নভেম্বর ২০, ২০১৭ ১:৩০ অপরাহ্ণ

Home / slide / বন্ধ হয়নি ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো পাননি ত্রাণ

বন্ধ হয়নি ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো পাননি ত্রাণ

এমএম মামুন, মোহনপুর : ছয়দিনেও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার শিবনদীর বেড়ী বাঁধ ভাঙন বন্ধ করতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার দুইটা পর্যন্ত ভাঙন স্থানে বস্তা ফেলা বন্ধের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

দুইদিনের বৃষ্টি ও আকাশ খারাপ থাকায় এবং বাঁধ বন্ধ না হওয়ায় বন্যার পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের এখন পর্যন্ত ত্রাণ ও সাহায্য করা হয়নি। মোহনপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিপুল কুমার মালাকার জানিয়েছেন, দ্রুত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৯শ’ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধুরইল, ঘাসিগ্রাম, রায়ঘাটি ও কেশরহাট পৌরসভার। নতুন করে ফসল, পানবরজ, পুকুর বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। ছয়দিন অতিবাহিত হলেও বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ত্রাণ ও সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

মোহনপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। দিন দিন বন্যার বৃদ্ধি হওয়ায় চলছি মৌসুমের ফসলগুলো তলিয়ে যাওয়ায় কারণে বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে রয়েছেন। এলাকারবাসি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের দাবি জানিয়েছে।

উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানিতে আমাদের সবকিছু শেষ করেছে। বর্তমানে সংসারের খরচ অন্যাদিকে ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার খরচ নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে রয়েছি।

বাঁধ ভাঙার প্রথমদিন থেকেই স্থানীয়দের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলা ও জনৈক বিশ্বানাথ হালদার নামের ব্যক্তি সুইস গেট বন্ধ বিল মাইল বিলে মাছ চাষ করার জন্য এই অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ছয়দিনের প্রবল স্রোতের তোড়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ধুরইল, ঘাসিগ্রাম, রায়ঘাটি ইউনিয়ন ও কেশরহাট পৌরসভা, জাহানাবাদ, মৌগাছি ও বাকশিমইল ইউনিয়নের নতুন এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

বর্তমানে ভীমনগর নামক স্থানের বাঁধ দিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন ভাঙা স্থান দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মোহনপুরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। প্রতিনিয়ত রাজশাহী জেলা কৃষি অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মমর্তারাসহ মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বন্যায় প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন জানান, শুক্রবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত ৩ হাজার ২শ’ ৪৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে রোপা-আমন, রোপা-আঊশ, পটল, পানবরজ, করলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজির খেত রয়েছে।

মোহনপুর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচদিনে বন্যার পানিতে ধুরইল, ঘাসিগ্রাম ও মৌগাছি ইউনিয়নের ২৩টি পুকুর প্লাবিত হয়েছে। শিবনদীর বেড়ী বাঁধ ভাঙার পর উপজেলা প্রশাসন,ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ পাউবোকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, বাঁধ মেরামতের জন্য বস্তা ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। শনিবারের মধ্যে বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন।

এসবি/এমই

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

ছেলে ও মাকে জবাই করে হত্যা

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের দাস্তানাবাদে ছেলে ও মাকে জবাই করে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত আলম সরদার। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *