আবদুল লতিফ জানান, সনি ও নিপার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। রোববার রাতেই নিপার বাবা আবু জিন্নাত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

তিনি মামলাটির তদন্ত করছেন। নিপার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি পলাতক থাকায় বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। ঘটনাটি তিনি গভীরভাবে তদন্ত করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করতেন। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রায় এক বছর আগে তিনি নিপাকে বিয়ে করেন।

তারপর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাবা-মায়ের সংসারেই থাকতেন। তবে সনির মায়ের সঙ্গে নিপার প্রায়ই ঝগড়া হতো। লাশ উদ্ধারের আগের রাতেও তাদের ঝগড়া হয়।

তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিপার মাথায় আঘাতের চিহ্ন প্রশ্ন এনেছে, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে? হত্যা, নাকি আত্মহত্যা!

এসবি/আরআর/এসএস

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

লুমের চাকা ঘুরল ১৫ বছর পর

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী রেশম কারখানার লুমগুলো সর্বশেষ চলেছিল ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর। সরকার কারখানা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *