অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

Home / slide / সদর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া মানে বিএনপি-জামায়াতকে সহযোগিতা করা: দেবু
দেবাশিষ প্রামানিক দেবু

সদর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া মানে বিএনপি-জামায়াতকে সহযোগিতা করা: দেবু

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেবাশিষ প্রামানিক দেবু আগামী জাতীয় সংসদ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাহেববাজার২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক মাহী ইলাহি

সাহেববাজার২৪ : আগামী ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং এ নির্বাচনে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। আপনারা ২০০৮ সালে যেভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, এবারো কি সেভাবেই সমর্থন দেবেন?

দেবাশিষ প্রামানিক দেবু : আমরা মনে করি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা অনেক শক্তিশালী। রাজশাহীর জনগণের সমস্যায় নিরসনে আমাদের পার্টি সুখ-দুঃখে কাজ করছে। আমরা এখন ৩০টি ওয়ার্ডে সক্রিয়। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩০টি ওয়ার্ডেই আমরা কাউন্সিলর প্রার্থী দেবো। যেহেতু অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই আমরা জাতীয়ভাবেই করছি এবং ১৪ দলের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা মনে করি ১৪ দলের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ৭২ এর সংবিধানের বাংলাদেশ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগ খায়রুজ্জামান লিটনকে এখানে প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছে। ১৪ দল যদি তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করে তাহলে ওয়ার্কার্স পার্টি যেভাবে আগের নির্বাচনে কাজ করেছিল সেভাবেই করবে। আমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন তার সাথে থাকবে।

সাহেববাজার২৪ : রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা দাবি করছেন যে জাতীয় নির্বাচনে তারা সদর আসন থেকে প্রার্থী দিবেন। আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন?

দেবাশিষ প্রামানিক দেবু : আমি মনে করি, এ ধরনের চিন্তা খুবই আত্মঘাতী। আমরা জোট করবো-, আবার জোটের প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করবো এটা কেমন কথা। যারা এ চিন্তা করছেন আমি তাদের দোষ দেবো না। তারা দলীয় জায়গা থেকেই করছেন মনে হয়। ১৪ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হবার আকাঙ্ক্ষা করে তা বিএনপি জামায়াতকে সহযোগিতা করার শামিল। কারণ, রাজশাহীতে এবার নির্বাচনটা খুবই জটিল হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেয়া ১৪ দলের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। সুতরাং এই চ্যালেঞ্জের সময় যদি কেউ সংকীর্ণ চিন্তার জায়গা থেকে যদি বিদ্রোহী হবার বাসনা করে, তাহলে সেটা আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে সহযোগিতা করা হবে। আদর্শ এবং নীতির কোনো জায়গা থাকবে না।

সাহেববাজার২৪ : ফজলে হোসেন বাদশা পুনরায় যদি নির্বাচিত হন তাহলে রাজশাহীর জন্য কি বার্তা নিয়ে আসবেন?

দেবাশিষ প্রামানিক দেবু : ফজলে হোসেন বাদশা শুধু রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য নন, তিনি আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০০৮ সালের পর দুইবার রাজশাহীর সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি রাজশাহী ১৪ দল এবং সাধারণ মানুষের পাশে সবসময় ছিলেন। আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের নেতাকর্মীদের পাশেও তিনি আছেন। তাদের সহযোগিতা করছেন। বিষয়টি আমার চেয়ে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আরো ভালো বলতে পারবে।

ফজলে হোসেন বাদশা দুই টার্মে বেশিরভাগ উন্নয়নের ক্ষেত্রেই তিনি সফল হয়েছেন। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। সে ব্যাপারে তিনি তার প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য তুলে ধরেছেন, আমি একটু পুনরাবৃত্তি করি। আগামীতে রাজশাহী কৃষি বিশ্বিবদ্যালয় করার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজশাহী হচ্ছে রেশম নগরী, সিল্কের জন্য বিখ্যাত। আজকে রাজশাহীর রেশম কারখানা বন্ধ। বিএনপির সময় থেকে এটা বন্ধ আছে। এটা চালু করার জন্য আমাদের সংসদ সদস্য প্রতিটি বাজেট বক্তৃতায় জোরালোভাবে সংসদে দাবি করেছেন। আমরা জানি না কি কারণে আজ রেশম কারখানা চালু করা হচ্ছে না। এটা চালু করার ব্যাপারে বাদশার উদ্যোগ এবং দাবি রয়েছে। রাজশাহীতে বন্ধ টেক্সটাইল মিল, সেটা চালু করার ব্যাপারে তার একটা ভূমিকা থাকবে। রাজশাহীর স্বল্পশিক্ষিত-শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। তা সমাধানেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সিলিকন সিটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি দৃশ্যমান হলে অনেক তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রাজশাহীর মানুষের আরো দাবি রয়েছে, সেই দাবি পূরণের জন্য তিনি কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এ অঞ্চলকে ভবিষ্যতে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ‘উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ বলে একটি প্রকল্প আছে। প্রকল্পটি প্রথমে ১৯৮৬ সালে জায়গা স্ট্যাডি করেছিল এবং দীর্ঘসময় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। বরেন্দ্র প্রকল্পকে এখানে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন যে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমি মনে করি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য রাজশাহীর সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। তা জাতীয় সংসদে বাদশা তার বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আগামীতে এটা বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজশাহী হিসেবে গড়ার জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। মৌলবাদি, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে এ অঞ্চলের প্রগতিশীল মানুষ লড়াই সংগ্রাম করছে। যাতে করে এই অঞ্চলটি জামায়াত-শিবির মুক্ত হয়।

সাহেববাজার২৪ : আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা বাদশার উন্নয়নকে স্বীকার করছেন না, তারা কি বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন?

দেবাশিষ প্রামানিক দেবু : ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সেসময় বিএনপির জনপ্রতিনিধি থাকায় রাজশাহীর কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাজশাহী এখন উন্নয়নের ধারায় আছে তা বাস্তবায়নে বাদশার অবদান রয়েছে। তিনি সংসদে ও রাজপথে সবসময় রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে সরব ছিলেন। এ মূল্যায়ন সাধারণ মানুষ করবে। আমরা চাই, মানুষ তাঁর মূল্যায়ন ভোটের মাধ্যমে করুক।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে রোহিঙ্গা যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচণ্ডি মধ্যপাড়া এলাকা থেকে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *