ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

Home / slide / রামেকের হিমঘরে এসি সরফরাজের লাশ
রামেকের হিমঘরে এসি সরফরাজের লাশ
রামেকের হিমঘরে এসি সরফরাজের লাশ

রামেকের হিমঘরে এসি সরফরাজের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অফিসার্স মেসে নিহত সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির আহমেদ সরফরাজের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেস থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ আগে একটি প্রাইভেটকারে চড়ে সরফরাজের বাবা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি ওবায়দুল্লাহ হক ও মা ফাতেমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা মেস থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল্লাহ হক বলেন, ‘সরফরাজের আত্মহত্যার কোনো কারণ নেই।’

তাকে খুন করা হয়েছে কী না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা বলতে পারবো না। ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি বলা যাবে।’

এদিকে লাশ নিয়ে যাওয়ার পর আরএমপির কমিশনার শফিকুল ইসলামও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এসি সরফরাজ মাঝে মাঝে এই মেসে এসে বিশ্রাম নিতেন। শুক্রবার রাতে তিনি অভিযান শেষ করে তিনটার দিকে মেসে যান। এরপর জানালার গ্রীলের সঙ্গে গলায় রশিয়ে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।’

এদিকে সকাল থেকে পুলিশের ওই অফিসার্স মেসে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফলে কেউ তার লাশ দেখতে পাননি। তবে মেসের ভেতরে ঢুকেছিলেন নিকটাত্বীয়দের কেউ কেউ। তাদের মধ্যে থেকে একটি সূত্র দাবি করেছে, এসি সরফরাজের লাশ জানালার গ্রীলের সঙ্গে ফাঁস দেয়া থাকলেও তার দেহের প্রায় অংশ ছিল সোফায়। লাশের বুকের কাছে আঘাত ছিল বলেও দাবি করেছে সূত্রটি। এ কারণে মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অফিসার্স মেস থেকে লাশ বের করার পর এসি সরফরাজের একজন চাচাতো বোন দাবি করেন, তারা সরফরাজের আত্মহত্যার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। শুক্রবারও তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেছেন। এসি সরফরাজের দাম্পত্য কলহও ছিল না।

এসি সরফরাজ আরএমপির রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকালে অফিসার্স মেসের ১০৯ নম্বর কক্ষে তার লাশ পাওয়া যায়। তিন বছরের কন্যা সন্তানের জনক সরফরাজ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নগরীর উপশহর এলাকায় থাকতেন। তার বাবা ওবায়দুল্লাহ হক আরএমপির কমিশনার ছিলেন। ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অবসরে যান। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুরে।

সরফরাজের মা ফাতেমা বেগম রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ছোট ভাই মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত। আর এসি সরফরাজ ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুরে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরফরাজের লাশ পাওয়া গেলেও পরিবারের অনুরোধে তারা না আসা পর্যন্ত লাশ নামানো হয়নি। বিকেলে আকাশপথে পরিবারের স্বজনরা ঢাকা থেকে রাজশাহী আসেন। এরপর তারা অফিসার্স মেসে গেলে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে সরফরাজের লাশ নামানো হয়।

অফিসার্স মেসের ভেতরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা তদন্ত করেন। পরে সন্ধ্যায় লাশ বের করে রামেকের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিফের উপস্থিতিতে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বলে জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম।

তিনি জানান, লাশের ময়নাতদন্ত করার সম্ভাবনা আছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় রাজপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও করা হবে। তবে বাদী কে হবে তা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

লাশের ময়নাতদন্তের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে কী না জানতে চাইলে ইফতেখায়ের আলম বলেন, এ বিষয়টিও এখনও ঠিক হয়নি। বিষয়টি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট’ এই প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *