ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ ৮:০৯ অপরাহ্ণ

Home / slide / ড্রাইভার হেলপারদের উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা

ড্রাইভার হেলপারদের উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা

মিজান মাহী, দুর্গাপুর : দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেইনগেটের ভিতরে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। অভিযোগ উঠছে, গাড়ির বখাটে ড্রাইভার ও হেলপাররা প্রতিনিয়তই নেশাগ্রস্ত হয়ে মাতলামি করে উত্ত্যক্ত করে আসছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে অবাধে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড গড়ে উঠায় রাত লাগলেই বসে গাঁজা চোলাইমদ ফেনসিডিলসহ মাদকের জমজমাট আসর। সেখানে ড্রাইভার ও হেলপারদের বিরুদ্ধে নারীদের নিয়ে দেহব্যবসা করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে মদ্যপান পান করে মাইক্রোবাসের ড্রাইভার আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মাতলামি করছে। এমন সময় হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশ করছিলো মেহেদী হাসান ঝিনুক নামের এক কিশোর ছেলে। এসময় ড্রাইভার বাচ্চু নেশায় মগ্ন হয়ে ঝিনুকের দিকে তেড়ে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। পরে মাতাল বাচ্চুকে তার হেলপাররা ধরে নিয়ে মাইক্রোর ভিতরে শুয়ে দিতে দেখা গেছে।

শুধু ওই ঘটনায় শেষ নয়, প্রতিদিন দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে মাইক্রোগাড়ি পার্কিং করা ড্রাইভার ও হেলপারদের উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছেন অসংখ্য নারী, পথচারিরা এবং রোগী ও স্বজনরা। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৫-২০টি মাইক্রোবাস নিয়ে দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে গড়ে উঠছে একটি স্ট্যান্ড। ওই স্ট্যান্ডকে ঘিরে ড্রাইভার ও হেলপাররা রাত লাগলেই শুরু করে দেন মাদকের জমজমাট আসর। মাদকসেবন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরেই তাদের মাতলামিতে দিনরাত অতিষ্ট হয়ে পড়েন রোগী ও রোগীর স্বজনরা। গত কয়েকবছর ধরে প্রভাবশালীর দাপটে দুর্গাপুরের মাইক্রোবাস মালিকরা বাজারে মাইক্রো পাকিং করার জায়গা না থাকার অজুহাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে স্ট্যান্ডের কাজ করে আসছেন। অনেক সময় প্রশাসনের চাপে পার্কিং যায়গা দখল মুক্ত করলেও কিছু দিন হতে না হতেই প্রভাবশালীদের দাপটে আবারও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরেই মাইক্রোবাস পাকিং শুরু হয়। ড্রাইভার ও হেলপাররা দিন-রাত হাসপাতাল গেট সংলগ্ন অপেক্ষা করে বিড়ি-সিগারেট ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজছাত্রী জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন তিনি। ভ্যানগাড়ি থেকে নেমেই স্বাস্থকেন্দ্রের মেইন গেটে প্রবেশ করতেই এক বখাটে হেলপারের উত্ত্যক্তের শিকার হন। তাতেই ক্ষান্ত হননি ও বখাটে হেলপার। গেট থেকে ডাক্তার পর্যন্ত পৌছাতেও পিছু নেন তিনি বখাটে হেলপার। সেখান থেকে বের হতেই তার নাম ঠিকানা জানতে চাইলে বখাটে হেলপারের সাথে তার বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষিকা জানান, হাসপাতালের পরিবেশ এতই নোংরা হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতেই ড্রাইভার-হেলপারদের বাজে বাজে কথা ও তাদের নোংরা দৃষ্টি ভঙ্গির কবলে পড়তে হয়। যা খুবই খারাপ লাগে। দ্রুতই এর অপসারণে প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

দুর্গাপুর স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমুল আলম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা মাসিক মিটিংয়ে কথা হয়েছে। খুব দ্রুতই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর থেকে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড অপসারণ করা হবে। এটা বন্ধে কয়েকবার উদ্য্যেগ নিলেও প্রভাবশালীদের চাপে তা সম্ভব হয়নি। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে ড্রাইভার ও হেলপারদের মাদকসেবনের কথা স্বীকার করে বলেন, এটা খুবই ন্যাক্কারজনক কাজ। তিনি এদের দ্রুত অপসারণে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, ওই বিষয় নিয়ে এবারের উপজেলা মাসিক মিটিংয়ে কথা হয়েছে। খুব দ্রুতই দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর থেকে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড অপসারণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট’ এই প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *