ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:২১ অপরাহ্ণ

Home / slide / ‘দুর্ণীতিগ্রস্থ মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’
Exif_JPEG_420

‘দুর্ণীতিগ্রস্থ মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিকরা সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও নায্য মজুরী পাই না। শ্রমিকদের পরিশ্রমে আজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল। বাংলাদেশের মালিক পক্ষ তাদের কান্না শুনতে পান না কারণ তারা দুর্ণীতিগ্রস্থ। এইসব দুর্ণীতিগ্রস্থ মালিকদের বিরুদ্ধে সকল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা উদ্যোগে মহান মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্যকালে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মহান মে দিবসে ৮০ ভাগ শ্রমিক কাজ করছে। আজ তারা না কাজ করলে খেতে পাবেনা সাথে আজকের বেতন কেটে নিবে মালিকরা। ৪০ ভাগ শ্রমিকের নিয়োগপত্র নেই, শিশুশ্রম বন্ধ হয় না, নায্য বেতন পাই না নারীরা। বছরের পর বছর মালিকরা শোষন করছে শ্রমিকদের।

লিয়াকত আলী লিকু অভিযোগ করে বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। তাদের কর্মক্ষেত্র নিরাপদ নয়। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ কর্মক্ষেত্রে মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন বায়লার বিস্ফোরণে, শিপইয়ার্ডে শ্রমিকরা মারা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না, জাতীয় মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হয় নাই। আজও শ্রমজীবী মানুষের যে আইন, কর্মক্ষেত্র সেটা সুরক্ষিত না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সকল শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাড. ফেরদৌস জামিল টুটুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা নিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের দাবি মানছে না। বর্তমান সরকার শ্রমিক বান্ধব না।’

তিনি বলেন, ‘আজ রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা বন্ধ, টেক্সটাইল মিল বন্ধ। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা আজ খুলে দিচ্ছে না। অবিলম্বে রাজশাহীর সকল বন্ধ কারখানা খুলে না দিলে রাজশাহীর জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করা হবে।’

দেবাশিষ প্রমানিক দেবু বলেন, ‘রাজশাহীর কিছু এমপির আক্রোশে শ্রমিক ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ। রাজশাহী জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম একজন। হাইকোর্টের রায় হয়েছে তার পক্ষে। রাজশাহীর এক ষড়যন্ত্রেও কারণে তিনি এখনও রাজশাহী চিনিকলে ঢুকতে পারেননি। তাই অবিলম্বে জহুরুল ইসলামের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে না হলে কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।’

Exif_JPEG_420
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক অসিত পালের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, নগর সম্পাদক মণ্ডলির সদস্য অ্যাড. এন্তাজুল হক বাবু, আবদুর রাজ্জাক, শ্রমিক ফেডারেনের রাজশাহী জেলা সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান, শ্রমিকনেতা সিরাজুর রহমান খান, আবুল কালাম আজাদ, জহুরুল ইসলাম, নাজমুল করিম অপু, সিতানাথ বনিক, আকবর আলী লালু, যুবনেতা মনিরুজ্জামার মনির প্রমুখ। 

সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য মিছিল রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

কুয়াশায় দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘনকুয়াশার কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *