অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

Home / slide / খাঁচায় মাছ চাষে সফল ২০ চাষি

খাঁচায় মাছ চাষে সফল ২০ চাষি

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ শুরু হয়েছে। এতে সফলতা পেয়েছেন ২০জন মৎস্য চাষি। উপজেলার পিরিজপুর গ্রামে পদ্মার কোলে গত বছর থেকে এই মাছ চাষ করা হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশে^র প্রথম স্থানে নিয়ে যেতে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বছর থেকে গোদাগাড়ীতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়।

গত বছরের মে মাসে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের ১০টি খাঁচা দেয়া হয়। পরে তাদের আরও ২০টি খাঁচা দেয়া হয়। এসব খাঁচায় দেয়া হয় মনোসেক্স প্রজাতির তেলাপিয়া মাছের পোনাও। এভাবেই গোদাগাড়ীতে প্রথমবারের মতো খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়।

খাঁচায় মাছ চাষের প্রধান উদ্যোক্ত প্রধান উদ্যোক্ত পিরিজপুর গ্রামের যুবক শফিউল ইসলাম মুক্তা। তিনিসহ মোট ২০জন যুবক একত্রিত হয়েই খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন।

মুক্তা জানান, মৎস্য অধিদপ্তর তাদের পোনাসহ ২০টি খাঁচা দিলেও লাভজনক হওয়ায় পরবর্তীতে তারা নিজেরাই খাঁচার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। এখন তাদের খাঁচার সংখ্যা ৪৭টি।

তিনি জানান, সর্বশেষ পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সময় ৩৭টি খাঁচার মাছ ধরেছেন। এখন মাছ আছে ১০টি খাঁচায়। গত এক বছরে তারা তিন দফায় খাঁচা থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ তুলে বিক্রি করেছেন। মাছের পরিমাণ ৩০হাজার কেজি। এতে তাদের লাভ হয়েছে তিন লাখ টাকা। তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছিল ২৭টি খাঁচা তৈরি, মাছের পোনা কেনা এবং খাবার কিনতে। খাঁচায় মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় তারা আগামিতে খাঁচার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছেন।

খাঁচায় মাছ চাষে সফল এই চাষি বলেন, ‘পদ্মা ফিস কেয়ার’ নামে তাদের একটি সমবায় সমিতি আছে। এই সমিতির ২০জন সদস্যকে নিয়ে প্রথমে তিনি নদীতে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম করেছিলেন। তাদের ব্যক্তিগত এই উদ্যোগ সাড়া ফেলে মৎস্য অধিদপ্তরে। কিন্তু অভয়াশ্রম থেকে তাদের কোনো আয় ছিল না। এ জন্য মৎস্য অধিদপ্তর তাদের ওই অভয়াশ্রমের পানিতেই খাঁচা করে দেয়। এ থেকে তাদের আয়ের দুয়ার খোলে। এখন তারা অনেকটাই স্বাবলম্বী।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামসুল করিম বলেন, পিরিজপুরের ২০মৎস্যচাষি প্রমাণ করেছেন খাঁচায় মাছ চাষ খুবই লাভজনক। তাই আগামীতে আরও বেশ কিছু স্থানে খাঁচায় মাছ চাষ সম্প্রসারণের জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর সফলতা ধরে রাখতে পিরিজপুরের মৎস্য চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব তৌফিকুল আরিফ পিরিজপুর গ্রামের খাঁচায় মাছ চাষ পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি এর প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, মাছ চাষে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মাছ উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম স্থানে নিয়ে যেতে মুক্তাদের এমন উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এসবি/এসএস

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

৯৬ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াবে রাসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এবার নগরীর ৯৬ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *