ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৮:০১ অপরাহ্ণ

Home / slide / আনন্দে পরিপূর্ণ হোক বাঙালির জীবন । নুরুজ্জামান

আনন্দে পরিপূর্ণ হোক বাঙালির জীবন । নুরুজ্জামান

পুরনোর যাওয়ার পথ ধরেই শুরু হয় নতুনের আগমন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলে যাচ্ছে বাংলা ১৪২৩ সাল। অনেক আশা আর প্রাপ্তির প্রত্যাশায় শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪২৪। চৈত্রের শেষ দিয়ে বৈশাখের শুরু। বৈশাখের প্রথম দিনটি হলো বাংলা নববর্ষ। এই নববর্ষ বাঙালি জাতির সত্বার সাথে অবিচ্ছেদ্য একটি উৎসবের নাম। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যে দেশে বাঙালি আছে সে দেশেই পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। তাই বাঙালি জাতি এক বুক আশা নিয়ে একটু একটু করে হাজার প্রতিক্ষার প্রহর গুণে এ দিনটির জন্য।

চৈত্রের প্রথম প্রহর থেকেই বৈশাখের জন্য শুরু হয় প্রতিক্ষা। বর্তমানে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ একটি জাতীয় উৎসব। বর্তমানে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সৌদিআরব ছাড়াও বিশ্বের অসংখ্য দেশে বৈশাখের প্রথম প্রহরটি নতুন বছর হিসাবে জাতীয় উৎসবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মোঘল সম্রাট জামাল উদ্দীন আকবরের  আমলে শুরু হয় প্রথম বৈশাখ উদযাপনের  প্রথাটি। সে সময় শুল্ক বা রাজস্ব আদায়ের  সুবিধার্থে  হিজরী সনের  ক্যালেন্ডারের সাথে বাংলা ক্যালেন্ডার পুনর্গঠন করা হয়। হিজরী সনের ক্যালেন্ডার চন্দ্রসম্বন্দীয় বলে বছর শেষে কৃষকের পক্ষে কর প্রদানের  সময় অত্যান্ত অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগতে হতো। তাই সম্রাট  আকবরের শাসনামলেই জৌতিষী “আমির ফতেউল্লআহসিরাজী সৌরসন ও হিজরী সন গবেষণা করে দেখলেন সহজ সরল কৃষকের পক্ষে  বছরের এ জটিল হিসাব মনে রাখা ও সে আনুযায়ী  বছরান্তে কর প্রদান অত্যন্ত  কষ্টদায়ক। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ফসলি সন নামে নতুন ক্যালেন্ডারের সূচনা করেন।

উৎসব মানেই আনন্দ। ভালোবাসা-ভালোলাগা। তাই পহেলা বৈশাখের দিনটিতে মানুষ হয়ে উঠে আনন্দমুখর। সবারই মনেপ্রাণে একই ধ্বনি হয়-“মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক ক্ষরা….এসো হে বৈশাখ এসো এসো। আনন্দে আর আনন্দে পরিপূর্ণ হয় বাঙালির  জীবন।

যা পরবর্তীতে ৯৬৩ হিজরীতে বঙ্গাব্দ বা বাংলা  বছর হিসেবে  ক্যালেন্ডার সূচনা হয়। সে সময় পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর জয়যুক্ত হন এবং কৃষকরা যাতে সহজেই খাজনা প্রদান করতে পারে তা প্রতিষ্ঠা  করে চৈত্র মাসের শেষ দিনটি বছরের শেষ দিন এবং বৈশাখের প্রথম দিনই হবে বছর শুরুর প্রথম দিন। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখই হবে নববর্ষ। সেই থেকে আজঅব্দি পহেলা বৈশাখ পালিত হচ্ছে অত্যন্ত সগৌরবে। এরপর ১৯৫৬ সাল থেকে ছায়ানট তাদের পহেলা বৈশাখ পালন শুরু করে রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে রমনা পার্কে। ঢাকার রমনার বটমূলে রবীন্দ্রনাথের “এসো হে বৈশাখ এসো এসো’’ গানটি দিয়ে স্বাগত জানানো হয় পহেলা বৈশাখকে।

এখন বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে আর্ট ইন্সটিটিউট নতুন রঙ্গের সমারোহে বৈশাখ উদযাপনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা এনেছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ রঙ তুলি ও মুখোশের আনন্দ মেলায়। ১৯৭২ এর পর থেকে জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এ দিনটি বাঙালি জাতির কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  চারুকলা  বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ দিয়ে উদযাপন করে এ বিশেষ দিনটি অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ। আর তখন থেকে শুরু হয় পান্তা ইলিশের আয়োজন। একই সাথে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মানুষ ওইদিন মাটির তৈরি সানকি (থালা) সহ বিভিন্ন তৈজষপত্র ও  বাঁশ, বেত ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার  ছাড়াও  দেশীয়  নানা রঙের পোশাক কিনে থাকেন। তার আগে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আকবর-ই আমলের সময়েই শুরু হয় হালখাতা। ব্যবসায়ীরা মিষ্টিমুখ করিয়ে ক্রেতার সাথে তাদের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করেন। যার প্রচলন এখনও চালু রয়েছে আমাদের দেশে। তবে সময়-কাল-পাত্র ভেদে কিছু কিছু অঞ্চলে হালখাতার সময় পরিবর্তন হয়েছে ওই সমন্ত এলাকার উল্লেখ যোগ্য অর্থকারী ফসলের উপর নির্ভর করে।

এক কথায় পহেলা বৈশাখ আজ জাতীয় উৎসব। উৎসব মানেই আনন্দ। ভালোবাসা-ভালোলাগা। তাই পহেলা বৈশাখের দিনটিতে মানুষ হয়ে উঠে আনন্দমুখর। সবারই মনেপ্রাণে একই ধ্বনি হয়-“মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক ক্ষরা….এসো হে বৈশাখ এসো এসো। আনন্দে আর আনন্দে পরিপূর্ণ হয় বাঙালির  জীবন।

নুরুজ্জামান : সাংবাদিক।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই রাজশাহীতে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। রাজশাহী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *