অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

Home / slide / এসি সরফরাজের স্বজনরা ঘটনাস্থলে
এসি সরফরাজের স্বজনরা ঘটনাস্থলে
এসি সরফরাজের স্বজনরা ঘটনাস্থলে

এসি সরফরাজের স্বজনরা ঘটনাস্থলে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অফিসার্স মেসে নিহত সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির আহমেদ সরফরাজের মা ও বাবাসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তারা সেখানে যান। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এসি সরফরাজের লাশ ঘটনাস্থলেই ছিল। তবে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর লাশ জানালার গ্রিল থেকে নামানো হয়েছে। এখন লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম। তবে কতক্ষণ পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া হবে তা জানাননি মুখপাত্র।

এর আগে সকালে অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় নাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় এসি সরফরাজের লাশ পাওয়া যায়। যে কক্ষে লাশটি ছিল সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসি সরফরাজ আরএমপির রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্তও তিনি অভিযানে ছিলেন। পরে ‘বিশ্রাম’ নিতে যান ওই অফিসার্স মেসে। এরপরই সকালে তার লাশ পাওয়া যায়।

তিন বছরের কন্যা সন্তানের জনক সরফরাজ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নগরীর উপশহর এলাকায় থাকতেন। তার বাবা ওবায়দুল্লাহ হক আরএমপির কমিশনার ছিলেন। ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অবসরে যান। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুরে।

সরফরাজের মা ফাতেমা বেগম রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ছোট ভাই মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত। আর এসি সরফরাজ ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাশ পাওয়া গেলেও পরিবারের অনুরোধে তারা না আসা পর্যন্ত লাশ নামানো হয়নি। বিকেলে আকাশপথে পরিবারের স্বজনরা রাজশাহী আসেন। এরপর তারা অফিসার্স মেসে গেলে নিহত সরফরাজের লাশ নামানো হয়।

অফিসার্স মেসের ভেতরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা তদন্ত করেন। সেখানে আরএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আছেন। ভেতরে স্বজনদের ঢুকতে দেওয়া হলেও গণমাধ্যমকর্মীতের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

বিকেল ৫টার দিকে মেসের ভেতর থেকে বের হন পিবিআই’র রাজশাহীর ইনচার্জ তৌহিদুল আরিফ ও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে এসপি মোয়াজ্জেম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে পিবিআই কর্মকর্তা তৌহিদুল আরিফ বলেন, ‘আত্মহত্যার মতোই মনে হচ্ছে।’

এর আগে দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনিও বের হয়ে জানান, এসি সরফরাজ আত্মহত্যা করেছেন বলে তার কাছেও মনে হয়েছে। আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলমও একই কথা বলেছেন।

তবে এ বিষয়ে নিহত এসি সরফরাজের কোনো নিকাটাত্মীয়র সঙ্গে এখনও কথা বলা যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাকাবের প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড আইটি সিকিউরিটি বিষয়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *