সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭ ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

Home / জাতীয় / মাছ এবং ফলে ব্যবহার করতে হবে না ফরমালিন

মাছ এবং ফলে ব্যবহার করতে হবে না ফরমালিন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বিষাক্ত ফরমালিনের বিকল্প প্রিজারভেটিভ বিষমুক্ত ঔষধ আবিস্কার করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ। মাছ ও ফলমূল সতেজ রাখতে যে বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার করা হয় গবেষণা পরিষদের আবিস্কার করা এ ওষুধ ব্যবহারে সমপরিমাণই সতেজ থাকবে নিত্য দিনের ভোগ্যপণ্যমাছ ও ফলমূল। যা মানবদেহের কোন ক্ষতি করবে না বলে জানিয়েছেন বিসিআইআরের চেয়ারম্যান ফারুক আহ্‌মেদ।

তিনি বলেন, এ দেশের ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে বিষাক্ত ফরমালিন আমদানি করে মাছ এবং ফলমূলে প্রয়োগের মাধ্যমে পচনশীলতা রক্ষা করে সে সব পণ্য বাজারজাত করে আসছে, যা ষোল কোটি মানুষের নিত্য দিনের খাদ্য। ফরমালিনযুক্ত এ সব খাবারে মানবদেহের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ফলমূল এবং মাছকে স্বল্প সময়ে বিষমুক্ত করার ওষুধও তৈরি করা হয়েছে। ফরমালিন সনাক্তকরণ প্রযুুক্তি তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের আবিস্কার দর্শকদের প্রদর্শনের জন্য গ্যালারিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিষমুক্ত ওষুধসহ নানা পণ্য।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ফারুক আহ্‌মেদ দাবি করেন, এর আগের সরকার এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোন নজর দেয়নি এবং যারা দায়িত্ব পালন করে গেছেন তারা কেউ প্রচারের উদ্যোগও নেননি।

বর্তমান সরকার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই প্রতিষ্ঠানের আবিস্কার করা পণ্যকে সম্প্রসারণের জন্য যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পরিচালক ড. জহুরুল হক বলেন, মাছ ও ফল পচনশীলতা রক্ষায় ফরমালিনের বিকল্প প্রিজারভেটিভ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান কিডনি বিশেষজ্ঞ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ফরমালিনযুক্ত খাবারে মানবদেহে, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ঝুকিঁ বাড়বে এবং গ্যাষ্ট্রিক, আলসার ও মস্তিষ্কের স্মৃতি বিভ্রাটসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ঢামেকের এই কিডনি বিশেষজ্ঞ জানান, মানুষের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তনের সাথে সাথে খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তনসহ নানা কারণে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দিনে দিনে কিডনি সমস্যায় রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীকে কিডনি ডায়ালসেস করা হয়। কথার একপর্যায়ে তিনি জানান, আজ থেকে ১০ বছর আগে কিডনি সমস্যায় এতো রোগীর চাপ ছিল না।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ফরমালিনের বিকল্প ওষুধ আবিস্কার করার বিষয়ে কিডনি বিভাগের নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং লিভার বিশেষজ্ঞ ফারুক আহমেদ বলেন, এই আবিস্কার অবশ্যই প্রসংশনীয় কাজ এবং প্রসংশার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন তারা।

কিডনি এবং লিভার বিশেষজ্ঞ দুই ডাক্তারদের দেয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণে সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ২ নাম্বার ভবনের আট তলা ও নবম তলায় গিয়ে কিডনি রোগের বাস্তব চিত্রটাই মিলল। বেডে জায়গা নেই, রোগীরা ফ্লোরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

ফলে ফরমালিন প্রয়োগের বিষয় জানতে যাওয়া হয় সদরঘাট বাদামতলী। আমদানিকারকরা বিভিন্ন দেশ থেকে নানা জাতের ফল এদেশে আমদানি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দিনমজুর ফল আমদানিকারকের গোডাউনে কাজ করেন। তিনি বলেন, ফল গোডাউনে ঢোকানোর পর সতেজ রাখতে এবং ফলের রং আকর্ষণীয় করতে ফরমালিন দেয়া হয়।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ থেকে আমাদানি করা ফলে সে দেশেই বিজ্ঞানিদের পরীক্ষা অনুযায়ী ফল চাষিরা ফরমালিন প্রয়োগ করেই বাজারজাত করেন। এসব ফল বাংলাদেশে আমদানি করার পর পচনশীলতা থেকে রক্ষায় আবারও বিষাক্ত কেমিক্যাল দেওয়া হয়। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফরমালিনের অনুসন্ধানে যাওয়া হয় ঠাটারি বাজার মাছ পট্টি। মাছে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগে ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় মাছ ব্যবসায়ী কালু মিয়ার কাছে।

তিনি বলেন, আমি ২০ বছর যাবত মাছের ব্যবসা করে আসছি। এর আগে আমাদের দেশিয় মাছে কোনদিন ফরমালিন দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। এখন কেন ফরমালিন ব্যবহার করা হয়- এমন এক প্রশ্নের জবাবে কালু মিয়া বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং রাজনীতির দূর্ভোগের কারণে এদেশ হারিয়েছে বনজ সম্পদ এবং বিলুপ্ত হয়েছে নদী-নালা, খাল-বিল। এখন দেশিয় মাছ নেই বললেই চলে।

কাওরান বাজারের মাছের আড়তদার জামিল হোসেন জানান, বাংলাদেশে এখন কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ চাষের শুরু থেকেই ব্যবহার করা হয় কিটনাশক ওষুধ। মাছ বাজারজাত করার উপযুক্ত হলেই তা ধরে মাছকে তরতাজা এবং পচনশীলতা থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হয় ফরমালিন।

বিক্রেতারা বলছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছ, শাকসবজি এবং ফল সতেজ রাখতে বিকল্প কোন ওষুধ পাওয়া গেলে আমরা বিষাক্ত কেমিক্যাল ও কৃত্রিম হরমোন ব্যবহার করবো না। অন্যদিকে ক্রেতারা জানান আমরা খাব না।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষাক্ত কেমিক্যাল (ফরমালিন) দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জিম্মি করে বিষাক্ত খাবার খেতে বাধ্য করছে। ফরমালিন মহামারি আকার ধারণ করে ২০০৬ সালে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে মৌসুমি ফল, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুতে ফরমালিন প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনী।

ঢাকায় অনুপ্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেগুলিতে চেকপোস্ট বসিয়ে আটক করা হয় ফরমালিনযুক্ত ফল, মাছ, সবজিসহ নিত্য দিনের ভোগ্যপণ্য। যৌথবাহিনীর এ অভিযানেই ফরমালিনের ক্ষতি সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।

ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় নিম্নমানের ফরমালিনের মূল্য কেজি প্রতি চার হাজার টাকা, আর ভালো মানের দাম আট হাজার টাকা।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পরিচালক ড. জহুরুল হক বলেন, মাছ এবং ফল ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে গবেষণা পরিষদ তাদের বিনামূল্যে পচনশীলতা রোধের প্রিজারভেটিভ ওষুধ দেয়া হবে।

সুত্র: সোনালী সংবাদ

এসবি/ আরএ

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শেখ হাসিনার ৬ প্রস্তাব

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা এবং সেখান থেকে তাদের বিতাড়িত করার যে প্রক্রিয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *