অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

Home / slide / জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, নাইসের ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ১১

জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, নাইসের ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক  : জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার নাহিদুদ্দোজা মিঞা ওরফে নাহিদসহ (৩২) ১১জনকে গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। শনিবার ভোরে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর অপারেশন দল।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- হেলাল উদ্দিন (২৯), আল আমিন (২৩), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), মঈন খান (৩৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), তাজুল ইসলাম (২৭), জাহেদুল্লাহ (২৯), আল-মামুন (২০), আল-আমিন (২৩) ও টলি নাথ (৪০)। তারা বিদেশ থেকে টাকা এনে দেশের জঙ্গিদের হাতে পৌঁছে দিত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ঢাকায় র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘স্পেনের আইটি কোম্পানি সিনটেক ও বাংলাদেশের ওয়াইমি একই মালিকের প্রতিষ্ঠান। মালিকের নাম আতাউল হক সবুজ। সে স্পেনে বসবাস করে। তার কোম্পানি সিনটেকের মাধ্যমে ওয়াইমি অর্থ পাঠাতো। যার ৪৭ শতাংশ বেতন ও অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় হতো। বাকিটা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন হতো।’

আটকদের মধ্যে ৭ জন ওয়াইমির ও বাকিরা অন্য প্রতিষ্ঠানের। র‌্যাব মুখপাত্র আরও জানান, একই মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানে স্পেন ও বাংলাদেশে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একইসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। স্পেনে আতাউল হক সবুজকেও আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তারা কিভাবে জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত এমন প্রশ্নে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটক করেছি। বাকি বিস্তারিত তথ্য অধিকতর তদন্তের পর জানানো হবে।’ এদিকে এই ১১ জনকে আটকের পর গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয়। তা দেখে নাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয় হোটেল নাইস কতৃপক্ষ।

ম্যানেজার নাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই হোটেলের আরেক ম্যানেজার শিহাব উদ্দিন বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নাহিদ ছুটিতে আছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি ছুটি নিয়েছেন। গণমাধ্যমে খবর দেখে নাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন বলেও জানান শিহাব।

হোটেল নাইসে থাকা নাহিদের জীবনবৃত্তান্ত দেখে হোটেলটির আরেক ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, নগরীর বেলদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাহিদ। তার বাবার নাম মৃত বদরুদ্দোজা, মা আয়েশা খাতুন। গত বছরের অক্টোবরে হোটেল নাইসে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি পান নাহিদ।

র‌্যাব বলছে, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইমি’ সবার দৃষ্টিতে সফটওয়্যারের কাজ করলেও এই ব্যবসার আড়ালে তারা বিদেশ থেকে আসা অর্থ গ্রহণ করতো ও দেশে অবস্থান করা জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দিতো। স্পেনে প্রতিষ্ঠিত একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘সিনটেল’ এর মাধ্যমে টাকাগুলো দেশে আসতো।

প্রতিষ্ঠানের মালিক আতাউল হক সবুজ ২০১৫ সালে ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় বোম্বিংয়ে নিহত জঙ্গি শিপুল হক সুজনের ভাই। বিদেশ থেকে এই জঙ্গি অর্থায়ন আনার কাজ শুরুতে সেই করতো। তার মালিকানায় আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার কোম্পানি ছিল ‘আইবেক’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নয়টি দেশে তার শাখা ছিল। আইবেকের প্রধান কার্যালয় ছিল আমেরিকায়।’

র‌্যাব জানায়, ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আইবেকের ৫০ হাজার ডলার জঙ্গি অর্থায়নের কাজে ব্যবহারের আগেই র‌্যাবের হাতে আটক হয়। যা জঙ্গি বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের মাধ্যমে তামীম চৌধুরীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে আইবেক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শাখাও বন্ধ করে দেয় সে দেশের কর্তৃপক্ষ। আইবেক বাংলাদেশ শাখায় দেখভালে দায়িত্ব ছিল সিরিয়ায় নিহত জঙ্গি শিপুল হক সুজনের ভাই আতাউল হক সবুজ।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল, হটি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন, পাসপোর্ট, ভোটার আইডিসহ প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। এইসব নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করে অনেক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তবে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেননি তারা। র‌্যাব ধারণা করছে এই অর্থ অস্ত্র-বিস্ফোরক ক্রয়, ট্রেনিংসহ অন্যান্য কাজে তারা ব্যয় করতো।
এসবি/আরআর/এসএস

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাবিতে ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষা বর্ষে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো ছাত্রদলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *