নভেম্বর ১৮, ২০১৭ ৬:০৬ অপরাহ্ণ

Home / বর্ণবাণ / ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার নামে অত্যাচার কবে বন্ধ হবে । আহমদ রফিক
আহমদ রফিক

ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার নামে অত্যাচার কবে বন্ধ হবে । আহমদ রফিক

‘বেসরকারি সাহায্য সংস্থা’এত বড় শব্দটির বদলে ‘এনজিও’। এই ছোট্ট, সংক্ষিপ্ত শব্দটিই বরাবর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সহজ উচ্চারণের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক টান। যেমন—একই রকম আরেকটি উদাহরণ ‘বিএনপি’। এসব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা এককালের রাজভাষা ইংরেজির কাছে পরাজিত। আজকে আলোচনার বিষয় ভাষাগত বৈষম্যের বিচারব্যাখ্যা নয়, তবু এনজিও শব্দটির এমনই মাহাত্ম্য যে হঠাৎ করেই শব্দটি নিয়ে কিছু কথা আপেস-আপ এসে গেল।
এনজিও মাহাত্ম্যের কথা বলছি এ কারণে যে এ ব্যবস্থাটি দীর্ঘ সময় থেকে বাংলাদেশের সর্বত্র বিশাল বেড়াজাল বিস্তার করে রেখেছে। এর প্রভাব সমাজজীবনে, শাসনব্যবস্থায় এত গভীর যে বিষয়টির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে একসময় অনেক লেখালেখি হয়েছে, সমালোচনাও কম ছিল না। কারণ আর কিছুই নয়, যতটা এর ইতিবাচক ভূমিকা, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি।
গ্রামের দরিদ্র পরিবারে, বিশেষ করে গরিব বিধবাদের সাহায্যের জন্য (সাহায্য শব্দটি সঠিক নয়, ছোটখাটো ঋণ দেওয়াই এদের মূল প্রকল্প) ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার যে তত্ত্বটি সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো তৈরি করে, তারই মাছধরা বেড়াজাল বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের আনুকূল্যে বিরাট সাম্রাজ্য তৈরি করে ফেলেছে। এ বেড়াজাল যতটা গ্রামীণ দুস্থদের ঋণ সহায়তা দেওয়ার, তার চেয়ে অনেক বেশি সুদে-আসলে লাভের অঙ্ক বাড়িয়ে তোলার।
কেন যে এ ব্যবস্থাকে দেশের অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানীরা ‘সহায়তা’ নামে চিহ্নিত করেন, পূর্বাপর পরিণাম বিবেচনায় তা ধোপে টেকে না। কারণ কিছু ব্যতিক্রম বাদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের জন্য এ সহায়তা তাদের গলায় অর্থের ফাঁস হয়ে দেখা দেয়। কখনো সুদের টাকা, কখনো মূল ঋণের টাকা পরিশোধ সম্ভব হয়ে ওঠে না। তখন ঘরবাড়ি বা কিছু অস্থাবর সম্পদ বেহাত।
এ ঋণজাল কুখ্যাত মহাজনী ব্যবসার চেয়ে কম কুটিল, কম জটিল নয়। নয় কম সর্বনাশা। অবশ্য এ ঋণ প্রকল্প তাদেরই পরিভাষায় ‘সামাজিক ব্যবসা’ নামে পরিচিত লাভ করেছে। তারা হয়তো ভেবে দেখেনি যে দুই শব্দের কথাটি তাদের শোষণ চরিত্রেরই প্রকাশ ঘটিয়েছে। সবাই জানি ব্যবসা মানেই মুনাফা। সে মুনাফা ক্বচিৎ সহজ, সরল, সাদামাটা; অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাপক লাভের কারবার।
লাভের কারবার বা মুনাফাবাজি যদি না-ই হবে, তাহলে কি এত মাছশিকারি এতে জড়িয়ে পড়ে? সংগত কারণে দিনে দিনে এর সংখ্যা বৃদ্ধি। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সমৃদ্ধি বিত্তবৈভব তৈরি, জ্যামিতিক হারে সেসবের বৃদ্ধিই উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তোলে। বাংলাদেশে এদের অবিশ্বাস্য সংখ্যা এই সামাজিক ব্যবসার মহিমা প্রকাশ করে চলেছে। একের উদাহরণ দেখে অন্য ভাগ্যান্বেষী সেখানে নাম লেখায়। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিহাস, একদা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট নেতা বা কর্মী এই লাভের কারবারে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে দ্বিধা করেনি। মুনাফা, বিত্ত বলে কথা। আদর্শ সেখানে চুলোয় যাক।
একসময়কার সমাজতন্ত্রী রাজনীতিকদের কাউকে কাউকে এনজিও ব্যবসার তীব্র সমালোচনা করতে শুনেছি, তাদের এ বিষয়ে লিখতেও দেখেছি। কারণ তাদের রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণের মর্মার্থ ছিল, এসব সামান্য ঋণ সহায়তা বিত্তহীনদের শ্রেণিচেতনা, শ্রেণিসংগ্রামের ইচ্ছে নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে সমাজে শ্রেণিসংগ্রামের সম্ভাবনা পিছিয়ে পড়ছে। এসব অভিযোগ একেবারে ভুল ছিল না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগ্রামী চেতনার নির্বাসন তেমন ইঙ্গিতই দেয়। এখন অবশ্য ওই গোত্রের রাজনীতিকদের এ সম্পর্কে বড় একটা সমালোচনায় মুখর হতে দেখা যায় না।
দুই.
এনজিওদের ঋণদান, সুদ আদায়ের নির্মমতা, সুদের উচ্চহার এবং এর জটিলতা নিয়ে একসময় অনেক অভিযোগ উঠেছিল। সংবাদপত্রে সেসব ঘটনা প্রকাশও পেয়েছিল। অসহায় কিছু ঋণগ্রহীতা নারী-পুরুষের সুদ বা ঋণ শোধে অক্ষমতার কারণে আত্মহত্যার ঘটনাও সংবাদপত্রে ছাপা হয়। সেসব এখন বিকৃত ঘটনা, যদিও সে সময় অনেক সমালোচিত। এনজিওর প্রতাপ ও ক্ষমতা তাতে কমেনি। ঋণ গ্রহণের হারও কমেনি। এমনই দুস্থ অবস্থা গ্রামের প্রান্তিকসীমার মানুষের। বেলতলায় তাদের বারবারই যেতে হয় জীবনযাত্রার তাড়নায়।
একালের এনজিওদের ব্যাপক তৎপরতা, উচ্চ সুদের হার এবং সুদ বা ঋণ আদায়ের নির্মমতা—এই তিন বিষয় নিয়ে লিখতে গিয়ে আজ বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে কবি ও কর্মীর কৃষি ব্যাংক স্থাপন এবং সহজ-সরল সুদে ঋণদান ও অনাদায়ের ইতিহাস তুলনায় এসে গেল। বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। সেই কবে জমিদারি দেখাশোনা উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ-পতিসরে এসে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে তাদের মহাজনদের কবল থেকে রক্ষা করতে ১৯০৫ সালে পতিসরে ‘কালিগ্রাম কৃষি ব্যাংক’স্থাপন করেছিলেন।
ব্যাংক ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে দ্রুতই। কারণ সুদের হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। সুদ আদায়ে কোনো জবরদস্তি ছিল না। আর ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কিছু বন্ধক রাখতে হতো না। শেষোক্ত সুবিধাটির জন্য একালে পশ্চিমা দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের এত প্রশংসা। অন্যান্যের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু এদের ক্ষেত্রে সুদের হার যেমন উচ্চ, সুদ আদায়ে কঠোরতা অমানবিক পর্যায়ের। সংবাদপত্রে প্রকাশিত বহু ঘটনায় তেমন প্রমাণ মেলে।
এত সব সত্ত্বেও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্র উল্লিখিত পরিস্থিতি মেনে নিয়েছে। তাদের কোনো অভিযোগ নেই এসব ব্যাপারে। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও এ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে। কিছুকাল আগে কোনো কোনো বাম দলের ‘এনজিও’-বৃত্তিতে বরং সংশ্লিষ্টতাও দেখা গেছে। পাঠক ভেবে দেখতে পারেন, এনজিও নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেন এত উদাসীনতা। কেন বাংলাদেশে এদের এত ব্যাপক তৎপরতা? সেটা কি সমাজবদলের রাজনীতিকে পেছনে হঠানোর জন্য? এবং তা দুস্থ মুখে কয়েক ফোঁটা উপকরণ তুলে দিয়ে?

কোনো কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ডে হয়তো ক্ষেত্র বিশেষে দুস্থ মানুষের বিশেষ করে সমাজের অসহায় দুস্থ নারীর আর্থিক সহায়তা হয়েছে, জীবনে পুনর্বাসনও ঘটেছে, সেসব বিরল ঘটনা। কিংবা এদের সংখ্যা কিছুটা লক্ষণীয় হলেও নীতিগত বিচারে, আর্থ-সামাজিক বিচারে সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন বা অর্থনৈতিক দিক থেকে সমাজ বদলের পথ এনজিও ব্যবস্থা নয়। এ ক্ষেত্রে দরকার সমাজের আমূল পরিবর্তন। এবং তা উচ্চবর্গীয় থেকে নিম্নবর্গীয় পর্যন্ত

তিন.
এত দিন পর আবার এনজিওর ‘সামাজিক ব্যবসা’নিয়ে কিছু লেখার কারণ আর কিছু নয়, দুই কলামে এ ব্যাপারে প্রকাশিত ছোট্ট একটি লেখা : শিরোনাম ‘এনজিওর ঋণ আদায়ে নির্মমতা’। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, এনজিওর ঋণগ্রহীতা, গাজীপুরের এক পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এনজিওকর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার। সংবাদপত্রের ভাষ্যে বলা হয়েছে : ‘কিস্তির টাকা না পেয়ে এনজিওকর্মীরা (ঋণগ্রহীতা) বাড়িতে গিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে তাঁকে। তাঁর স্বামী ও ছেলেকেও পেটানো হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে’ (কালের কণ্ঠ, ২-৮-২০১৭)।
এ সম্পর্কে বিশদ বিবরণে আরো জানা যাচ্ছে যে ‘বসতঘর মেরামতের জন্য ওই গ্রহীতা ২০১৬ সালে ৪৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। (ঋণ) পরিশোধের সাপ্তাহিক কিস্তি ধার্য করা হয় এক হাজার ২০০ টাকা। তিনি ১৯টি কিস্তি পরিশোধ করেছেন। গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে এনজিওটির মাঠকর্মী বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি তিনি (ঋণগ্রহীতা) শাখা ব্যবস্থাপককে জানিয়ে বিচার চান।
‘কিন্তু মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা স্থগিত রাখেন। এ পরিস্থিতিতে এনজিওকর্মীরা (ঋণগ্রহীতার) বাড়িতে হানা দেন। বসতঘর থেকে আসবাব নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন, স্বামী ও ছেলেদের মারধর করেন।’ এর নাম ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা! বিত্তহীন মানুষের দারিদ্র্য মোচনের মহৎ কর্মে নিয়োজিত এনজিও তৎপরতা! যা নিয়ে পশ্চিমা দেশে নিয়ত ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ্রঋণ সহায়তাকে গরিবি হটানোর আদর্শ মডেল বিবেচনা করে সংস্থাবিশেষকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের গর্ব।
শুধু গর্বেই শেষ নয়, এই মডেলকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ তৃতীয় বিশ্বের সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনা তো উল্লিখিত এই একটি ক্ষেত্রে নয় বা একটি এনজিও সংগঠনের ক্ষেত্রে নয়। গত কয়েক বছরের সংবাদপত্রের পাতা উল্টে দেখলে এমন বহু ঘটনার নজির মিলবে, যে কথা এর আগে বলা হয়েছে।
সুদের কিস্তি দিতে না পারার কারণে গরিব গ্রামীণ বেওয়া বা কোনো গফুর মিয়ার টিনের ঘরের চাল খুলে নেওয়া কিংবা গোয়াল থেকে গরু বা ছাগল জবরদস্তি করে নিয়ে চলে যাওয়া এদের দস্তুর। এই যে অমানবিক এনজিও অনাচার, এর প্রমাণ মেলে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে। একজন খুশী কবির হয়তো ব্যতিক্রম।
অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ঋণ সহায়তার নামে অনাচারী এনজিও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লেখা কম দেখা যায়, ইদানীং প্রায় দেখা যায় না বলা চলে। তেমনি এজন্য গরিব ঋণগ্রহীতার পক্ষে রাষ্ট্রযন্ত্রকেও বড় একটা তৎপর দেখা যায় না। পায় না তারা আইনি সহায়তা।
উচ্চ আদালত প্রায়ই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন অশিষ্টের বিরুদ্ধে দুর্বলকে রক্ষা করতে বা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে। তাঁরা এসব ঘটনায় অত্যাচারিতের পক্ষে এগিয়ে আসতে পারেন। অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেন। তাহলে অন্তত এনজিওদের বাড়াবাড়ি ও দরিদ্রপীড়ন কিছুটা কমতে পারে।
চার.
কিন্তু তাতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। এনজিও সহায়তার নামে বঞ্চিত ও শোষিত দুস্থ শ্রেণিকে সামান্য কিছু খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখার ভুল সামাজিক তৎপরতার অবসান ঘটবে না। শ্রমজীবীদের সামান্য কিছু খাইয়ে, ক্ষুধার আপাত নিবৃত্তি ঘটিয়ে ক্ষুধা সৃষ্টির অমানবিক ব্যবস্থা উচ্ছেদ বন্ধ রাখার যে পুঁজিবাদী সামাজিক কৌশল, এর বিরুদ্ধে দু-চার কথা কবি রবীন্দ্রনাথও একদা বলেছেন। প্রগতিবাদী লেখকরা তো বলেই থাকেন। কিন্তু তাতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে না।
একসময় এ দেশে মহাজনী ব্যবস্থার ছিল প্রবল দাপট। সমাজে এরা শোষক অত্যাচারী শ্রেণি হিসেবে জমিদার-জোতদারদের পাশাপাশি এমনকি ধনী গৃহস্থবাড়ির মালিকদের কাউকে কাউকে দেখা যেত গোপনে সুদের ব্যবসা করতে, দরিদ্র গ্রামীণ সদস্য-সদস্যাদের রক্ত শোষণ করতে। সে ব্যবস্থা একালে অনেকটাই কমে গেছে কিন্তু সমাজ থেকে পুরোপুরি লোপ পায়নি।
সে মহাজনী অত্যাচার ও শোষণ ব্যবস্থারই আরেক রূপ বলা যায়, আধুনিক নাম এনজিও ব্যবস্থা। এদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নামকাওয়াস্তে। বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী উৎস থেকে আসে এদের অর্থসাহায্য। আর গ্রামীণ ব্যাংককে তো এ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঋণ সহায়তা দিয়েছে সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি অর্থাৎ দারিদ্র্য মোচনের নামে।
এদের কোনো কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ডে হয়তো ক্ষেত্র বিশেষে দুস্থ মানুষের বিশেষ করে সমাজের অসহায় দুস্থ নারীর আর্থিক সহায়তা হয়েছে, জীবনে পুনর্বাসনও ঘটেছে, সেসব বিরল ঘটনা। কিংবা এদের সংখ্যা কিছুটা লক্ষণীয় হলেও নীতিগত বিচারে, আর্থ-সামাজিক বিচারে সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন বা অর্থনৈতিক দিক থেকে সমাজ বদলের পথ এনজিও ব্যবস্থা নয়। এ ক্ষেত্রে দরকার সমাজের আমূল পরিবর্তন। এবং তা উচ্চবর্গীয় থেকে নিম্নবর্গীয় পর্যন্ত।
তাই আমরা চাই ঘুমপাড়ানিয়া এনজিও ব্যবস্থার উচ্ছেদ। সেই সঙ্গে অনাচারী-অত্যাচারী এনজিওদের শাস্তি বিধান। সরকার কবে এদিক থেকে সচেতন হবে, ব্যবস্থা নেবে, সে অপেক্ষায় আছি।
আহমদ রফিক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী।

এসবি/এসএইচ

 

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের কেন শাস্তি হয় না?

বাংলাদেশে দুর্নীতির কথা বহুল আলোচিত। ঠিক কোন খাতে দুর্নীতি নেই সেটা বলা কঠিন বিষয়। এক্ষেত্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *