অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

Home / slide / টিকিট বিড়ম্বনায় জরুরী চিকিৎসায় বিলম্ব

টিকিট বিড়ম্বনায় জরুরী চিকিৎসায় বিলম্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক : জরুরী বিভাগের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতর আব্বাস আলী। স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন কাঁদছেন চিৎকার করে। এভাবেই পেরিয়ে গেল আধাঘণ্টা। কোনো চিকিৎসক এলেন না হৃদরোগে আক্রান্ত আব্বাস আলীর কাছে। জরুরী চিকিৎসাও পেলেন না এই রোগি।

আরও আধাঘণ্টা পর দুটি টিকিট কেটে আনলেন আব্বাসের ভাই আফসার আলী। তারপর এই রোগিকে পাঠানো হলো ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে যাওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেন আব্বাস। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত সোমবার সকালের দৃশ্য এটি।

এমন দৃশ্য নতুন নয়। জরুরী বিভাগে প্রায় প্রতিদিন, প্রতিটি রোগির সঙ্গেই ঘটছে এমন ঘটনা। রোগির স্বজনরা বলছেন, জরুরী বিভাগের রোগি আনার পর দুটি টিকিট কাটার বিড়ম্বনায় পড়ে দেরি হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসায়। এতে হাসপাতালে এনেও অনেক সময় রোগির কোনো লাভ হচ্ছে না।

রোগির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রোগি আনার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে ১০ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কাটতে হয়। এই টিকিট হাতে পাওয়ার পর কর্তব্যরত নার্সরা রোগির সমস্যার কথা শোনেন। এরপর রোগি ভর্তি করার উপযোগি মনে হলে কাউন্টারে আগের টিকিট নিয়ে গিয়ে ১৫ টাকা দিয়ে আরেকটি ভর্তির টিকিট কাটতে হয়।

এরপর দুটি টিকিট হাতে পাওয়ার পর নার্সরা হাসপাতালের খাতায় রোগির নাম ঠিকানা লিখে নেন। তারপর একটি ভর্তির টিকিটে লিখে দেয়া হয় রোগি কত নম্বর ওয়ার্ডে যাবে। সেই ওয়ার্ডে রোগি নেয়ার পর তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। এসব করতে গিয়ে কমপক্ষে একঘণ্টা সময় কেটে যায় জরুরী বিভাগেই। অভিযোগ আছে, কখনও কখনও টিকিটের দাম নির্ধারিত টাকার চেয়েও বেশি নেয়া হয়।

গত সোমবার জরুরী বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোগির স্বজন জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথম টিকিট পেয়েছিলেন। এখন আরও ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছেন ভর্তির টিকিটের জন্য। তার রোগি যন্ত্রণায় ছটফট করছেন জরুরী বিভাগে।

আম্বিয়া খাতুন নামে লাইনে দাঁড়ানো এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিট ছাড়া কেউ জরুরী চিকিৎসা পাবে না, এটা কেমন কথা! চোখের সামনে রোগি মরলেও ডাক্তাররা কোনো ব্যবস্থা নেন না এই টিকিট ছাড়া। টিকিট পাওয়ার পর ওয়ার্ডে দেয়া হলে রোগির চিকিৎসা শুরু হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত রোগিদের ক্ষেত্রেও তাই। এ কারণে ওয়ার্ডে যাওয়ার আগে জরুরী বিভাগেই অনেক রোগির প্রাণ ঝরে যায়।’

রোগির স্বজনরা আরও জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ লাগোয়া একটি কক্ষে সব সময়ের জন্যই একজন চিকিৎসক থাকেন। তবে তিনি তার কক্ষ ছেড়ে জরুরী বিভাগে বেরিয়ে আসেন না। রোগির স্বজনদেরই ওই চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে রোগির অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করতে হয়। সাধারণ রোগিগুলোর ক্ষেত্রে জরুরী বিভাগের নার্সরা খাতায় নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে তাদের ওয়ার্ডে পাঠান। তবে পুলিশ কেসের রোগিদের স্বজনদেরকে ওই চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে আসতে হয়। চিকিৎসক বসেই থাকেন তার কক্ষে।

এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সেদিন জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক কোনো কথা বলতে চাননি। জানাননি নিজের নামও। তবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে (জরুরী বিভাগে) থাকি রোগিকে ওয়ার্ডে পাঠানোর জন্য। চিকিৎসা হয় ওয়ার্ডে। এতে একটু দেরি হতেই পারে।’

জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই আমি এখানে যোগ দিয়েছি। এসব সমস্যার কথা শুনেছি। এরই মধ্যে জরুরী বিভাগের বেশ কয়েকটি অনিয়ম দূর করেছি। রোগিদের টিকিট বিড়ম্বনা দূর করতেও উদ্যোগ নেব। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জরুরী বিভাগেই রোগিদের জরুরী চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।’

এসবি/ আরআর/ আরএ

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

৯৬ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াবে রাসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এবার নগরীর ৯৬ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াবে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *